অমিত শাহ আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষমা না চাইলে, তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি। 

নাম না করে ‘মুখ্যমন্ত্রীর ভাতিজা’ বা ভাইপোর বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ করেছিলেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি অমিত শাহ। তা নিয়ে আপত্তি তুলেই আইনজীবী মারফত শাহকে চিঠি পাঠিয়েছেন অভিষেক।

আইনি চিঠিতে অভিষেকের আইনজীবী সঞ্জয় বসু লিখেছেন, ‘‘আপনার বক্তৃতার কিছু বক্তব্য মিথ্যায় ভরা ও আমার মক্কেলের পক্ষে আপত্তিজনক ও অবমাননাকর। আপনার বক্তৃতায় আপনি আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ করেছেন যেগুলির কোনও ভিত্তিই নেই।’’

শনিবার কলকাতায় গাঁধী মূর্তির পাদদেশে বিজেপি যুব মোর্চার সমাবেশে অমিত শাহ বলেছিলেন ‘‘ক্ষমতায় এসে মমতাদিদি নারদ, সারদা, সিন্ডিকেট, ভাইপোর দুর্নীতি এবং দুর্নীতির সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন।’’

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

এই চিঠি পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক সম্মেলন করে শর্তহীন ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে অভিষেকের আইনজীবীর নোটিশে। না হলে সিভিল ও ক্রিমিনাল কেস করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

সেই সভার পরেই তৃণমূলের পক্ষে দলের মুখপাত্র ডেরেক’ও ব্রায়েন বলেছিলেন, ‘‘দুর্নীতির যে অভিযোগ শাহ করেছেন, এক দিনের মধ্যে তাঁকে তার প্রমাণ দিতে হবে। নইলে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।’’

রবিবার পর্যন্ত বিজেপি সভাপতিকে সময় দিয়েছিল তৃণমূল। তার পরেই সোমবার অমিত শাহকে এই আইনি চিঠি ধরালেন অভিষেকের আইনজীবী।

এই আইনি চিঠিতে অমিত শাহের বক্তব্যকে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘‘যেটা সহজেই বোঝা যাচ্ছে যে আপনি বলতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক এবং তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিক। আমার মক্কেল নারদ ও সারদা চিট ফান্ড কাণ্ডে জড়িত। রাজ্যকে দেওয়া কেন্দ্রের টাকা অভিষেক সরিয়ে ফেলেছে। তৃণমূলের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে মিলে তিনি সিন্ডিকেট চালান রাজ্য সরকারের টাকা আত্মসাৎ করার জন্য। আমার মক্কেল আপনার সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন।’’

এর আগেও বিজেপি নেতা মুকুল রায় ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে একই ভাবে আইনি চিঠি ধরিয়েছিলেন অভিষেক। দু’জনের বিরুদ্ধেই মানহানির মামলা করেছিলেন তিনি। অমিত শাহের ক্ষেত্রেও একই দিকে এগোচ্ছেন যুব তৃণমূলের সভাপতি।