কোন শব্দটি সবচেয়ে বেশি বলা হয়? কোন শব্দটি লেখা হয় সর্বাধিক? যে কোনও ভাষার ক্ষেত্রেই এমন গবেষণা চালানো সহজ কাজ নয়। বিপুল সংখ্যক শব্দের ভাণ্ডার জোগাড় করে, তার উপর সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে তবেই সম্ভাব্য উত্তরে পৌঁছনো যায়। এই শব্দভাণ্ডার বা পরিভাষায় যাকে বলে ‘করপাস’, তা সংগ্রহও করতে হয় নানা ক্ষেত্র থেকে। তা যত বড় হবে, গবেষণার ফলও হবে তত নিখুঁত।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

ইংরেজি ভাষার ক্ষেত্রে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় এই গবেষণা চালিয়েছিল বছর ষাটেক আগে। প্রথম স্থানে ছিল ‘the’। অর্থাৎ, তাঁদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইংরেজি লেখায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ‘the’ শব্দটি। দু’নম্বরে ‘of’।

একই ভাবে গত আট-নয়ের দশকে বাংলা ভাষা নিয়ে এই কাজ চালাতে থাকে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউট। গোটা গবেষণাটির তত্ত্বাবধানে থাকেন জে সি বোস ফেলো ও আইএনএই ডিস্টিংগুইশড প্রোফেসর বিদ্যুৎবরণ চৌধুরী। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, সংবাদ ইত্যাদি নানা ধরনের লিখিত নমুনা থেকে তিরিশ লক্ষ শব্দ বেছে নিয়ে কাজটি হয়। দেখা যায়, ‘না’ বলতেই আমরা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি! সর্বাধিক ব্যবহৃত বাংলা শব্দ — ‘না’।

সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পাঁচটি শব্দ। গ্রাফিক্স : অভিজিৎ বিশ্বাস

আমাদের ‘না’ লেখার অভ্যেস কেমন, তা-ও দেখিয়েছে গবেষণা। রবি ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’-তে গড়ে প্রতি ৭২টি শব্দে এক বার করে ‘না’ এসেছে। শঙ্খ ঘোষের ‘বাবরের প্রার্থনা’ বইতে ‘না’ এসেছে আরও বেশি। গড়ে প্রতি ৬০ শব্দে একটি ‘না’। জয় গোস্বামীর ‘যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল’ আরও না-বহুল। গড়ে ৫০ শব্দে একটি।

এর পরেও বাংলা শব্দ নিয়ে এই ধরনের কাজ করা হয়েছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে শব্দভাণ্ডার এমন সুষম না থাকায় ফল ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম বলেই অধ্যাপক বিদ্যুৎবরণ চৌধুরীর মত। লিখিত শব্দের ভাণ্ডার নিয়ে এই গবেষণা চালানোর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অনুমান করছেন, মুখে বলা শব্দের ক্ষেত্রে এই ফল অটুট থাকবে না। সেক্ষেত্রে ‘না’-এর বদলে ‘আমি’ শব্দের প্রথম স্থানে উঠে আসার সম্ভাবনা প্রবল। তা হলে কি বাঙালি কেবল নেতিবাদীই নয়, যথেষ্ট আত্মসর্বস্বও?