অঙ্কুশ (লিও)

পোষ্যের নাম লিও। আদর খেতে ভালবাসে। ফুরফুরে সোনালি-সাদা গোল্ডেন রিট্রিভার। অঙ্কুশের যাকে বলে ‘জিগরি দোস্ত’। এক থালায় ভাত খাওয়া থেকে ফোটোশ্যুটের সময় নায়কের গালে গাল ঠেকিয়ে পোজ দেওয়া, লিও শিখে নিয়েছে সবটাই!
এমনিতে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে ঝামেলা নেই। কিন্তু জুতো খুব পছন্দের ‘খাদ্য’ তার! যখনই অঙ্কুশ তৈরি হয়ে কোথাও বেরোতে যান, তক্কে তক্কে থাকে লিও। সুযোগ বুঝে জুতো আর মোজা নিয়ে হাওয়া হয়ে যায়। বাড়িতে লোক এলে ঝাঁপানোর অভ্যেস আছে লিও’র। তবে একবার অঙ্কুশকে অপ্রস্তুত করেছিল, অতিথির সামনেই তাঁর প্লেট সাফ করে! অন্য কুকুরদের দেখলে লিও’কে নিয়ন্ত্রণ করা আবার মুশকিল। তবে এমনিতে ঘরে থাকতেই ভালবাসে। এতটাই, যে বাইরে বেরোতেও চায় না সহজে! তাই দীপাবলি কিংবা দোলের সময় চিন্তা নেই অঙ্কুশের!

মিমি চক্রবর্তী (চিকু, ম্যাক্স)

একজন বহুদিন ধরেই রাজত্ব করছেন। সদ্য অনুপ্রবেশ দ্বিতীয়জনের। চার বছরের ল্যাব্রাডর চিকু আর তিন মাসের সাইবেরিয়ান হাস্কি ম্যাক্সকে নিয়ে মিমি চক্রবর্তীর ভরা সংসার।
মিমির সবচেয়ে কাছের জায়গাটা এরা দু’জনেই দখল করে রয়েছে আপাতত। রোজ সকালে চা খাওয়ার সময় মিমির সামনে থাবা গেড়ে বসে দু’জন। তারপর ডাইজেস্টিভ বিস্কিট হজম করা হয় একে একে! প্রত্যেক দিন সকালটা এভাবেই শুরু হয় নায়িকার। আর দিনভর দু’জনের মধ্যে নারদ-নারদ লেগেই থাকে। মিমির কথায়, ‘‘চিকু নেহাত ভদ্র, তাই কিছু বলে না। না হলে ম্যাক্স ওর পিঠে চড়ে যেভাবে জ্বালায়, তাতে ওর পাগল হয়ে যাওয়ার কথা।’’ আরও জানালেন, চিকু এমনিতে ভদ্র-সভ্য হলেও বাড়িতে লোক এলে তাঁদের গায়ে উঠে পড়ার বদভ্যাস রয়েছে তার। ‘‘বিশেষ করে ছেলেদের গায়ে উঠতে ভীষণ ভালবাসে চিকু! আর আমাকে যারপরনাই অস্বস্তিতে পড়তে হয়। একবার তো ‘এবেলা’র এক চিত্র সাংবাদিককেও পেড়ে ফেলেছিল প্রায়,’’ হাসতে হাসতে বললেন মিমি!
ম্যাক্সের দুষ্টুমিটা আবার অন্য পর্যায়ের। জানা গেল, রাত তিনটের সময় উঠে নাকি বারান্দায় গিয়ে সব ফুলের টব ভেঙে চৌচির করার রেকর্ড আছে তার। তারপর সেই কাদামাটি মেখেই সোফায় ওঠা, কুশন ছেঁড়া ইত্যাদি! চিকু অবশ্য ওই বয়সটা পেরিয়ে এসেছে। মাংস-ভাত কিংবা ডিম ভাত পেলেই সে খুশি।
প্রত্যেক বছর ‘নো সাউন্ড দিওয়ালি’ ক্যাম্পেন করেন মিমি। জানালেন, চিকু বাজিতে ভয় পায় না। ‘‘তবুও ওই দিনটা আমি ওদের নিয়ে বেরোই না,’’ বললেন চিকু আর ম্যাক্সের ‘মাম্মা’। ছুটির দিনে লং ড্রাইভ, লেট নাইট আউটিং, এসবে চিকু অভ্যস্ত। কিন্তু ম্যাক্স এখনও গাড়িতে ওঠেনি। মিমি আশাবাদী, ম্যাক্সও চিকু’র মতোই শান্ত হয়ে যাবে একদিন।

শ্রাবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায় (কাসা)
কুকুরের নাম কাসা। গোল্ডেন রিট্রিভার। শ্রাবন্তীর প্রিয় মানুষ কৃষণ ব্রজই এনে দিয়েছিলেন ছোট্ট কাসাকে। এখন সে বড় হয়েছে। দুষ্টুও। নায়িকা জানালেন, গোল্ডেন রিট্রিভার সাধারণত শান্ত হয়। কিন্তু কাসা নাকি অন্য জাতের ‘খিলাড়ি’! পাত্তা না দিলেই প্রচণ্ড রেগে যায়। ‘‘বাড়িতে কেউ না থাকলেই বাবুর মুড অফ হয়ে যায়! তখন ওর মতো ভদ্র আর দু’টি নেই। সকলকে কাছে পেলে তখন আবার ফুল ফর্মে!’’ বললেন শ্রাবন্তী।
যা দেওয়া হয়, চেটেপুটে খেয়ে নেয় কাসা। কাঁচা সব্জি থেকে চিকেন-মাটন, বাদ যায় না কিছুই। কাজেই খাওয়া-দাওয়া নিয়ে সমস্যা নেই। সমস্যা অন্য জায়গায়। বাড়িতে নতুন কেউ এলেই তার গায়ে সটান উঠে পড়ে কাসা। শ্রাবন্তী বললেন, ‘‘বাড়িতে অতিথি এলে ওকে একবার আদর না করে নিস্তার পাবে না। চিৎকার করে বাড়ি মাথায় করবে। ফোনে হয়তো ইন্টারভিউ দিচ্ছি, এদিকে কাসার চিৎকারে কোনও কথাই শুনতে পাচ্ছি না। এমন কত হয়!’’ অভিমানী কুকুর। বাড়িতে কেউ না থাকলে সারাদিন খাবারও খায় না সে। শ্রাবন্তী সপরিবারে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন একবার। বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত দাঁতে কুটোটি কাটেনি কাসা।
দোলের সময় শ্রাবন্তী বাড়ির বাইরে বেরোতে দেন না কাসাকে। শব্দবাজিও ফাটান না তাঁরা। ‘‘আমরা না ফাটালে কী হবে! কালীপুজোর সময় জানলা বন্ধ 
করে বসে থাকতে হয়,’’ জানালেন তিনি। শ্রাবন্তীর বার্তা, তাঁর কুকুরের মতোই কত রাস্তার কুকুরও তো রয়েছে! তাদের কথা মাথায় রেখেই যেন রং বা বাজির ব্যবহার কম করা হয়। 

সুদীপা চট্টোপাধ্যায় (ভানুভূষণ, বাঁটুল, গোলু)
গালভরা নাম আছে একটা। রয়েছে ফেসবুক অ্যাকাউন্টও। নিয়মিত পার্টির নিমন্ত্রণের কার্ড আসে তার নামে! ভানুভূষণ চ্যাটার্জি জন্ম থেকেই সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। ছ’ফুটের কাছাকাছি গ্রেট ডেন ভানুর ওজন প্রায় ৮০ কেজি! এখন তার সঙ্গী হয়েছে আরও দু’টি। একজন বাঁটুল দ্য বক্সার। আর রাস্তা থেকে উদ্ধার করে আনা হয়েছে গোলুকে।
সুদীপা বললেন, ‘‘ভানু আমার হাতেই জন্মেছে। মায়ের থেকে কখনও আলাদা থাকেনি ও। আমরা সবকিছু একসঙ্গে করি।’’ সুদীপার গলার স্বরে মাতৃস্নেহ স্পষ্ট। ছোটবেলায় একজন ট্রেনার রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, সার্কাসের কুকুরদের মতো তাঁর ভানুকে যেন হ্যান্ডশেক করা বা রোল ডাউন করা শেখানো না হয়। তার জন্য বিপদেও পড়েছিলেন একবার। এক পার্টিতে গিয়েছিলেন সুদীপা, সঙ্গে ভানু। গিয়ে দেখেন, সেখানে কুকুর আর মালিকের মধ্যে কত ভাল সম্পর্ক, সেটা দেখানোর প্রতিযোগিতা চলছে। ‘‘এদিকে আমরা তো কোনওরকম ট্রিক জানিই না। ও একটাই শুধু জানত, লাফিয়ে ঘাড়ের কাছে উঠে আমায় চুমু খাওয়া। ভানুকে কানে কানে বললাম, ভানু, জাম্প অ্যান্ড কিস! ব্যস, অমনি সব ফোটোগ্রাফারের লেন্স আমাদের দিকে!’’ বললেন সুদীপা। তারপর থেকেই নাকি চিত্রসাংবাদিকদের চিনে গিয়েছে ভানু।
বাজি ফাটানোর সময় এক কাণ্ড হয়েছিল একবার, শেয়ার করলেন সুদীপা। বাড়ির ছাদে শব্দবাজিই ফাটাচ্ছিলেন। ভানু, গোলু, বাঁটুল, কারওরই তেমন ভয়ডর নেই বাজিতে। কাজেই নিশ্চিন্তে দিওয়ালির উদ্‌যাপন চলছিল। এমন সময় পুলিশ চলে আসে। আর ভানুই নাকি পুলিশকে একরকম ‘এসকর্ট’ করে ঘরের দরজা পর্যন্ত নিয়ে এসেছিল!