ভাইরাসের নাম ‘হেপাটাইটিস’। আর এই ভাইরাসই নাকি এখন বিপুলভাবে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠেছে। গত ২৩ বছরে হেপাটাইটিস ভাইরাসের মৃত্যুর সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে চোখ কপালে ওঠেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’-র।  
‘হেপাটাইটিস’-এর ভাইরাল ইনফেকশন সরাসরি লিভারকে খারাপ করে। এই অসুখের প্রভাবে লিভার তো নষ্ট হয়ই, সেইসঙ্গে সারাজীবনের মতো পঙ্গুত্ব গ্রাস করতে পারে। শেষমেশ মৃত্যুও পর্যন্ত হয়। গত ২৩ বছরে হেপাটাইটিসের মৃত্যুর ঘটনা ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ‘হু’। 

মূলত ৫ ধরনের হেপাটাইটিস রয়েছে। এগুলি হল ‘হেপাটাইটিস’— ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’ এবং ‘ই’। ইনজেকশনের সিরিঞ্জ থেকে শুরু করে সূচ, ইনজেকশন, টুথব্রাশ এবং দাড়ি কাটার সরঞ্জাম থেকে হেপাটাইটিসের ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও, হেপাটাইটিসের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হল জল। 
‘হু’-র মতে ‘হেপাটাইটিস’— ‘এ’ এবং ‘ই’ সাধারণত ৬ মাসের বেশি  স্থায়ী হয় না। নিজে থেকেই এরা নিষ্ক্রিয় হয়। তবে, ৬ মাসের মধ্যেও মানুষের কাছে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে ‘হেপাটাইটিস’— ‘এ’ এবং ‘ই’। 

‘হেপাটাইটিস’— ‘বি’,যা আবার ‘এইচবিভি’ নামে পরিচিত অথবা‘হেপাটাইটিস’— ‘সি’,যা আবার ‘এইচসিভি’ নামেও পরিচিত— এই দুই ভাইরাস সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী। এই ‘বি’ এবং ‘সি’ জাতের ভাইরাস লিভারকে অকেজো করে লিভার ক্যানসারেরও জন্ম দেয়। এমনকী, ‘হেপাটাইটিস এ’ ও ‘হেপাটাইটিস ই’-কে জাগিয়ে তুলতে পারে। যাঁরা ‘হেপাটাইটিস বি’-তে আক্রান্ত, তাঁদেরই একমাত্র ‘হেপাটাইটিস ডি’ হতে পারে। 


‘হু’-এর তথ্য-সহ দেশের চিকিৎসকমহলের দাবি, ‘হেপাটাইটিস’ প্রতিরোধে সরকার কোনও চিকিৎসা ব্যবস্থাই ঠিক করে গড়ে তোলেনি। এমনকী, ‘হেপাটাইটিস’ প্রতিরোধে গবেষণার কাজও নামমাত্র হচ্ছে। অথচ, এই রোগে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা দিন দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। 
পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে ‘হেপাটাইটিস সি’-তে আক্রান্ত অন্তত ১২ লক্ষ মানুষ। অথচ, এঁরা জানেন না যে তাঁরা শরীরে মারণ ভাইরাস বয়ে নিয়ে চলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক অসুবিধায় ভুগছেন কিন্তু, দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষই জানেন না তাঁদের শরীরে ‘হেপাটাইটিস বি এবং সি’ বাসা বেঁধেছে। ‘হু’-এর দাবি ২০১৬ সালেই ভারতে ‘হেপাটাইটিস বি’-এ নতুন করে ১০ থেকে ৩০ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হবেন। ভারতীয় চিকিৎসকদের চিন্তা আরও বাড়িয়েছে ‘হেপাটাইটিস বি’-এর ক্রমবৃদ্ধি। কারণ, ‘হেপাটাইটিস বি’-এর চিকিৎসা এখনও আমাদের দেশে অধরা। 


‘হেপাটাইটিস’-এর এই মারণ আতঙ্কের মাঝে চিকিৎসকদের পরামর্শ—  দাড়ি কাটার সরঞ্জাম শেয়ার না করাই উচিত। অন্যের ব্যবহৃত চিরুনি,লিপস্টিক, আইলাইনার, কানের দুল না ব্যবহার করাই উচিত। নিরাপদ যৌনজীবনেরও পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। শিশুদের ১ বছর বয়স থেকেই হেপাটাইটিসের প্রতিষেধক বাধ্যতামূলক করতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

শরীরের ১৫টি সাধারণ সমস্যা এড়িয়ে গেলে বিপদের ভয়, বলছেন চিকিৎসকরা

খাওয়ার পরে ঠাণ্ডা জল খাচ্ছেন? জানেন কী ঘটে যাচ্ছে আপনার শরীরে? জেনে নিন