কোচ বিতর্ক নিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ নাটক দেখেছে ভারতীয় ক্রিকেট মহল। অনেক টালবাহানার পরে শাস্ত্রীকেই কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে বিসিসিআই। কোচ নিয়োগের পরে সহকারী নিয়োগ নিয়ে আবার একপ্রস্থ গোলমাল পোহাতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত শাস্ত্রীর পছন্দ মতোই ভরত অরুণ ও সঞ্জয় বাঙ্গারকে যথাক্রমে কোচিং স্টাফে আনা হয়েছে। ব্যাটিং কোচ থেকে ‘প্রমোশন’ পেয়ে বাঙ্গার আপাতত শাস্ত্রীর ডেপুটি। ফিল্ডিং কোচ হয়েছেন আর শ্রীধর। জাহির খান ও রাহুল দ্রাবিড়ের ভূমিকা কী হতে চলেছে, তা এখনও স্পষ্ট ইঙ্গিত আসেনি বোর্ড থেকে।

এতেই শুরু হয়েছে জল্পনা। প্রথমে কোচ নিয়োগের দিন শাস্ত্রীর সঙ্গে সফরকালীন ব্যাটিং ও বোলিং কোচ হিসেবে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল জাহির খান ও রাহুল দ্রাবিড়ের নাম। তার পরে ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আবার ১৮০ ডিগ্রি ডিগবাজি খেয়ে বোর্ডের তরফে ‘সংশোধিত’ ই-মেলে জানানো হয় পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করবেন রাহুল-জাহির। এর পরেই আবার বাঙ্গার, অরুণ, আর শ্রীধরকে শাস্ত্রীর কোচিং স্টাফে নিয়োগ করা হয়। তার পরেই স্পষ্ট হয়ে যায় পুরনো সংসার নিয়েই শাস্ত্রী কোচিং করাবেন জাতীয় দলকে।

দ্রাবিড়-জাহিরদের ভাগ্যে কী রয়েছে। — এএফপি

কোচ নিয়োগ নিয়ে এমন নাটকের মধ্যেই সর্বভারতীয় প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে শুধু শাস্ত্রীই নন, জাহির-দ্রাবিড়কে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে যুক্ত করতে উৎসাহী নন স্বয়ং বিরাট কোহলিই। সেই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, যা ভাবা হয়েছিল যে সফরকালীন ভিত্তিতে ব্যাটিং ও বোলিং পরামর্শদাতা হিসেবে রাহুল দ্রাবিড় ও জাহির খানকে নিয়োগ করা হবে, তা আপাতত বিশ বাঁও জলে। কারণ, শাস্ত্রী ও বিরাট দু’জনেই চান না জাতীয় দলে দুই তারকা আসুন।

কোচ নির্বাচনের সময়ে কোহলির ‘শাস্ত্রী লাও’ দাবির সামনে ক্রিকেট অ্যাডভাইসারি কমিটি মাথা নত করলেও, সৌরভের শর্ত ছিল জাহির-দ্রাবিড়কে সহকারী হিসেবে নিয়োগ করতে হবে। পরে সহকারী নিয়ে টালবাহানা চলার সময়েও সৌরভ-সচিন-লক্ষ্মণের সিএসি কমিটি বিস্ফোরক চিঠিতে শাস্ত্রীর অনৈতিক হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সুকৌশলী চালে শাস্ত্রী সৌরভকে টেক্কা দিলেন শেষপর্যন্ত, এটা এখন দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার।