দুর্গা পুজোর বিসর্জন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে না রাজ্য সরকার।

কেন রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে না, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ও বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই রায় আসলে রাজ্য সরকারের পক্ষেই গিয়েছে বলে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দাবি করেছেন কল্যাণ।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের একটি লাইন তুলেই এই দাবি করছেন তৃণমূল সাংসদ। 

মহরমের দিন বিসর্জন হবে কি হবে না, তা নিয়ে জনস্বার্থ মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাকেশ তিওয়ারির ডিভিশন বেঞ্চ লিখেছে, ‘‘এটি রাজ্যের পারদর্শিতার উপর নির্ভর করবে যে, তারা ৩০ সেপ্টেম্বর মুসলমান সমাজের তাজিয়ার মিছিল ও দুর্গা প্রতিমার বিসর্জনের শোভাযাত্রার জন্য নির্দিষ্ট রুট ঠিক করে দেবে...।’’

একই সঙ্গে নির্দেশে লেখা রয়েছে, ‘‘...যদি বিসর্জন অনুমতিযোগ্য হয় তা হলে ১ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে আইনশৃঙ্খলা অথবা শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা (রাজ্যকে) নিশ্চিত করতে হবে।’’

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

এই লাইনটিকেই হাতিয়ার করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘যদি অনুমতিযোগ্য হয়’— এই কথার মানেই হল, এই রায় রাজ্যের পক্ষে গিয়েছে। কারণ বিসর্জনের অনুমতি রাজ্য সরকার দেবে।

তবে আদালতের নির্দেশের পরের দিকে একটি অনুচ্ছেদেই বলা হয়েছে রাত ১২টা পর্যন্ত বিসর্জনের অনুমতি দেওয়া যাবে ও সেই ব্যবস্থা ৩০ সেপ্টেম্বরের পরের দিনগুলিতেও জারি থাকবে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য সরকার কি এই রায়ের সুযোগ নিয়ে মহরমের দিন বিসর্জন সত্যিই বন্ধ রাখবে, না কি কোনও সংঘাতে না গিয়ে একাদশীর দিন বিসর্জনের শোভাযাত্রা ও মহরমের তাজিয়ার মিছিলের অনুমতি দেবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘‘সব ঠিক আছে। সব ব্যবস্থা করা রয়েছে। সব পরিস্থিতির ওয়ে আউট রয়েছে।’’

শুক্রবার এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। সেই বৈঠকেই ঠিক হবে বিসর্জন নিয়ে কী ব্যবস্থা নেবে সরকার।