এনআরসি-র বিরোধিতায় গোটা রাজ্যে ফের দলকে পথে নামার ডাক দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এই ইস্যুতে আগেই ‘কালা দিবস’ পালন হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। এর পরেও ১১ ও ১২ তারিখ নতুন করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে শাসক দল।

শুক্রবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, শনিবার গোটা রাজ্যে ফের কালা দিবস পালন করা হবে। এনআরসি ইস্যুতে কালো পতাকা নিয়ে, কালো ব্যাজ পরে পথে নামবেন তৃণমূল কর্মীরা। বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করে বিজেপি-কে তাঁরা ধিক্কার জানাবেন। উল্লেখ্য, শনিবারেই কলকাতায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের সভা। 

আর সেই দিনেই রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের এই কর্মসূচি। পরের দিন রবিবার কলকাতায় সেই কর্মসূচি। অমিতের সভার দিনে কলকাতায় কোনও প্রতিবাদী আন্দোলন না থাকলেও শনিবার রাজ্য জুড়ে কালা দিবস পালনের নিন্দা করেছে রাজ্য বিজেপি। 
বিজেপির দাবি, বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মীদের কলকাতায় পৌঁছনো রুখতেই তৃণমূল আচমকা কালা দিবসের ডাক দিয়েছে। শনিবার বিপুল জনসমাগম হবে খবর পেয়েই নাকি ভয়ে আচমকা কালা দিবসের ডাক বলে দাবি বিজেপির। 

পার্থ চট্টোপাধ্যায় ‘কালা দিবস’ ডাকার পরে পরেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন ভয় পেয়ে সংঘাতের পথে যেতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। তিনিও পাল্টা হুমকি দিয়ে বলে রেখেছেন— ‘‘যদি তৃণমূল সংঘর্ষ চায়, তা হলে সংঘর্ষই হবে। তার সমস্ত দায় হবে তৃণমূলেরই। আমরা মোকাবিলায় প্রস্তুত। যদি বিজেপি কর্মীদের পথ আটকানো হয়, তা হলে আমরাও কিন্তু চুপচাপ মেনে নেব না।’’

রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা কলকাতায় কিছু না হলেও সংলগ্ন জেলাগুলিতে শনিবার রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াতে পারে। নাগরিক পঞ্জী ইস্যুতে প্রথম থেকেই বিরোধিতায় সরব তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই আন্দোলনের মধ্যেই রাজ্য আসছেন অমিত শাহ। সেই সফরে নাগরিক পঞ্জী নিয়ে তৃণমূলকে জবাব দিতে পারেন বিজেপি সভাপতি। এমন রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে সংঘাতের ভয়ও থাকছে।