ডার্বি শেষ হয়েও যেন হয়নি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের কাছে হারের আগুন এখনও নেবেনি ইস্টবেঙ্গলে। ভক্তদের ক্ষোভ এখনও যায়নি। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটল মঙ্গল সকালের লাল-হলুদ অনুশীলনে। 

এর আগেও ক্ষুব্ধ ক্লাব-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে। কলকাতা লিগে এরিয়ান্সের কাছে ল্যাজেগোবরে হয়ে হারের পরে ক্ষুব্ধ ভক্তরা গ্যালারি থেকে কুলকুচি করে জল ছিটিয়েছিলেন সাহেব কোচ ট্রেভর জেমস মর্গ্যানের গায়ে। ‘গো ব্যাক’ ধ্বনি উঠেছিল গ্যালারি থেকে। ইস্টবেঙ্গলে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করার পরে ব্যর্থতা যখন নিত্যসঙ্গী সাহেব কোচের, তখনও ইস্টবেঙ্গল ভক্তরা ক্লাব-তাঁবুতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। 

সেই পরম্পরা আজও চলছে। ডার্বিতে মোহনবাগানের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণের পরে সমর্থকদের মনে ঝড় উঠেছে। মঙ্গলবার জনা ২০-২৫ সমর্থক সকালে ইস্টবেঙ্গলের অনুশীলনে উপস্থিত হয়ে ক্ষোভ দেখান। তাঁদের ক্ষোভের কেন্দ্রে ছিলেন ক্লাবেরই প্রাক্তন ফুটবলার অ্যালভিটো ডি’ কুনহা এবং গোলকিপার লুইস ব্যারেটো। ক্রমে গ্যালারি থেকে ‘গো ব্যাক খালিদ’ ধ্বনি ওঠে।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

ক্ষোভের আঁচ পান কর্তারাও। পরে অবশ্য সেই কর্তাদের হস্তক্ষেপেই কোচ খালিদ জামিলের সঙ্গে দেখা করেন সমর্থকরা। তাঁর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার আলোচনায় বসেন সমর্থকরা। কোচ ও ভক্তদের মধ্যে কী কথা হল? এবেলা.ইন জানতে পেরেছে, খালিদ জামিলের সামনে একগুচ্ছ প্রশ্ন রাখেন ভক্তরা।  

১) ডার্বিতে আল আমনা চোট পাওয়ায় কেন বাজিকে নামানো হল? ২) কোচের উপরে কি কোনও চাপ রয়েছে? সমস্যাটা ঠিক কোন জায়গায় হচ্ছে খালিদ জামিলের? 
৩) বারবার ব্যর্থ হওয়া সত্বেও কেন এতদিন উইলিস প্লাজাকে রেখে দেওয়া হল? প্লাজার বিকল্প হিসেবে কে আসছেন ইস্টবেঙ্গলে? 
৪) গোলকিপার ও ডিফেন্সের মধ্যে ‘হাঙরের হাঁ’ কেন? ৫)আক্রম মোঘরাবির মতো স্ট্রাইকারকে আনছে মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গল ভাল মানের বিদেশি কেন আনতে পারছে না? 
৬) ডার্বিতে কেন তিন জন ব্লকার নামানো হল? 

ভক্তদের সব কথা মন দিয়ে শুনেছেন খালিদ। তাঁদের জবাবও দিয়েছেন লাল-হলুদ কোচ। ভক্তদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, তাঁর উপর কোনও চাপ নেই। রবিবাসরীয় ডার্বির আগেই স্ট্র্যাটেজি হিসেবে খালিদ স্থির করে রেখেছিলেন, বিদেশির পরিবর্তন আনা হলে বাজিকেই আগে নামানো হবে। শুধু প্লাজা নন, ইস্টবেঙ্গলের কোচ হিসেবে দলের প্রত্যেকের পাশে দাঁড়ানো তাঁর কর্তব্য।

ডার্বিতে হারের পরেই প্লাজাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিকল্প হিসেবে ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকার রাফায়েল রামাজোত্তির নাম উঠে এসেছে। যদিও ভক্তদের সামনে খালিদ নতুন বিদেশি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। ভক্তদের আশ্বাস দিয়ে খালিদ জানিয়েছেন, আইলিগের এখনও বেশ কয়েকটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। খালিদের কথায় আগুন নেভে ভক্তদের মনে। রুদ্ধদ্বার কক্ষ থেকে যখন বেরিয়ে আসছেন সমর্থকরা, তখন তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন তাঁরা। মনে করছেন, পারলে এই কোচই পারবেন। 

ব্যর্থতার জন্য দর্শক অসন্তোষের ঘটনা কতই না দেখেছে ইস্টবেঙ্গল। সেই নিরিখে বিচার করলে এদিন বিক্ষুব্ধদের ক্ষোভ প্রদর্শন নতুন কোনও ব্যাপার নয়। কিন্তু কর্তাদের হস্তক্ষেপে হতাশ, শোকস্তব্ধ সমর্থকরা ইস্টবেঙ্গল কোচের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার মিটিং করছেন, এমন ঘটনা স্মরণকালের মধ্যে কিন্তু ঘটেনি। খালিদ-যুগ ইস্টবেঙ্গলে নতুন ইতিহাসও লিখে গেল। এ নিয়ে কোনও সন্দেহই নেই।