সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু পোস্ট করলে বা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠালেই গুনতে হচ্ছে দিনে প্রায় সাড়ে তিন টাকা করে। এমন কী মোবাইলে টাকার লেনদেন করলেও দিতে হবে কর। উগান্ডা সরকারের নতুন আইন অনুযায়ী, এখন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, স্কাইপ, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করলেই দিতে হচ্ছে নতুন কর।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি আড্ডা, গল্পগুজব, গসিপ, খোলামেলা মতামত, অপমান করা রুখতেই সে দেশের প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনি এই আইন পাশ করিয়েছেন উগান্ডার সংসদে।

গত মার্চেই মুসেভেনি তাঁর অর্থমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বলেছিলেন ‘সোশ্যাল মিডিয়া ট্যাক্স’ বসালে যেমন এই গসিপ করা কমবে, তেমনই সরকারের আয়ও বাড়বে। সাধারণ ভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর কর না বসিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার উপর কর বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

কিন্তু দিনে ২০০ উগান্ডা শিলিং (ভারতীয় টাকায় যা সাড়ে তিন টাকার বেশি) করে কর বসিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছে সে দেশের সরকার। ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে এই আইন। মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি গ্রাহকদের থেকে এই কর আদায় করে সরকারকে দেবে।

উগান্ডার ৪১ শতাংশ নাগরিক ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এই আইন চালু হতেই এঁদের একটি বড় অংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করতে ও সরকারের সমালোচনা বন্ধ করতেই সরকার এমন আইন তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উগান্ডাবাসীর।

কেউ কেউ ভিপিএন কানেকশন ব্যবহার করে কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছেন বটে। অনেকের মতে করের অঙ্ক হয়ত বেশি নয়, কিন্তু আদর্শগত ভাবে এই কর বসানো আসলে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।

সরকারের তরফে মন্ত্রী ফ্র্যাঙ্ক টুময়েবাজে জানিয়েছেন, কর বাবদ যে টাকা উঠবে তা ব্রডব্র্যান্ডের পরিকাঠামো তৈরি করতে খরচ করা হবে।