রাজ্যের ব্যবসায়ী এবং ক্রেতারা এখন থেকে একটি মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে বাংলাতেই বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবার জিএসটি’র হার জানতে পারবেন। বাংলা নববর্ষের ঠিক আগে রাজ্যবাসীকে এই উপহার দিয়েছেন জিএসটি কর্তৃপক্ষ। অ্যাপটি তৈরি করেছে দুই বাঙালি যুবকের মালিকানাধীন একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। 
উত্তরপাড়ার অভীক সরকার এবং রাজারহাটের অরিন্দম নাথ ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। দু’জনেরই অফিস ছিল সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে। নিজেদের ব্যবসা শুরু করার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে দু’জনেই চাকরি ছেড়ে দেন। ২০০৭ সালে ইএম বাইপাসের ধারে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ছোট একটি অফিস চালু করেন তাঁরা। সেই স্টার্টআপ আড়ে বহরে কিছুটা বেড়ে এখন ছোটখাটো এক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। 
অভীকের কথায়, ‘‘১১ বছর আগে যখন ব্যবসা শুরু করেছিলাম, তখন সদ্য কলেজ পাশ দু’জন অনভিজ্ঞ তরুণকে নিয়েছিলাম। এখন আমাদের সংস্থায় ২০ জন চাকরি করেন।’’ অরিন্দম বলছেন, ‘‘একটা সময় গিয়েছে যখন ক্রেডিট কার্ড দিয়ে টাকা তুলে কর্মচারীদের বেতন দিয়েছি। কাজ সম্পূর্ণ করে ক্লায়েন্টকে জমা দিয়ে পেমেন্ট পেয়েছি। তারপর বেতন হয়েছে।’’ 

দরপত্র, প্রেজেন্টেশন এবং সফ্‌টঅয়্যারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ফিচার অডিট করিয়ে কয়েকটি সংস্থাকে পিছনে ফেলে অ্যাপ তৈরির কাজটি পেয়েছে ওই সংস্থা। পাশাপাশি, জিএসটি সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার সমাধানে সহজ একটি ওয়েবসাইট-ও তৈরি করেছে তারা। 
গত শুক্রবার ‘জিএসটি রেট ইজি’ অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট’টির উদ্বোধন করেছে কেন্দ্রীয় জিএসটি দফতরের কলকাতা শাখা। অ্যাপটি দ্বিভাষিক। এর মাধ্যমে বাংলা এবং ইংরেজিতে যাবতীয় পণ্য ও পরিষেবার করের হার জানতে পারবেন ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ। জিএসটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মাতৃভাষায় জিএসটি অ্যাপের উদ্যোগ দেশে এই প্রথম। এক্ষেত্রে গোটা দেশে একধাপ এগিয়ে গেল বাংলা। 
কেন্দ্রীয় জিএসটি দফতরের কলকাতা শাখার সুপারিনটেনডেন্ট (সিস্টেমস) অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘এবেলা’কে বলেন, ‘‘নববর্ষের আগে রাজ্যের মানুষকে অ্যাপটি উপহার দেওয়া আমাদের লক্ষ্য ছিল। অভীক-অরিন্দমদের সংস্থা দুর্দান্তভাবে সেই কাজ করেছে। এরপর জিএসটি’র ওয়েবসাইট-ও বাংলায় করার ইচ্ছে আছে।’’