তিনি আগেই বলেছিলেন, দলীয় বৈঠক ও বিধানসভাকে এড়িয়ে গেলেও সরকারি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। সেই অনুযায়ী মুকুল রায়ের ছেলে তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেন শুক্রবার।

মুখ্যমন্ত্রী আসার ঘণ্টা দেড়েক আগেই শুভ্রাংশু পৌঁছে যান সভাস্থলে। মঞ্চে গিয়ে বসেন দ্বিতীয় সারিতে। বাবা মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে তৃণমূলে প্রায় একঘরে হয়ে গিয়েছিলেন শুভ্রাংশু। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক থেকে শুরু করে অর্জুন সিংহ— সবাই মুকুল-পুত্রকে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেন।

কিন্তু শুক্রবার সরকারি সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখোমুখি হলেন শুভ্রাংশু। সরকারি সাহায্য প্রদানের সময় অন্য বিধায়কদের মতো শুভ্রাংশুকেও ডেকে নেওয়া হয়।

তখনই মমতার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন শুভ্রাংশু। তখনই মমতাকে কিছু বলতে দেখা যায়। শুভ্রাংশুও মাথা নাড়েন। 

পরে শুভ্রাংশু জানান, ‘‘সাধারণ কথাবার্তাই হয়েছে। কোনও রাজনীতির কথা নয়।’’

কিন্তু তৃণমূল সূত্রের খবর, শুভ্রাংশু মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন, তখনই শুভ্রাংশুকে পরে যোগাযোগ করতে বলেন মমতা। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

এর আগে এবেলা.ইন-কে শুভ্রাংশু জানিয়েছিলেন, তিনি প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন। এলাকায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যের কথাও মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন বলেছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই সভায় উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন শুভ্রাংশুর সঙ্গে কথা বললেও, বীজপুরের আশেপাশের এলাকার বিধায়করা তাঁকে এড়িয়েই গিয়েছেন।  

প্রসঙ্গত, মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক অভিযোগ করেছিলেন, মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর বাবা ও ছেলে (মুকুল ও শুভ্রাংশু) লুকোচুরি খেলছে। কাঁচরাপাড়া এলাকার দায়িত্বে পাওয়া বিধায়ক অর্জুন সিংহও শুভ্রাংশুকে মিথ্যেবাদী বলে অভিযুক্ত করেছিলেন।