কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতপাতের বৈষম্য নিয়ে পড়ুয়াদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে এই নির্দেশ দিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

হায়দরাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলিত গবেষক ভেমুলা রোহিত চক্রবর্তীর আত্মহত্যার ঘটনার পরে দেশ জুড়ে আন্দোলনের চাপে এই নির্দেশ দেওয়া হল বলে মনে করছে শিক্ষামহলের একাংশ। যদিও ইউজিসি’র দাবি, এর আগে ২০১১ এবং ২০১৩ সালে এই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষামহলের ওই অংশের বক্তব্য, কেন বারবার করে একই ধরনের নির্দেশ দিতে হচ্ছে?

ইউজিসি’র সচিব যশপাল সিংহ সাঁধুর পাঠানো ওই নির্দেশে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তফসিলি জাতি অথবা উপজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত পড়ুয়াদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ হলে তা বন্ধ করতে উদ্যোগী হতে হবে অধ্যাপক এবং আধিকারিকদের। এমনকী, কোনও অধ্যাপক বা আধিকারিক যাতে তফসিলি জাতি অথবা উপজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত পড়ুয়াদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ না করেন সেই বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওয়েবসাইটে এই বিষয়ে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখারও নির্দেশ দিয়েছে ইউজিসি।

কোনও অধ্যাপক বা কর্মীর বিরুদ্ধে যদি জাতপাতের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে? ইউজিসি’র নির্দেশ, সংশ্লিষ্ট অধ্যাপক বা কর্মীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। আর ক্যাম্পাসে বৈষম্যমূলক আচরণ হলে কর্তৃপক্ষকে তা বিবেচনা করতে হবে সংবেদনশীলতার সঙ্গে।

শিক্ষামহলের একাংশের বক্তব্য, বহু বিষয়ে ইউজিসি নির্দেশ দেয়, কিন্তু বাস্তবে তার সুফল দেখতে পাওয়া যায় না। ইউজিসি যদিও জানিয়েছে, নতুন নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা-ও তাদের জানাতে হবে।

মাসকয়েক আগে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক মহীতোষ মণ্ডল অভিযোগ করেছিলেন, দলিত বলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছেন। মহীতোষের অভিযোগ নিয়ে প্রেসিডেন্সির ‘ইকুয়াল অপরচুনিটি সেল’ গত ডিসেম্বরে তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু মহীতোষের অভিযোগ, তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে তিনি কিছু জানেন না। এদিন ইউজিসি’র এই নির্দেশ প্রসঙ্গে মহীতোষ বলেন, ‘‘অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেটি আশাব্যঞ্জক বিষয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলি জেনেও উদাসীন থাকেন।’’

ইউজিসি’র নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইকুয়াল অপরচুনিটি সেল’ থাকার কথা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রদীপ কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁদেরও ওই সেল রয়েছে। ইউজিসি নতুন কোনও নির্দেশ দিলে তা মেনে চলা হবে।