চিকিৎসা বিজ্ঞানে মাঝেমাঝে এমন ঘটনা ঘটে, যার কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। সেই রকম ঘটনারই সাক্ষী থাকল এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসুরি স্টেট। পুরো ঘটনার নায়ক মিসুরি স্টেটর ট্রেস জনসন। দুটো মুখ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিল জনসন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরলতম। চিকিৎসকরা তার বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। তবে সেই বালকই সবাইকে অবাক করে নিজের ১৩তম জন্মদিন পালন করল।

ব্রিটেনের এক ট্যাবলয়েডে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এমন রোগকে বলা হয় ‘কনজেনিটাল ডিসঅর্ডার ক্র্যানিয়োফেসিয়াল ডুপ্লিকেশন’। এমন রোগে শিশু জন্মগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই মারা যায়, এমনটাই দাবি চিকিৎসকদের। ট্রেসও এই রোগের শিকার ছিল। জন্মগ্রহণের সময়ে ট্রেসের মুখের গহ্বর ছিল অত্যধিক বড়। চোখের আকারও ছিল সাধারণের থেকে অনেকটা বড়। নাকের ছিদ্র ছিল দু-জোড়া, মাথার আকৃতি ছিল কিম্ভুতকিমাকার। ১৪বার ভিন্ন ভিন্ন ডায়াগনসিসের পরে ধরা পড়ে ট্রেসের এই বিরলতম রোগ।

জন্মের সময়ে এরকমই ছিল ট্রেস। ছবি : ক্রেটার্স নিউজ এজেন্সি

জন্মের পরেই একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয় তার। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই মুখের গহ্বর কমিয়ে আনা হয়, ব্রেনে যাতে চাপ না পড়ে সেজন্য মুখাবয়বেও পরিবর্তন আনা হয়।

আরও পড়ুন

কোলে চড়েই উচ্চামাধ্যমিকের উচ্চতায়, লাল্টু তাক লাগালেন রেজাল্টে

এই রোগের প্রকোপেই দিনে আগে প্রায় ৪০০ বার অচৈতন্যও হয়ে পড়ত নিয়মিত। তবে অস্ত্রোপচারের পর সেই সংখ্যা কমিয়ে আনা হয় ৪০বারে। চিকিৎসকরা জনসনের বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। তবে তার মৃত্যু হয়নি। পরিবারের সঙ্গেই ট্রেস এবার নিজের ১৩তম জন্মদিন পালন করে দেখাল। তার চিকিৎসার খরচ জোগানোর জন্য ট্রেসের পরিবার ‘গো ফান্ড মি’ নামে একটি পেজ তৈরি করেছে। যেখানে যে কেউ অর্থ সাহায্য করতে পারেন।