মরে গিয়ে আপনি যে ভূত হবেনই, তেমন কোনও গ্যারান্টি নেই। তবে, একথা আমরা জানি যে, মানুষ মরে গিয়েই ভূত হয়। এবং কিছু দিন পরে প্রেতদশা থেকে মুক্তি ঘটে। কতদিনে সেই মুক্তিটি ঘটে, তা অবশ্য কেউই বলতে পারেন না। তবে, যদ্দিন মুক্তি না ঘটছে, তদ্দিন আপনি ভূত। ভৌতিক সাহিত্য পড়ে আমারা এটা জানি যে, ভূত একরকমের হয় না। বিলেতে যেমন ভূতের বিস্তর রকমফের রয়েছে, আমাদের বঙ্গভূমেও তেনাদের রকমফের কিছু কম নয়।

কেন এত বিপুল বৈচিত্র ভূত-জগতে? এই প্রশ্ন করলে বহু ভূত-বিশারদ বলে থাকেন, ইহজন্মের স্বভাবই নাকি পরলোকে ছায়া ফেলে। এই জীবনে আপনি যেমন আচরণ করে চলেছেন, সেই অনুযায়ী নাকি আপনার প্রেতদশার চরিত্রও নির্দিষ্ট হয়ে রয়েছে।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

এখানে একটি তালিকা পেশ করা হল। কোন স্বভাবগুণ আপনাকে কোন প্রেতদশার দিকে নিয়ে যেতে পারে, তা এখান থেকে মিলিয়ে নিতে পারেন।

১. শাঁখচুন্নি— আপনি তেমনই একজন নারী, যিনি ঘ্যান ঘ্যান করেন, খুঁত খুঁত করেন। আপনার ঘ্যান ঘ্যান খুঁত খুঁতের জ্বালায় বাড়ির লোক তটস্থ। আপনার গতি শাঁখচুন্নির দিকেই।

২. মেছোভূত— অতিরিক্ত মাত্রায় মাছ ভালবাসেন? পাতে মাছ না থাকলে মুখে ভাত ওঠে না? একদিন মাছ রান্না না হলে বাড়ি মাথায় তোলেন অথবা গোসাঘরে খিল দেন? এই প্রেতদশা আপনার জন্য অপেক্ষারত।

৩. স্কন্ধকাটা— নিজেকে দারুণ বুদ্ধিমান ভাবেন? মনে করেন, আপনার থেকে বেশি বুদ্ধি আর কারোর মাথাতেই নেই? মাথা নিয়ে এত গর্ব আপনাকে স্কন্ধকাটা দশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, মনে রাখবেন।

৪. কানাভুলো— প্রায়শই রাস্তা হারান? জিনিস এক জায়গায় রেখে অন্যত্র খুঁজে হয়রান হন প্রায়শই? বাংলার এই প্রাচীন প্রেতদশার দিকে আপনার জন্য কার্পেট বিছানো।

৫. বোবাভূত— একা থাকতে ভালবাসেন? এতটাই একা থাকার বাসনা যে, লোকে আপনাকে ‘অসামাজিক’ বলে পিছনে? কথা কম বলতে বলতে আপনি এই জন্মেই ভুতুড়ে হয়ে রয়েছেন। আপনার পরিণতি শেষমেশ বোবাভূত।

৬. যখ— অতিরিক্ত হিসেবি কি আপনি? মানে, লোকে আড়ালে আপনাকে কি ‘কৃপণ’ বলে ডাকে? সাবধান! যখের ধন সামলানোই আপনার ভবিতব্য।

৭. ব্রহ্মদৈত্য— না, কেবল ব্রাহ্মণ মরেই ব্রহ্মদৈত্য হয় না। নিজেকে অতিরিক্ত শুদ্ধ ভাবেন, শুচিবায়ুগ্রস্ততা প্রায় কিংবদন্তির লেভেলে, লোককে জ্ঞান চিতে পারলে আর কিছুই চান না, এই সব ‘বামনাই’ থাকলেই আপনি সো-জা বেলগাছে।

বিধিসম্মত সতর্কীকরণ: এই লেখা নিছকই একটি রসিকতা। একে সিরিয়াসলি নিলে আপনার গতি বুদ্ধুভূত দশার দিকে। ফলে...