ইদানীং ‘প্রিক্যুয়েল’, ‘সিক্যুয়েল’, ‘স্পিন অফ’—জাতীয় শব্দগুলোর সঙ্গে দর্শক পরিচিত। পছন্দের ছবির প্রিয় চরিত্রেরা যদি বড় পরদায় বার বার ফিরে আসে, তার চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে! এই যেমন নব্বইয়ের দশকে বেড়ে ওঠা দর্শক ‘জেসন বোর্ন’ মুক্তির খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসেছেন। পরবর্তী বন্ড কে হবেন, তাই নিয়েও চলছে বিস্তর জল্পনা। আবার এমন কিছু সিরিজ রয়েছে, যাদের ফেরার আর সম্ভাবনা নেই। যেমন দর্শকের আশায় জল ঢেলে ক্রিস্টোফার নোলান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যাটম্যান সিরিজ জারি রাখার কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁর। আবার ‘ঘোস্ট রাইডার’এর মতো সিরিজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন দর্শক। সব মিলিয়ে হিট-মিস-উইশলিস্ট বেশ লম্বা। চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক তালিকায়।

হ্যাপি ফিট
মিষ্টি পেঙ্গুইনদের নিয়ে অ্যানিমেশন ছবির সিরিজ। কাস্টিংয়ে এলিজা উড, রবিন উইলিয়ামস, হিউ জ্যাকম্যান, নিকোল কিডম্যানের মতো নাম। প্রথম ছবি অস্কার পাওয়ার পর ২০১১ সালে তৈরি হয়েছিল সিক্যুয়েল। ততদিনে নিউমোনিয়ায় মারা গিয়েছেন ব্রিটানি মার্ফি (গ্লোরিয়ার চরিত্রে কণ্ঠদান করেছিলেন ব্রিটানি)। এবং ‘হ্যাপি ফিট টু’তে যুক্ত হয়েছে ব্র্যাড পিট, ম্যাট ডেমনের মতো নাম। পরিচালক জর্জ মিলার জানিয়েছেন, ‘হ্যাপি ফিট থ্রি’র কথা মাথায় রয়েছে তাঁর। তবে গল্প ভাবতে সময় লাগবে আরও।

জোরো
বিশের দশকে ডগলাস ফেয়ারব্যাঙ্কের ‘দ্য মার্ক অফ জোরো’। আর তারপর নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ‘দ্য মাস্ক অফ জোরো’। সময়ের ফারাকটা বিশাল হলেও দর্শককে আগের মতোই মুগ্ধ করেছিল জোরো। নিপুণ সোয়াশবাকলিং, মেক্সিকান আদিবাসীদের তলোয়ার-যুদ্ধ এবং অ্যান্থনি হপকিন্‌স-অ্যান্তোনিও বান্দেরাসের যুগলবন্দি ছিল মুগ্ধ করার মতোই। ২০০৫’এ ‘দ্য লেজেন্ড অফ জোরো’ তেমন ছাপ ফেলতে পারেনি অবশ্য। তবে এই সিরিজের তৃতীয় অংশের জন্য অপেক্ষা করে থাকাই যায়। যেখানে পরের প্রজন্ম জোরো’র উত্তরাধিকার বহন করে নিয়ে যাবে।

মেন ইন ব্ল্যাক
২০১২ সালে ‘মেন ইন ব্ল্যাক থ্রি’ করার পর টমি লি জোন্‌স এবং উইল স্মিথ ঘোষণা করেছিলেন, চতুর্থ ছবিটা আদৌ করবেন কিনা, ভেবে দেখবেন! তখনই দর্শক মুষড়ে পড়েছিলেন বেশ। তবে শেষ ছবি ভাল রকম ব্যবসা করায় ‘মেন ইন ব্ল্যাক ফোর’ তৈরির কথা ঘোষণা করে দেন প্রযোজকেরা। এগজিকিউটিভ প্রোডিউসর স্টিভেন স্পিলবার্গ অবশ্য জানিয়েছিলেন, সিক্যুয়েলের প্লট তখনও পরিষ্কার নয় তাঁদের কাছে। পরিচালক ব্যারি সনেনফেল্ড একবার বললেন, সিরিজের পরের ছবিতে উইলের জায়গায় তাঁর ছেলে জেডন স্মিথকে ভেবেছেন তিনি! এরপর ২০১৪ সালে ‘মেন ইন ব্ল্যাক’ এবং ‘জাম্প স্ট্রিট’এর ক্রসওভার করার কথাও ভাবা হয়। ‘এমআইবি ২৩’ নামে সেই ছবির ভবিষ্যতও অনিশ্চিত। মূল ছবির ১৫ বছর পর তৈরি হয়েছিল সিরিজের তৃতীয় ছবি। কাজেই পরবর্তী ছবির জন্য অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হওয়াটা আশ্চর্যের নয়!

 

রিও
প্রথম ছবির তুমুল জনপ্রিয়তার পর ‘রিও টু’তে ব্লু, জুয়েল লিন্ডাদের আমাজন অভিযান মোহিত করেছিল খুদেদের। বড়রাও বাদ যাননি অবশ্য। মজার বিষয় হল, পরিচালক কার্লোস সালডান্‌হা প্রথমে ম্যাকাওয়ের বদলে পেঙ্গুইনের কথা ভেবেছিলেন! ‘হ্যাপি ফিট’ এবং ‘সার্ফস আপ’ দেখার পর মত পাল্টাতে বাধ্য হন। ‘রিও’র অন্যতম ইউএসপি হল এর সাউন্ডট্র্যাক। গল্পের পাশাপাশি গানের জন্যেও বহু পুরস্কার জিতেছে ছবি দু’টি। পরিচালক জানিয়েছেন, ব্লু আর তার দলবলকে নিয়ে আরও অনেক গল্প জমে রয়েছে তাঁর কাছে। তাই 
‘রিও থ্রি’র সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না মোটেই।

 

ওশ্যান’স সিরিজ
১৯৬০ সালের ছবির রিমেক হল ২০০১ সালে। ‘ওশ্যান’স ইলেভেন’ নতুনভাবে তৈরি হওয়ার পর তার জনপ্রিয়তা দেখে ট্রিলজি বানিয়ে ফেলতে দেরি করেনি ওয়ার্নার ব্রাদার্স। কিন্তু ২০০৮’এ বার্নি ম্যাকের মৃত্যুতে ‘ওশ্যান ফোরটিন’এর সম্ভাবনা বাতিল করে দেন পরিচালক স্টিভেন সডারবার্গ এবং জর্জ ক্লুনি। এরপর শুধু মহিলাদের নিয়ে ওশ্যান’স সিরিজ রি-বুট’এর পরিকল্পনাও হয়েছিল। যেখানে মুখ্য চরিত্রে ভাবা হয়েছিল স্যান্ড্রা বুলককে। তবে নতুন করে ওশ্যান’স সিরিজ দেখার ইচ্ছে থাকলে সম্ভবত ব্র্যাড পিট, ম্যাট ডেমন, জুলিয়া রবার্টস, ক্যাথরিন জিটা-জোন্‌স, জর্জ ক্লুনিদেরই আবার দেখতে চাইবেন দর্শক।

দ্য ক্যারাটে কিড
প্রথমবার ‘দ্য ক্যারাটে কিড’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮৪ সালে। এবং আশির দশকেই তৈরি হয়ে যায় পর পর তিনটে সিক্যুয়েল! তবে জ্যাকি চ্যান-জেডন স্মিথের ‘দ্য ক্যারাটে কিড’ মনে রেখে দিয়েছেন দর্শক। মূল ছবির গল্প অনুসরণেই চিত্রনাট্য লিখেছিলেন ক্রিস্টোফার মার্ফি। তবে ক্যারাটের বদলে ছিল কুং ফু। মার্শাল আর্টের চেয়েও অধ্যবসায় আর আত্মরক্ষার জরুরি কিছু পাঠ শিখিয়েছিল এই ছবি। ২০১৪ সালে নতুন করে সিক্যুয়েল তৈরির জন্য নিক পামারকে স্ক্রিপ্ট লেখার কথা বলা হয়। মুখ্য চরিত্রে সেই জ্যাকি, জেডন এবং তারাজি পি হেনসনকে ভাবা হয় আরও একবার। তবে আদৌ কবে পরবর্তী ক্যারাটে কিডের দেখা মিলবে, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না।

রাশ আওয়ার
জ্যাকি চ্যান-ক্রিস টাকার জুটিকে দর্শক শেষবার দেখেছিলেন ২০০৭ সালে। যদিও এই অ্যাকশন-কমেডি সিরিজের দ্বিতীয় ছবিটিই সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছিল। ‘রাশ আওয়ার থ্রি’র পর সিক্যুয়েল বানানোর ভাবনা ছিল পরিচালক ব্রেট র‌্যাটনারের। আপাতত প্রযোজক চাইলেও ভাল চিত্রনাট্যের অভাবে থমকে আছে সিক্যুয়েল। তবে ‘রাশ আওয়ার ফোর’এর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্বয়ং জ্যাকি চ্যানও। কাজেই দর্শক অপেক্ষা করতেই পারেন।