বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো মানুষ! হ্যাঁ, শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটাই ঘটনা। এঁর জন্ম হয়েছিল ঊনিশ শতকে। গত মঙ্গলবার পালন করলেন তাঁর ১১৭তম জন্মদিন। বয়স হয়েছে ঠিকই , কিন্তু ফিটনেসের কোনও কমতি নেই। এখনও প্রতিদিন দু'টো কাঁচা ডিম খেয়ে স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেন ইতালির এমা মোরানো। 

১৮৯৯ সালে জন্ম হয়েছিল এমা মোরানো-র। পরিবর্তনশীল  এ পৃথিবীর বহু ঘটনার সাক্ষী রয়েছেন তিনি যা আমরা হয়তো ইতিহাসের পাতায় পড়েছি। দু'টো বিশ্বযুদ্ধসহ তিনটি শতকের ছোঁয়া পেয়েছেন এমা। তাঁর জীবদ্দশায় প্রায় ৯০ বার সরকার বদল হয়েছে ইতালির।

২৯ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন ছিল। এই বিশেষ দিনটিতে বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী এবং এমা-র চিকিৎসক-- সকলে জড় হয়েছিলেন তাঁর ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টটিতে। সকলে মিলে একটা বিশালাকার সাদা রঙের কেক উপহার দিয়েছিলেন এমাকে। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমার জীবনটা অতটাও সুখের ছিল না। আমি একটি ফ্যাক্টরিতে ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করি। তারপর ছেড়ে দিই।’ 

আরও পড়ুন

ইনিই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ? জেনে নিন এঁর দীর্ঘ আয়ুর রহস্য

সুধীরের থেকেও বড় সচিন ভক্ত এই মহিলা। আজ তিনি কোথায়?

মৃত্যুকেও পরোয়া করেন না। ভারতীয় হিসেবে এই মহিলার জন্য গর্ববোধ করবেন

কয়েকবছর আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর স্বামীর কথা যিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মারা যান। খুব কম বয়সেই তাঁর বিয়ে হয়েছিল। প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর ইচ্ছার বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে হয়। দ্বিতীয় স্বামী তাঁকে হুমকির সুরে বলেছিলেন, ‘হয় তুমি আমায় বিয়ে কর, আর নইলে আমি তোমায় মেরে ফেলব।’ ১৯৩৭ সালে তাঁদের একটি পুত্রসন্তানও হয়। কিন্তু জন্মের ছ'মাস পরেই মারা যায় সেই সন্তান। কয়েকবছর বাদে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদও হয় তাঁর।

সব মিলিয়ে নানা টানা-পোড়েন, চড়াই উৎরাই-এর মধ্যে দিয়ে গোটা জীবনটা কেটেছে এমা-র। তবে স্বাস্থ্য-সচেতনতাই তাঁর দীর্ঘায়ুর রহস্য বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।