পঞ্চায়েত বোর্ড দখল করার জন্য ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সিপিএমের বিদায়ী বোর্ডের উপ-প্রধান এবং সদ্য নির্বাচিত এক মহিলা সদস্যকে নাকি নগ্ন করেছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। নিজের আব্রু বাঁচাতে কোনওমতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় তাঁকে। সেখানে অন্যের কাপড় পরেই হাসপাতালে ছুটলেন আংরাভাষা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পুনরায় নির্বাচিত বিদায়ী উপ-প্রধান পার্বতী ছেত্রী।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

এদিকে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে দাদাগিরি করার অভিযোগ উঠল খোদ শাসকদলের বিরুদ্ধে। জোর জবরদস্তি করেই নাগরকাটার ১-নং আংরাভাষা গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করল তাঁরা, এমনটাই অভিযোগ। বোর্ড গঠনের সময়েই সিপিএম এবং তৃঁমূল— দু’ পক্ষের মধ্যে ঝামেলাও শুরু হয়ে যায় বলে অভিযোগ। এই সংঘর্ষে সিপিএমের বেশ কয়েকজন জিতে আসা প্রার্থী জখম হয়েছেন। যদিও তৃণমূল নেতারা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁদের দাবি, বোর্ড গঠন নাকি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এই গ্রামপঞ্চায়েতে মোট আসন ৭টি। এর মধ্যে সদ্য শেষ হওয়া পঞ্চায়েত নির্বাচনে সিপিএম ৪টি ও তৃণমূল ৩টি আসন পায়। শুক্রবার ছিল বোর্ড গঠনের দিন। অভিযোগ, সিপিএমের জেতা পঞ্চায়েত সদস্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখালেও পঞ্চায়েত অফিসের কাছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁদের বাধা দেওয়া এবং পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।

প্রহৃত পঞ্চায়েত সদস্য। — নিজস্ব চিত্র

আহত তৃণমূল প্রার্থীদের চা-বাগান হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে বলে সিপিএম নেতারা জানিয়েছেন। নাগরাকাটা ব্লকের সিপিএম নেতা রামলাল মূর্মূ বলেন, ‘‘তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী আমাদের পঞ্চায়েত সদস্যদের ঢিল ছুড়ে তাড়া করে। এতে আমাদের ১০ জন আহত হয়েছেন। দাদাগিরি করেই তৃণমূল বোর্ড দখল করল।’’

যদিও তৃণমুলের ব্লক সভাপতি অমরনাথ ঝা বলেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা। আমাদের কেউই ওদের উপর চড়াও হয়নি। ওরা বোর্ডগঠনে যোগদান করতেই আসেনি। তাই শান্তিপূর্ণভাবে বোর্ড গঠন করা হয়েছে।’’

এদিকে, সিপিএম-এর মার খাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চা বাগান থেকে দলে দলে মানুষ পঞ্চায়েত অফিসের সামনে জড়ো হয়। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায়। পরে যদিও পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি এই ঝামেলার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।