সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচনে যে ৩৪ শতাংশ আসনে কোনও লড়াই হয়নি, সেখানে ফল প্রকাশে এখন কোনও বাধা নেই। এই নির্বাচন নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে ফল প্রকাশের পরে নির্বাচন ট্রাইবুনালে যেতে পারবেন বিরোধীরা। ৩০ দিনের মধ্যে তাঁরা আবেদন করতে পারবেন সেখানে।

তৃণমূল কংগ্রেস স্বাভাবিক ভাবেই উল্লসিত। পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘এই রায় শুধু জয় নয়, এটি ঐতিহাসিক জয়। কারণ সুপ্রিম কোর্ট বিরোধীদের আবেদন গ্রাহ্যই করেনি। সোজা খারিজ করে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আগেই বলেছিলেন সত্য আমাদের সঙ্গে রয়েছে। জয় আমাদের হবেই।’’

এবার বোর্ড গঠন করে, পঞ্চায়েত সদস্যদের ট্রেনিং দিয়ে উন্নয়নের কাজ শুরু করে দেবে রাজ্য সরকার।

কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, মে মাসে নির্বাচন হয়ে গেলেও এত দিন ফল প্রকাশ স্থগিত রাখাতেই রাজ্য সরকারের মুখ পুড়েছে।

কিন্তু যে নির্বাচন ট্রাইবুনালের কথা সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, সেই ট্রাইবুনালগুলির মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনও বিচারক নেই। ফলে কেউ ট্রাইবুনালে গেলেই যে সঙ্গে সঙ্গে বিচার পেয়ে যাবেন, সেই আশা করাই বৃথা।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

মানবাধিকার কর্মী রঞ্জিত শূরের বক্তব্য, ‘‘হয়তো দেখা যাবে ট্রাইবুনালের মামলা শুনতে শুনতেই এই পঞ্চায়েতের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোনও বিচার পেলেন না আক্রান্ত প্রার্থীরা যাঁরা মনোনয়নই দাখিল করতে পারেনি।’’

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, ই-মনোনয়ন বা হোয়াটসঅ্যাপে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কোনও সুযোগ বর্তমান পঞ্চায়েত আইনে নেই। 

সেক্ষেত্রে ভাঙড়ের ৯ জন প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেল। কারণ কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে এই ৯ জন প্রার্থী হোয়াটস্অ্যাপে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন।