সেনাবাহিনীতে মহিলাদের সংখ্যাবৃদ্ধির কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পর্রীকর। আর বায়ুসেনার এক আধিকারিক অভিযোগ করছেন, মহিলা হওয়ায় তিনি ন্যায্য সম্মান পাচ্ছেন না। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়া বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার পূজা ঠাকুর বৈষ্যমের অভিযোগ এনে সেনা ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন।

২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে এসেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সেখানে তাঁকে ‘গার্ড অফ অনার’ দিয়েছিলেন পূজা। কিন্তু এখন তাঁর অভিযোগ, তাঁকে স্থায়ী নিয়োগ (পার্মানেন্ট কমিশন) করা হচ্ছে না। বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে ‘বৈষম্যমূলক’ আচরণ করছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে বায়ুসেনার ব্যাখ্যা চেয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

পূজার আইনজীবী সুধাংশু পাণ্ডে আজ জানিয়েছেন, বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষের যুক্তি, তাঁরা ২০১২ সালে যখন পূজাকে স্থায়ী নিয়োগ করতে চেয়েছিলেন, তখন তিনি রাজি হননি। তাই এখন আর তাঁকে স্থায়ী নিয়োগ করা যাবে না। কারণ, নতুন করে স্থায়ী নিয়োগের কোনও ব্যবস্থা নেই। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন পূজা। তাঁর আইনজীবীর পাল্টা দাবি, বায়ুসেনার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। পূজা মহিলা বলেই তাঁকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, মহিলা অফিসারদের স্থায়ী নিয়োগ করা হলে তাঁরা পুরুষ অফিসারদের মতোই লেফটেন্যান্ট জেনারেল পর্যন্ত পদোন্নতির সুবিধা পাবেন। তাঁদের অবসরের বয়স হবে ৬০ বছর এবং অবসরের পরেও যাবতীয় সুযোগসুবিধা পাবেন। 

২০১০ সালের আগে পর্যন্ত ভারতীয় সেনার মহিলা আধিকারিকদের স্থায়ী নিয়োগের রীতি ছিল না। সেই বছর ভারতীয় সেনার ৫০ জন মহিলা আধিকারিক (যার মধ্যে ২২ জন বায়ুসেনার) স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে আদালতে মামলা করেন। তারপর থেকে মহিলাদের স্থায়ী নিয়োগ চালু হয়েছে। 

ওবামার সেই সফরে ভারতীয় সেনার তিনটি বিভাগ থেকেই মহিলা আধিকারিকেরা ‘গার্ড অফ অনার’ দিয়েছিলেন। বায়ুসেনার তরফে ছিলেন পূজা। সেই প্রথম মহিলা আধিকারিকেরা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেন। ওবামা পরে আলাদা করে তাঁদের প্রশংসাও করেছিলেন।

সেনাবাহিনীতে মহিলাদের সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসাবে সম্প্রতি তিন মহিলাকে যুদ্ধবিমানের পাইলট হিসাবেও নিয়োগ করা হয়েছে। পূজার আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছেন, এই উদ্যোগ সত্ত্বেও ভারতীয় বায়ুসেনায় মহিলাদের প্রাপ্য সম্মান থেকে এখনও বঞ্চিত করা হয়।