শুক্রবারই আইডিয়া সেলুলার ও ভোডাফোন ইন্ডিয়া মিলে হয়ে গেল ভোডাফোন-আইডিয়া লিমিটেড। এখন তারাই ভারতের সবচেয়ে বড় টেলিকম কোম্পানি। মোট গ্রাহকের সংখ্যা ৪০ কোটি ৮ লক্ষ। এয়ারটেলকে ছাপিয়ে গেল তারা।

অনেকটাই পিছনে জিও। কিন্তু যেভাবে তারা ভোডাফোন-আইডিয়াকে স্বাগত জানাল তাতে মুকেশ অম্বানীর সংস্থার রসবোধেরই পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। তবে সঙ্গে মৃদু ঠেসও রয়েছে।

আসলে ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার বিকেল নাগাদ আইডিয়ার টুইট দিয়ে। আইডিয়া লিখেছিল, ‘‘এই ভোডাফোন, সবাই আমাদের নিয়ে কথা বলছে।’’

সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেওয়া হয় ভোডাফোনের তরফে। আইডিয়ার টুইটের প্রত্যুত্তরে ভোডাফোন লেখে, ‘‘হ্যাঁ, আইডিয়া। এবার সরকারি ভাবে জানানোর সময় এসে গিয়েছে।’’

সরকারি ভাবে এটাই জানানোর সময় এসেছিল যে, ভোডাফোন ও আইডিয়া অবশেষে তাদের সংযুক্তিকরণ সম্পূর্ণ করেছে। এদিন থেকেই নতুন কোম্পানি ভোডাফোন আইডিয়া লিমিটেড চলা শুরু করল।

কিন্তু রিলায়েন্স জিও-ই বা পিছিয়ে থাকে কী করে। নতুন কোম্পানির ‘টুইটার-খুনসুটির’ মধ্যে তারাও ঢুকে পড়ে। 

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রিলায়েন্সের তরফে টুইট করা হয়, ‘‘২০১৬ সাল থেকে লোকজনদের এক সঙ্গে আনার কাজ করছি। জিও-র থেকে ভালবাসা রইল ভোডাফোন ও আইডিয়াকে।’’

আসলে রিলায়েন্স জিও বাজারে আসার পর থেকেই ভারতের টেলিকম ক্ষেত্রে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। জিও কম দামে মোবাইল পরিষেবা দিতে শুরু করায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি। তারই ফল হিসেবে আইডিয়া ও ভোডাফোনকে এক ছাতার তলায় আসতে হয়েছে।

সেই ইঙ্গিতই দিয়েছে জিও-র টুইট। অন্য দিকে এয়ারটেল তাদের এক নম্বর স্থান হারিয়েও রসবোধ জারি রেখেছে।

ভোডাফোন-আইডিয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে তারা লিখেছে, ‘‘তোমাদের শুভেচ্ছা। এক নম্বর স্থানে স্বাগত। আমরা জানি এর অনুভূতি কেমন হয়।’’

এতদিন গ্রাহক সংখ্যার বিচারে এয়ারটেলই এক নম্বরে ছিল। এবার সেই স্থানে নতুন কোম্পানি চলে আসায় এক নম্বর জায়গা হারাতে হল এয়ারটেলকে।

তবে সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেনি ভোডাফোন। শনিবার সকালেই তারা টুইট করে, ‘‘যারা ‘দেরি করে’ বা ‘গেট ক্র্যাশ’ করেছে, তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাই।’’