অবশেষে জলের সন্ধান পাওয়া গেল লাল গ্রহে। 

২০১১ সাল থেকে মঙ্গল গ্রহের একটি বিশাল গর্ত নিয়ে প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চলেছে নাসা। ‘এনডেভার ক্রেটার’ নামে ওই গহ্বরটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ২২ কিলোমিটার। নাসা-র বৈজ্ঞানিকদের মতে, এই গহ্বরে কোনও এক সময়ে জল ছিল। কারণ, ওই ক্রেটারের ধারে পাথর পাওয়া গিয়েছে। পাথরগুলি এই স্থানে কোনও রকম জলোচ্ছ্বাসের কারণেই এসে পড়ে বলে মনে করছে নাসা। পরবর্তীকালে, পাথরগুলি বাতাসে ক্ষয়ে যায়। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

মঙ্গলগ্রহে এর আগেও জল পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববাদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক ববি ব্রন। কিন্তু তা একেবারেই নাগালের বাইরে আবহাওয়ায় ঘুরে বেরানো অবস্থায়। কখনও ‘পোলার ক্যাপ’ বা ‘পার্মাফ্রস্ট’ অবস্থায়। কখনও বা মাঝেসাঝে পাহাড়ের গা বেয়ে গড়িয়ে আসা এক-আধ ফোঁটা জল। এই সামান্য পরিমাণ জলে একটি ডোবাও তৈরি হবে না, অথচ মঙ্গলে যে যথেষ্ট পরিমাণে জল ছিল, তা নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই বৈজ্ঞানিক মহলে।

ফলে, নতুন উদ্যমে আবারও তাঁরা পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করেন। এবং সম্প্রতি র‌্যাডার স্ক্যানে ধরা পড়ে ভূগর্ভস্থ একটি হ্রদ। দৈর্ঘ্যে যা ১৯ কিলোমিটারের বেশি। ‘সায়েন্স’ নামে জার্নালে এক স্টাডি রিপোর্ট থেকে এমনই তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ইতালির রোমা ত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক এলিনা পেতিনেলি সেই রিপোর্টে আরও লেখেন যে, এমন লুকনো হ্রদ আরও রয়েছে মঙ্গলে। 

মঙ্গল গ্রহের দক্ষিণ মেরুর দিকে বেশ ঝলমলে কিছু ধরা পড়ে ‘মারসিস’এর ক্যামেরায়। বৈজ্ঞানিকরা বুঝতে পারেন, সেগুলি আদতে একটার উপরে একটা বরফের চাদর। এবং সেই বরফের অনেক গভীরে রয়েছে ‘সাবগ্লেসিয়াল লেক’। 

তাঁদের মতে, লাল গ্রহের হ্রদগুলিতে পাওয়া যায় নানা ধরনের লবণ, যা ওই অস্বাভাবিক ঠান্ডার মধ্যেও লেকের জলকে তরল রাখে। বৈজ্ঞানিকদের এই ধারণার কারণ, পৃথিবীর গ্রিনল্যান্ড ও আন্টার্কটিকা অঞ্চলেও বরফের গভীরে রয়েছে এমন জলস্তর। 

এই আবিষ্কারের ফলে লাল গ্রহে মনুষ্যবসতির জল্পনা আরও এক ধাপ এগলো বলেই মনে করছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।