জেমস ক্যামেরন পরিচালিত ‘টাইটানিক’ পার করে এল কুড়ি কুড়ি বছর। ১৯৯৭-এর এই ছবির পুনঃপ্রকাশ ঘটেছে ২০১৭-য়। আবার তরঙ্গ, আবার ঝঞ্ঝা। দু’দশক আগেকার এক ছবি নজর কেড়ে নিয়েছে বিশ্বসুদ্ধ মিডিয়ার। এই সুবাদে উঠে আসছে বহু অজানা গল্প। তার কিছু এই ছবিকে ঘিরে আর বাকিটা ১৯১১ সালে অতলান্তিকের বুকে ডুবে য়াওয়া সেই জাহাজটিকে নিয়ে। 

রিস থম্পসন, এখন। ছবি: রিসের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট

হিসেব বলছে, ‘টাইটানিক’-এর মোট আয় ছিল ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বিপুল আয়ের একটা বড় অংশ অবশ্যই পেয়েছিলেন অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীরা। লিওনার্দো ডি কাপ্রিও বা কেট উইনস্লেটের কেরিয়ারই তৈরি করে দেয় এই ছবি। কিন্তু ‘টাইটানিক’ ছিল নায়ক-নায়িকার ঊর্ধ্বে এক মহাযজ্ঞ। অসংখ্য অভিনেতা নেমে পড়েছিলেন সিলভার স্ক্রিনের অন্যতম সেরা ট্র্যাজেডিটার রূপায়ণে। প্রশ্ন জাগতেই পারে, জুনিয়র শিল্পীদের আয় কেমন ছিল এই ছবি থেকে? 

দ্য লিটল আইরিশ বয়। রিস থম্পসন ‘টাইটানিক’-এ। ছবি সৌজন্য: প্যারামাউন্ট পিকচার্স

আন্তর্জাতিক একাধিক সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি উঠে এসেছে রিস থম্পসন নামের এক যুবকের কথা। এই যুবক কুড়ি বছর আগে ‘টাইটানিক’-এ একটা খুব ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু সেদিনের সেই বালকটিকে ভুলতে পারেননি ‘টাইটানিক’-প্রেমীরা। ‘লিটল আইরিশ বয়’— এই-ই ছিল সেই চরিত্রের পরিচয়। সে, তার বোন ও মা ছিল ‘টাইটানিক’-এর কমদামি টিকিটের যাত্রী। জাহাজডুবির সময়ে মা বুঝতে পারে, লাইবোটে জায়গা পাওয়ার আশা তাদের নেই। তাই তাদের ঘুম পাড়িয়ে দেয় মা। অসামান্য বেদনার সেই মুহূর্ত। ছবির প্রধান ট্র্যাজেডি-কাঠামোকে পুষ্ট করেছিল এই ধরনের ট্রিভিয়া। 

সেই বেদনার মুহূর্ত। ছবি সৌজন্য: প্যারামাউন্ট পিকচার্স

আজ যুবক রিস স্মরণ করতে পারেন, সেই অভিনয়ের জন্য তিনি ৩০,০০০ মার্কিন ডলার পেয়েছিলেন। সেটা নিঃসন্দেহে বড় অঙ্কের টাকা। কিন্তু, তার পর থেকে ‘টাইটানিক’-এর সুবাদে আয় থেমে থাকেনি রিসের। ছবি মুক্তির পর থেকে আসতে থাকে চেক। অগণিত অপরিচিত মানুষ তার নামে টাকা পাঠাতে শুরু করেন। সেদিনের ওই ৫ বছরের শিশুটির অভিনয় ও অভিব্যক্তি এতটাই মন ছুঁয়েছিল দর্শকের যে, ২৫ বছর বয়সে এসেও তিনি চেক পেয়ে চলেছেন অজ্ঞাত-অপরিচিতদের কাছ থেকে। ১০০ থেকে ৩০০ মার্কিন ডলারের চেক তাঁর নামে আজও আসে প্রতি বছর। যার উৎস শতাধিক বছর আগে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজ।