কুরুক্ষেত্র যু্দ্ধে এক সময়ে অর্জুন তাঁর অস্ত্র ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়েন এই বলে যে, তাঁর আত্মীয়দের সঙ্গে তিনি যুদ্ধ করবেন না। তখন শ্রীকৃষ্ণই তাঁকে বোঝাতে শুরু করেন কেন এই যুদ্ধের প্রয়োজন ও জীবনের নানা আঙ্গিক। 

শ্রীকৃষ্ণের সেই বাণীই জীবনের সার সত্য বলে বিবেচিত হয় এবং ভগবত গীতা রূপে তা স্থান করে নিয়েছে বিশ্ববাসীর কাছে। বলা হয়, কৃষ্ণ-অর্জুনের সেই কথপোকথন চলাকালীন সময় থেমে গিয়েছিল। এবং দ্বাপর যুগ শেষ হয়েছিল কুরুক্ষেত্র যু্দ্ধ দিয়েই। 

শ্রীকৃষ্ণ তাঁর নশ্বর দেহ ত্যাগ করার পর থেকেই কলিযুগের বাড়বাড়ন্ত শুরু হয় বলে মনে করা হয়। যদিও এই শেষ যুগ শুরু হয়েছিল কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ চলাকালীনই।

বৈদিক গণনা বলছে, কলিযুগ যখন তার শীর্ষে পৌঁছবে, তখন পৃথিবীতে ধ্বংসলীলা চলবে। শুধু যে মানুষে মানুষে মারামারি-হানাহানি হবে তাই-ই নয়, ঘটবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও। ইঙ্গিত খুব স্পষ্টই যে, পৃথিবী সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যাবে।

কিন্তু, তার পর কী?

কলিযুগের শেষে আবারও সময় থেমে যাবে বলে মনে করা হয়। ধ্বংসলীলার শেষে সমগ্র বিশ্ব এক অন্ধকার জগতে পরিণত হবে। প্রত্যেকটি মানুষকে তখন ভাবতে হবে এমন ‘নেগেটিভিটি’ থেকে আমরা কী শিখলাম। অবিশ্বাস, অসহিষ্ণুতা, ঈর্ষা, দ্বেষের মতো মানসিকতা নিয়ে জীবন চলতে পারে না। বরং নিজের কাজের মধ্যে দিয়ে শ্রদ্ধা, ভক্তি, বিশ্বাস গড়ে তোলাই আসল ব্যাপার।

সেই ভাবেই পৃথিবীতে আবারও ফিরে আসবে আলোর দিশা— সত্যযুগ।