ইংরেজি বছরের প্রথম দিনেই তারাপীঠে দেখা গেল পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। নোটবাতিলের কোনও প্রভাবই লক্ষ্য করা যায়নি এদিন। সারা বছরটা যাতে ভালভাবে কাটে তার জন্য বছরের প্রথম দিনে প্রচুর মানুষ মা তারার পুজো দিয়ে থাকেন। তাই প্রত্যেক ইংরেজি বছরের প্রথম দিনে ভিড় হয় তারাপীঠে। কিন্তু এবছর এমনটা যে ঘটবে তেমনটা খুব একটা আশা করেননি তারাপীঠের মন্দিরের সেবাইত বা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। 

কারণ গত ৮ নভেম্বর নোটবাতিলের ঘোষণার পরেই বিপুলভাবে কমে যায় পুণ্যার্থীদের সংখ্যা। বছরের শেষের দিকটা তারাপীঠের ‘ভরা সিজন’ হিসেবেই গণ্য করা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ পুজো দিতে আসেন এই সময়টায় কিন্তু এবছর ঠিক সেই সময়েই নোট বাতিলের ঘোষণাটি করা হয়। কিছু দিন টাকার অভাবে সেবাইতরা বাকিতেও পুজো সেরেছেন। তাই নতুন বছরের শুরুতেও চিত্রটা খুব একটা পাল্টাবে না বলেই আশঙ্কা ছিল সবার। 

সেই সব আশঙ্কা ভ্রান্ত প্রমাণ করে আজ কিন্তু তারাপীঠে প্রচুর জনসমাগম হয়েছে। এদিন মন্দিরে ভোর থেকে পুজো দেওয়ার লম্বা লাইন দেখে মনে হয়নি দেশে কারও টাকার কোনও অভাব রয়েছে। এদিন তারাপীঠে পুজো দিতে আসেন কলকাতার আদিত্য চট্টোপাধ্যায়, অরুণ মুখোপাধ্যায়, নবনী সেন। বলেন, “প্রতিবছর এই সময় আমরা পুজো দিতে আসি। নোট বাতিলের পর ভেবেছিলাম এবার হয়তো সেই সুযোগ হবে না। কিন্তু সরকার যেভাবে নোটের জোগান দিয়েছে তাতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। লাইন দিয়ে টাকা তুলতে কিছুটা কষ্ট হয়েছে ঠিকই। তবে দেশের ভালর জন্য এই কষ্ট টুকু তো সহ্য করতেই হবে। তাই মা তারার কাছে পুজো দিয়ে এই সংকল্প করলাম দেশের ভাল হোক। সব মানুষের ভাল হোক। সকলের সারা বছর ভাল কাটুক”। 

মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, “বছরের প্রথম দিন পুজো করে সারা বছর যাতে ভাল কাটে সেই কামনা করেন পুণ্যার্থীরা। তাই এদিন দূরদুরান্ত থেকে বহু ভক্ত ভিড় জমিয়েছেন। পুর্ণ্যার্থীদের জন্য অনেক রাত পর্যন্ত মন্দিরের গেট খোলা রাখা হবে আজ। পুজো দিতে এসে কেউ যেন ফিরে না যান তা লক্ষ্য রেখেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে বছরের প্রথম দিনে পিকনিকের স্পট হিসেবে তারাপীঠকে বেছে নিয়েছেন। ভিড় জমিয়েছেন তারাপীঠের উত্তরে মুণ্ডমালিনী মন্দির এলাকাতেও। সেখানেও বহু মানুষ দ্বারকা নদীর চরে পিকনিক সেরেছেন। নোট বাতিলের কোনও প্রভাব এদিন তারাপীঠে লক্ষ্য করা যায়নি”।

এ সবই কি মা তারা-র কৃপায়? ভক্তরা তো সেই কথাই বলছেন।