সোমবার ছত্তিশগড়ে মাওবাদি হামলায় শহিদ পঁচিশজন সিআরপিএফ জওয়ানদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন বাঙালি। এঁদের মধ্যে দু’জন কোচবিহারের বাসিন্দা, একজনের বাড়ি নদিয়া জেলায়।

শহিদ তিন জওয়ানের নাম কৃষ্ণকান্ত দাস, বিনয়চন্দ্র বর্মন এবং অরূপ কর্মকার। কৃষ্ণকান্ত দাস এবং বিনয়চন্দ্র বর্মন কোচবিহারের বাসিন্দা। সোমবারের এই ভয়ানক হামলায় কৃষ্ণকান্ত দাস এবং বিনয়চন্দ্র বর্মনের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা কোচবিহারে। অরূপ কর্মকারের বাড়ি নদিয়ার করিমপুরে। 

স্ত্রীর সঙ্গে কৃষ্ণকান্ত দাস, বিয়ের দিন তোলা ছবি। নিজস্ব চিত্র

কোচবিহারের কোতওয়ালি থানার অন্তর্গত বিবেকানন্দ স্ট্রিটের বাসিন্দা কৃষ্ণকান্ত দাস(২৭) সিআরপিএফ-এর ৭৪ নং ব্যাটলিয়নে এসআই পদে কর্মরত ছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন কৃষ্ণকান্ত দাসের মা। মাত্র কয়েকদিন আগেই গত ১ ফেব্রুয়ারি ছেলের বিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। বাড়ি থেকে বিয়ের আনন্দের রেশ মেলাতে না মেলাতেই নেমে এল শোকের ছায়া। কৃষ্ণকান্ত দাসের বাবা নেই। কৃষ্ণকান্তের বাবাও একজন পুলিশকর্মী ছিলেন।

কোচবিহারে শহিদ জওয়ানের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিডিও ১

কৃষ্ণকান্ত পরিবারের ছোট ছেলে। বাড়িতে স্ত্রী, মা ছাড়াও দাদা, বৌদি রয়েছেন।

আরও পড়ুন

দেশে বড়সড় মাওবাদী হামলা, মৃত কমপক্ষে ২৪ জওয়ান, চলছে তল্লাশি

সিআরপিএফ-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের অন্য দুই শহিদ, কোচবিহারের বিনয়চন্দ্র বর্মন (২২) এবং নদিয়ার অরূপ কর্মকার (২৫), সিআরপিএফ-এর ৭৪ নং ব্যাটেলিয়নে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।

আহত জওয়ানদের দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। ছবি সৌজন্যে- সিআরপিএফ

নদিয়ার করমিপুরের অভয়পুরে অরূপ কর্মকারের বাড়িতে সোমবার গভীর রাতেই দুঃসংবাদ পৌঁছয়। ২০১৪ সালে সিআরপিএফ-এ যোগ দিয়েছিলেন অভয়। তাঁর মৃত্যু সংবাদে অভয়পুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কোচবিহারে থাকায় এ দিনই শহিদ কৃষ্ণকান্ত দাসের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহিদ জওয়ানদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া ছাড়াও পরিবারের একজন সদস্যকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চাকরির আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

ভিডিও ২ 

শহিদ বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের বাড়িতে শোকের ছায়া, দেখুন ভিডিও ৩