টেলি-তারকারা রুপোলি জগতের মানুষ। তাই দর্শকদের একাংশ ধরেই নেন যে, ‘ওঁদের ব্যাপারটা আলাদা’। আদতে খুব আলাদা নয় কিন্তু টেলি অভিনেতা বা অভিনেত্রীদের জীবন। যেমন ধরুন এই প্রোমোশনের ব্যাপারটা। একথা ভাবার কোনও কারণ নেই যে টেলি-তারকারা শুধু ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেই তাঁদের সবাই বাহা বাহা করে এবং মাস গেলে মোটা টাকা ঘরে ঢোকে তাঁদের। 

টেলিজগতে সবাই যেমন সমান পারিশ্রমিক পান না, তেমনই তাঁদের পারফরম্যান্সের বিচারে প্রোমোশনেরও ব্যাপার থাকে। অর্থাৎ ধরা যাক কোনও অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে একটি ধারাবাহিকের মূল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ডাকা হল মাসিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। যদি ধারাবাহিকটির টিআরপি ভাল থাকে, চরিত্রটি সম্পর্কে মার্কেট সার্ভেও বেশ অনুকূল হয়, তবে মাস কয়েক পরে তাঁর ‘প্রোমোশন’ হয় বা মাসিক পারিশ্রমিকের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। 

মজার ব্যাপার হল, ঠিক যেমন একটি কোম্পানি ছেড়ে অন্য কোম্পানিতে চাকরি নিলে, ‘স্যালারি হাইক’ হয়, এক্ষেত্রেও কিন্তু তেমনটা ঘটে। যদি দেখা যায় কোনও ধারাবাহিকের নায়ক বা নায়িকা সেই ধারাবাহিকের উচ্চ টিআরপি-র মূল কারণ, তবে পরের ধারাবাহিকে কাজ শুরু করার আগে তিনি হাইক-এর জন্য তদ্বির করতে পারেন। অনেক সময় চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বা প্রযোজক সংস্থা নিজে থেকেই বেতন বাড়িয়ে দেন। 

পাশাপাশি উলটো দিকটাও বাস্তব। হয়তো দীর্ঘ ২ বছর একই পারিশ্রমিকে কাজ করে যেতে হচ্ছে কোনও অভিনেতাকে, বার বার পারিশ্রমিক বাড়ানোর কথা বলেও কোনও ফল হচ্ছে না। মূলতঃ নতুন যাঁরা টেলিজগতে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেই এমনটা সচরাচর হয়ে থাকে। ঠিক যেমন চাকরিজীবনের প্রথমদিকে অনেক কষ্ট সত্ত্বেও কম স্যালারিতে শুধুমাত্র অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য কাজ করে যেতে হয়। নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও কিন্তু সেই একই মনোভাবে ভাল করে কাজ শেখার মানসিকতা নিয়ে কাজ করে যান, পারিশ্রমিকের কথা না ভেবে। 

এ তো গেল যাঁরা চ্যানেল অথবা প্রযোজকদের সঙ্গে কনট্র্যাক্টে থাকেন তাঁদের কথা। তা বাদে বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী দৈনিক পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ করেন। এর মধ্যে অনেক অভিজ্ঞ এবং বর্ষীয়ান অভিনেতাও রয়েছেন। তাঁদেরও পারিশ্রমিকের পরিমাণ বাড়ে তবে সেই উদ্যোগটা তাঁদের নিজেদেরই নিতে হয়। ঠিক যেভাবে ফ্রিলান্স এক্সপার্টরা কাজ করেন আর কী!