বন‌্ধ খুব একটা অপছন্দের নয় বাংলার। অনেক অনেক বন‌্ধ সফল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে এই রাজ্য। কখনও কখনও সরকারি ভাবে বন‌্ধ সফল করার প্রেরণাও মিলেছে। বামেদের ডাকা এমন অনেক ভারত বন‌্ধ হয়েছে, যেখানে দেশের অন্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি সাফল্য মিলেছে পশ্চিমবঙ্গে। সেই একই সময়ে বাম সরকার বিরোধীদের বন‌্ধ ব্যর্থ করার কিছু কিছু উদ্যোগ নিলেও কার্যত বাংলা দেখিয়ে দিয়েছে বন‌্ধ কাকে বলে। অফিস-কাছারি, স্কুল-কলেজ, ব্যাঙ্ক-বাজার সর্বত্র দিনভর তালা ঝুলেছে। রাজপথ বাইশ গজের রূপ নিয়ে ক্রিকেটে মেতেছে।

বিরোধী নেত্রী হিসেবে নিজে অনেক বন‌্ধ ডাকলেও প্রশাসক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই কর্মনাশা সংস্কৃতির প্রতি বিরোধী মনোভাব দেখিয়েছেন। সরকারি পরিবহণ কার্যকর রাখা, অফিস-কাছারিতে উপস্থিতি বাধ্যমূলক করা, বেতন কাটার সার্কুলার দেওয়া কিংবা রাতে সরকারি কর্মীদের অফিসে থাকার ব্যবস্থাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ‘পরিবর্তন’ অবশ্যই দেখেছে রাজ্য। কিন্তু তাতেও কি ‘বন‌্ধ সংস্কৃতি’কে একশো শতাংশ ধাক্কা দেওয়া গিয়েছে? সাম্প্রতিক কালে বেশ কয়েকটি বন‌্ধ প্রতিহত করতে কড়া হাতে মোকাবিলা করতে চেয়েছে রাজ্য সরকার। তবু শুক্র বা সোমবারের বন‌্ধ-কে কাজে লাগিয়ে পাবলিকের তিন দিনের দিঘা সফর কমানো যায়নি।

এ বার বন‌্ধ-এর ডাক দিয়েছে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)। আগামী ১৭ জুলাই সোমবার ১২ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট ও হরতাল এককথায় বন‌্ধ পালনের ডাক দিয়েছে বামপন্থী দল এসইউসিআই। মূল দলের সঙ্গে জোর প্রচারে নেমেছে ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও। 

সাম্প্রতিক কালে ন’বার ধর্মঘট ডেকেছে এসইউসিআই। সাংগঠনিক ভাবে এসইউসিআই দুর্বল হলেও বাংলার বন‌্ধ ইতিহাস জানে, ১৯৯৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সর্বাত্মক ধর্মঘট হয়েছিল এই দলের ডাকেই। সেই সাফল্যের পিছনে এসইউসিআই-এর ক্ষমতা না রাজ্যবাসীর বন‌্ধ-প্রীতির ফল তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল, রয়েছে।

এ বার বন‌্ধ ডাকার পিছনে এসইউসিআই-এর মূল দাবি, প্রথম শ্রেণি থেকে পাশ-ফেল চালু। এ ছাড়াও বন্ধ চা বাগান থেকে বেকার ভাতা, চিটফান্ড থেকে আরও অনেক অনেক দাবি রয়েছে। কিন্তু সেই সব দাবিতে ডাকা বন‌্ধ সফল হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে রাজ্য। সরকার সচেষ্ট হলেও বন‌্ধ পুরোপুরি ব্যর্থ করা যাবে কি?