থ্রিসাম অর্থাৎ তিনটি মানুষের রতিক্রিয়া একেবারেই মিলেনিয়াম বা ডিজিটাল যুগের আমদানি নয়। বিদেশী পর্ন ছবি দেখে অনেক ভারতীয়ই এই ভুল ধারণায় ভোগেন যে, এই বিশেষ ধরনের যৌনতা আসলে পশ্চিমী দেশের ট্রেন্ড। প্রাচ্য রতিশাস্ত্র সম্পর্কে যাঁদের কিঞ্চিৎ ধারণা রয়েছে, তাঁরা জানেন যে পশ্চিমি সংলাপের বহু আগে থেকেই চিন, জাপান, তুরস্কে সম্মিলিত যৌনতা বা গ্রুপ সেক্স প্রচলিত ছিল। তার প্রমাণ শেখ নেফুজির ‘সুরভিত উদ্যান’ বা চিনা-জাপানি কামশাস্ত্র।

ডিজিটাল যুগের থ্রিসাম আর সেযুগের ত্রয়ী মিলনের মধ্যে পার্থক্য একটাই— তখন সেটি ছিল যৌনতার একটি ‘স্বাভাবিক’ অঙ্গ। কিন্তু বিগত কয়েকশো বছর ধরে মোনোগ্যামি বা একগামিতাই সমাজস্বীকৃত। তাই কয়েকশো বছর পরে সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্বে ‘থ্রিসাম’ এক ধরনের নিষিদ্ধ যৌনতা, কোথাও কোথাও তা যৌনবিকৃতির সমার্থক। 

এমন জটিল বিষয়বস্তু নিয়েই কি তৈরি হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘থ্রি-সাম’? পরিচালক ও প্রযোজক শীর্ষেন্দু বর্মা সাউদ। অভিনয়ে প্রাক্তন মীরাক্কেল চ্যাম্পিয়ন ভিকি, শ্রুতি, অ্যানি রায় ও তারক চৌধুরী। একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ছবির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর সায়ন্তনী চট্টোপাধ্যায়। ছবির গল্পে রয়েছে একটি দারুণ টুইস্ট। তাই গল্পের সারমর্ম আগেভাগে জানাতে নারাজ পরিচালক। 

ইউটিউবে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগে পরিচালকের ইচ্ছা ছবিটি আন্তর্জাতিক ফিল্মোৎসবে পাঠানোর। ছবির বক্তব্য দর্শকের পছন্দ হবে বলে আশাবাদী তিনি। ২০১৭ সালের পুজোয় মুক্তি পেয়েছিল শীর্ষেন্দু পরিচালিত ছোট ছবি ‘স্বধাঃ’। বিখ্যাত সিনেম্যাটোগ্রাফার রঞ্জন পালিতের ছবি ‘লর্ড অফ দ্য অরফ্যানস’-এ সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন শীর্ষেন্দু আর এই বছরের শেষেই নিজের ডেবিউ ছবির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ছবির নাম নিয়েই আপাতত গুঞ্জন ইতিউতি। বাঙালি পরিসরে ‘থ্রিসাম’ শব্দটিই আলোড়ন ফেলার জন্য যথেষ্ট। এবার দেখা যাক, ছবি কোন কথা বলে...