আয়করের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীর মধ্যে একটা বড় ফারাক রয়েছে। এক জন ব্যবসায়ীর পক্ষে কর বাঁচানোর জন্য নানা রকম খরচ দেখানোর উপায় আছে। কিন্তু চাকরিজীবীর সে উপায় নেই। তার কর তার অফিসই টিডিএস হিসেবে কেটে নেয়। অন্য দিকে অনেক ক্ষেত্রের ছাড় বছরের পর বছর একই থেকে যায়। এবার অরুণ জেটলি কি সে সব থেকে মুক্তি দেবেন?

কিছু কিছু ক্ষেত্রের ছাড় ইদানীংকালে বাড়ানো হলেও অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখা উচিত। ১৯৯৭-৯৮ আর্থিক বছর থেকে চাকরিজীবীদের ট্রান্সপোর্ট অ্যালাউন্স হিসেবে ছাড় ছিল মাসিক ৮০০ টাকা। গত বাজেটে সেটা দ্বিগুণ করে ১,৬০০ টাকা করা হয়েছে। যদিও এই মুহূর্তের বাজার দর অনুসারে ওই ছাড় মাসে ২,৬০০ টাকা করা উচিত। কারণ, ইতিমধ্যেই অটো থেকে ট্রেন সবেরই ভাড়া বেড়েছে।

৮০ সি ধারায় পিপিএফ, এনএসসি-তে বিনিয়োগ কিংবা গৃহঋণ শোধের জন্য ২০০৫-০৬ সাল থেকে ১ লক্ষ টাকা ছাড় চালু হয়। সেটা ৯ বছর পরে ১০১৪-১৫ আর্থিক বর্ষে সর্বোচ্চ ১.৫ লাখ টাকা করা হয়। কিন্তু বর্তমান মূদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রাখলে এই ছাড় ২ লাখ ১৭ হাজার টাকা হওয়া উচিত বলে মনে করছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসার খরচ হু হু করে বেড়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মেডিক্যাল রিইমবার্সমেন্ট হিসেবে সর্বোচ্চ ছাড় পাওয়া যায় ১৫ হাজার টাকা। সম্প্রতি অর্থ-বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি এই ছাড় ৫০ হাজার টাকা করার কথা বলেছে। সেই সঙ্গে অবশ্য, লিভ ট্রাভেলস অ্যালাউন্স (এলটিএ) বাবদ ছাড় বন্ধ করারও পরামর্শ দিয়েছে স্ট্যান্ডিং কমিটি। এই ছাড় পাওয়া যায় চার বছরে দু’বার। এটি কি তুলে দেবেন জেটলি? নাকি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এই ছাড় বছরে একবার করা হবে?

গৃহঋণে সুদ দেওয়ার জন্য বছরে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়। তবে কোনও বাড়ি তৈরি হতে তিন বছরের বেশি সময় লাগলে ছাড় হয়ে যাবে ৩০ হাজার টাকা। বহু ক্ষেত্রেই বিভিন্ন গৃহ প্রকল্পের কাজ শেষ হতে তিন বছরের বেশি সময় লাগে। এ ক্ষেত্রে করদাতার কোনও দোষ না থাকলেও তাকেই ক্ষতি স্বীকার করতে হয়।

এবারের সাধারণ বাজেটে এই সব বিষয় নিয়ে কি ভাববেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী?