ঘরিতে ঠিক তিনটে। টিফিন পিরিয়ডের পরের ক্লাসগুলো করার ‘জ্বালা’ ভালমতোই বোঝে হাই স্কুলের পড়ুয়ারা। যে স্কুলে প্রতিদিন তিনটের সময়ে ঘর ফাঁকা হয়ে যায়, আজ সেই ক্লাসরুমের একেবারে অন্য চেহারা। ক্লাসের মধ্যেই ঠাসাঠাসি করে বসে রয়েছে সব ছাত্ররা। কারণ, আজ প্রিয় ম্যাডামের ভূগোল ক্লাস। আর যাই হোক, এই ক্লাস তো কিছুতেই মিস করা যায় না!

শুধু ওই নির্দিষ্ট স্কুলটিই নয়। প্রায় প্রত্যেকটি স্কুলেই এমন দৃশ্য দেখা যায়। যেখানে স্কুলের শিক্ষিকার ‘প্রেমে’ ছাত্ররা কিংবা শিক্ষকের ‘প্রেমে’ ছাত্রীরা হাবুডুবু খায়। সেই শিক্ষক/শিক্ষিকার ক্লাসে পড়ার চেয়ে তাঁর দিকে কাটিয়েই সময় কাটিয়ে দেয় পড়ুয়ারা।

‘‘হ্যাঁ আছে তো... হাতা গোটানো ব্লু শার্ট...সেই পাতলা চুল, লম্বা, ফর্সা, মুখটার সঙ্গে আলাপ ঠিক ফেব্রুয়ারি মাসের ১৩ তারিখ। না বুঝেই ভাল লাগাপ্রত্যেকটা দিনের সেই হাসি টার জন্যই যাওয়া... হয়তো সাব্জেক্ট টার প্রতি সেই আকর্ষণ টাও তার ই জন্য..ফার্স্ট রো তে বসা..প্রতিটা গানের মধ্যমনি করে তাকে ভেবে নেওয়া....সেই ছোটো বেলার না বোঝা প্রেম আর বড়ো বেলার ক্রাশের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ টা হয়তো যোগাযোগ বিহীন তবুও..মনের ঘরে তার নিত্য যাতায়াত বাঁধাহীন....😊’’ শ্রেয়শী দে,  এবেলা.ইনের পাঠক 
‘‘আমার ও একজন ক্রাশ ছিলেন যাকে দেখলে 'কুছ কুছ হোতা হ‍্যায়' হত,তবে নাম নেওয়া যাবেনা,বর্তমানে তিনি একজন বিখ্যাত মানুষ ’’ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক, এবেলা.ইন পাঠক

শিক্ষক দিবস কিংবা সরস্বতী পুজোর দিনে যখন বিদ্যালযয়ের আঙিনায় শাড়ি পড়ে পা রাখেন ম্যাডাম, তখন বুকের মধ্যে যে ধুকপুকুনি শুরু হয়ে তা বুঝতে গেলে বাঙালি হওয়াটা একান্ত প্রয়োজন। অন্য সংস্কৃতিতে টিচারের প্রতি এমন মনোভাব দেখা যায় ঠিকই, তবে তাতে তো আর সরস্বতী পুজোর বাসন্তী রং মিশে থাকে না!

শাহরুখ খানের ‘ম্যায় হুঁ না’ (২০০৪) ছবিতে এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছে। যেখান ছাত্র শাহরুখ খান শিক্ষিকা সুস্মিতা সেনের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন। শেষে অবশ্য সুস্মিতার মনও জিতে নেন কিং খান।

তবে বাঙালি পড়ুয়ারা তাদের প্রিয় শিক্ষক-শিক্ষিকার মন জিততে কসুর করে না। চলে অনেক রকম চেষ্টা। কিন্তু এদিকে তো আবার ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ও রয়েছে। রয়েছে গার্জিয়ান কলের ভয়। তাই এই একতরফা প্রেমের নিষ্পত্তি হয় খুব দ্রুত, স্কুল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই।

শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে মনে পড়তেই পারে স্কুল জীবনের এমন ‘ক্রাশ’-র কথা। তাদের কথা মাথায় রেখেই রইল এই প্রতিবেদন। আপনারও কি মনে পড়ে এমন কারোকে? পড়লে, খুলে বলেই ফেলুন।