গল্পটা বেশ এগোচ্ছিল। নায়ক-নায়িকার বিয়ে, শ্বশুরবাড়ি পর্বের নানা জটিলতা, ভাশুর-ননদ বা দূর সম্পর্কের তুতো পিসিমার উড়ে এসে জুড়ে বসা ভাংচি ইত্যাদি। তার পর একদিন হঠাৎ অপঘাত অথবা চক্রান্ত এবং প্রধান চরিত্র উধাও বেশ কয়েকদিনের জন্য। কখনও দিন সাতেক, কখনও দিন পনেরো আবার কখনও মাসখানেক। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

তার পরে গল্প কোন দিকে বাঁক নিতে পারে তা এতদিনে বাংলা টেলিভিশনের দর্শক জেনে গিয়েছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মুখ্য চরিত্রের মৃত্যু হয় না, জলে ঝাঁপই দিক বা গুদোমঘরে আগুন লাগুক। হয় সে প্লাস্টিক সার্জারি করে ফিরে আসে সম্পূর্ণ অন্য চেহারায় (উদাহরণ: ‘মিলনতিথি’), নয়তো ছদ্মবেশ নিয়ে ফেরে (উদাহরণ: ‘কে আপন কে পর’) অথবা সে মেকওভার করে অন্য পরিচয় নিয়ে আসে দর্শক এবং পরিবার সবাইকে কনফিউজ করতে (উদাহরণ: ‘রেশম ঝাঁপি’)।  

এই তিনটি ধারাবাহিক ছাড়াও আরও ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে। সম্প্রতি ‘জয়ী’ ধারাবাহিকেও এমনই একটি ট্রেন্ড দেখা গিয়েছে। আগুনে পুড়ে জয়ী মারা যায়নি, ফিরে এসেছে ‘জেসিকা’ হয়ে। একটি দু’টি নয় বা কোনও বিশেষ চ্যানেলের কোনও নির্দিষ্ট ধারাবাহিক নয়, এই ট্রেন্ড যেন সর্বজনীন। তালিকায় অবশ্যই বাদ পড়বে সাহিত্যধর্মী, বায়োপিকধর্মী, ফ্যান্টাসি এবং পৌরাণিক ধারাবাহিকগুলি। কারণ সেখানে গল্পে এমন জারিজুরি করার উপায় নেই। 

এখন প্রশ্ন হল এমন কাণ্ড কেন? ধারাবাহিকের টিআরপি অর্থাৎ ভিউয়ারশিপ ধরে রাখতে গল্পে নানা টুইস্ট আনতে হয়, নতুন নতুন ক্রাইসিস তৈরি করতে হয়। সেটা যাঁরা গল্প-চিত্রনাট্য লেখেন শুধু যে তাঁরাই জানেন তা নয়, দর্শকও জানেন। কিন্তু টুইস্টের মানে এই? দেখে মনে হয় যেন বাংলার ঘরে ঘরে প্রতি ছ’মাসে এই ঘটনা ঘটে চলেছে! 

মেগাসিরিয়াল নির্মাতারা কি একটু ভেবে দেখবেন? এই বিচিত্র ট্রেন্ড বাদ দিয়ে কি অন্য রকম টুইস্ট অ্যান্ড টার্ন ভাবা যায় না?