আর মাত্র ১৫ দিন। এর পর আপনারা সারা বাংলার প্রেক্ষাগৃহে না-ও দেখতে পেতে পারেন আপনার পছন্দের বাংলা ছবি!
এত বড় ঘটনার সবচেয়ে বড় ভিলেন আপাতত জিএসটি। ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর প্রেসিডেন্ট কৃষ্ণা দাগা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যে অতিরিক্ত ৭ শতাংশ জিএসটি-র ভার এতদিন বহন করতে হচ্ছিল সিনেমা হল মালিকদের, তা এর পর থেকে তাঁরা করবেন না।


রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সাত মাস আগে অনুরোধ ছিল, বাংলা সিনেমার টিকিটের উপর মাত্র ২ শতাংশ জিএসটি বসানো হবে। বাকি ৭ শতাংশ জিএসটি হল মালিককেই বহন করতে হবে, যা পরে রাজ্য সরকার রিফান্ড করে দেবে। সাত মাস পূর্ণ হচ্ছে এই  জানুয়ারিতে। এখনও কোনও রিটার্ন পাওয়া যায়নি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে।


‘‘এভাবে আমাদের পকেট থেকেই যদি অতিরিক্ত জিএসটি দিতে হয় তাহলে আমরা ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলা ছবি দেখানো বন্ধ করব,’’ জানালেন প্রিয়া এন্টারটেনমেন্টের মালিক অরিজিৎ দত্ত, ‘‘সরকারের পক্ষ থেকে কোনও উদ্যোগই নেওয়া হয়নি আমাদের জিএসটি রিফান্ডের। এভাবে চলতে থাকলে আমরা ক্ষতির মুখে পড়ব।’’


প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই সাত মাসে দেয় জিএসটির অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি টাকা! 

‘‘জিএসটি চালু হওয়ার আগে ২ শতাংশ কর নেওয়ার রীতি ছিল। কেন্দ্রের নিয়ম অনুসারে ৯ শতাংশ জিএসটি চালু হয় সিনেমার টিকিটের উপর। তখন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের অনুরোধ করা হয়েছিল অতিরিক্ত ৭ শতাংশ জিএসটি আমাদেরই দিতে হবে যা তাঁরা পরে রিফান্ড করে দেবেন। আমরা সেই কথায় বিশ্বাস করে এতদিন কিছুই পাইনি, কবে পাব তাও জানি না। আমরা ১৫ দিন সরকারকে সময় দিলাম। ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা ৯ শতাংশ জিএসটিই নেব জনসাধারণের কাছ থেকে। অনির্দিষ্টকালের জন্য আমরা এই ব্যয়ভার বহন করতে পারব না। বার বার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে, অর্থদফতরে ও সংস্কৃতি দফতরে আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। কোনও লাভ হয়নি। তাই এই পথ ছাড়া আর কোনও গতি নেই।’’ জানালেন ইম্পার একজিকিউটিভ সদস্য শ্যামল চন্দ।

সত্যিই সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ না করা হলে বিশ বাঁও জলে নতুন বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ!