ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়েই এবার সরাসরি টক্কর। সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ (সেকুলার) শব্দটি যুক্ত করা নিয়েই আজ লোকসভায় প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ! লক্ষ্য কংগ্রেস।

পাল্টা জবাবও পেলেন। বিজেপি’র নাম না করে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীর তির্যক মন্তব্য, ‘‘সংবিধান রচনায় যাঁদের কোনও ভূমিকা নেই, তাঁরাই সংবিধানের ধারক-বাহক হতে চাইছেন! সংবিধানের আদর্শই এখন আক্রান্ত।’’  

সংবিধানের অন্যতম রচয়িতা বি আর অম্বেডকরের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ‘সংবিধান দিবস’ হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সেই উপলক্ষে আজ থেকে শুরু হওয়া শীতকালীন অধিবেশনে দু’দিন ধরে ‘সংসদে সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা’ নিয়ে আলোচনার সূচনায় রাজনাথ বলেন, ‘‘সংবিধান রচনার সময় প্রস্তাবনায় সোশ্যালিস্ট এবং সেকুলার শব্দগুলি রাখার প্রয়োজনীয়তা বি আর অম্বেডকর উপলদ্ধি করেননি। ৪২তম সংবিধান সংশোধনে শব্দ দু’টি যুক্ত করা হয়।’’ প্রসঙ্গত, ১৯৭৬ সালে সংবিধান সংশোধন করে শব্দগুলি অন্তর্ভুক্ত করেছিল ইন্দিরা গাঁধী সরকার।

রাজনাথের মতে, দেশে ‘সেকুলারিজম’ শব্দটির সবচেয়ে বেশি অপব্যবহার হয়েছে। এই শব্দের লাগাতার অপব্যবহার সমাজে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এই বক্তব্যের বিরোধিতায় সরব হন তামাম বিরোধী সাংসদেরা।

তারপর প্রায় ২৫ মিনিটের বক্তৃতায় সনিয়া বিজেপি’কে রীতিমতো তুলোধোনা করেছেন। বিজেপি’র নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর তির্যক মন্তব্য, ‘‘যাঁদের সংবিধানের উপর কোনও আস্থা নেই, তাঁরা এখন সংবিধান রচনার কৃতিত্ব নিতে চান। এর চেয়ে হাস্যকর আর কী হতে পারে!’’ আজকের দিনটি ‘দুঃখের’ বলেও মন্তব্য করেছেন সনিয়া। তাঁর কথায়, ‘‘সংবিধানের যে সব আদর্শ এত দশক ধরে আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে, এখন সেগুলির উপরেই বিপদের ছায়া। পরিকল্পিতভাবেই সেই আদর্শগুলিকে আক্রমণ করা হচ্ছে।’’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দেশে অসহিষ্ণুতার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির দিকে যেমন ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন সনিয়া, তেমন অম্বেডকরের উত্তরাধিকারের লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন বিজেপি’কে। কংগ্রেস সভানেত্রী জানিয়েছেন, কংগ্রেস অম্বেডকরকে সংবিধান রচনা কমিটির প্রধান করায় তিনি দলের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। বলেই ট্রেজারি বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে অর্থবহ হাসি! সেখানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। দেশের সংবিধান তৈরিতে জওহরলাল নেহরু, সর্দার বল্লভভাই পটেল, রাজেন্দ্র প্রসাদ এবং মৌলানা আবুল কালাম আজাদের ভূমিকারও উল্লেখ করেছেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘‘কেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসহিষ্ণুতার ঘটনা ঘটছে? প্রধানমন্ত্রী বিদেশে গিয়ে এই সব ঘটনার নিন্দা করেছেন! তিনি যদি ঘটনাগুলি নিয়ে দেশের ভিতরে মুখ খোলেন, তাহলে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া যাবে।’’

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি পরে সংসদের বাইরে বলেন, ‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকারের আসল উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়েছে। আরএসএস হিন্দু রাষ্ট্র চায়। তাই তারা ধর্মনিরপেক্ষতাকে মানতে পারে না।’’