এতদিন পর্যন্ত জানা ছিল, ‘জিকা’ ভাইরাসের বাহক ‘এডিস ইজিপ্টাই’ মশা। এখন জানা যাচ্ছে, যৌন সংসর্গেও ছড়াতে পারে ওই ভাইরাস। টেক্সাসে দু’জন রোগীর ক্ষেত্রে অন্তত তেমনই উদাহরণ পাওয়া গিয়েছে। লাতিন আমেরিকার অন্তত ২৪টি দেশে, ইউরোপ এবং কানাডায় দ্রুত ছড়াচ্ছে ‘জিকা’। ব্রাজিলে রিও অলিম্পিক্সে’র জোর প্রস্তুতির মধ্যেও দানা বেঁধে রয়েছে ‘জিকা’র ভয়। সেখানে ‘মাইক্রোসেফালি’ অর্থাৎ ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মানো শিশুর সংখ্যা ক্রমশ বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু) ‘জিকা’ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। এহেন পরিস্থিতির মধ্যেই টেক্সাসে ‘জিকা’র যৌন সংক্রমণের খবর সামনে এল। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি স্বীকারও করেছে। ডালাস কাউন্টির তরফে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, ‘জিকা’ আক্রান্ত এক ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্কের জেরে অন্যজনের শরীরেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। 

ভেনেজুয়েলা ইতিমধ্যেই ‘জিকা’র কবলে। টেক্সাসের এক বাসিন্দা সম্প্রতি ভেনেজুয়েলা গিয়েছিলেন। সম্প্রতি তাঁর সঙ্গীর শরীরে ‘জিকা’র সংক্রমণ ধরা পড়েছে। যিনি কি না কখনও আমেরিকার বাইরেই যাননি!  যৌন সংসর্গের ফলে ওই সংক্রমণ ঘটেছে বলেই চিকিৎসকদের মত। ‘আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনে’র (সিডিসি) ডিরেক্টর টম ফ্রিডেন অবশ্য জানিয়েছেন, টেক্সাসে এর আগেও যৌনসংসর্গের মাধ্যমে ‘জিকা’ সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।

জিকা ভাইরাসের এখনও পর্যন্ত কোনও  প্রতিষেধক নেই। কিন্তু হায়দরাবাদের একটি সংস্থা দাবি করছে, তারা ন’মাস আগেই এই প্রতিষেধক তৈরি করেছে। ওই সংস্থার চেয়ারম্যান কৃষ্ণ ইল্লা বলেন, ‘‘আমাদের সংস্থাই বিশ্বের প্রথম জিকা প্রতিষেধক তৈরি করেছে।’’ তাঁরা বিষয়টি ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ’কেও (আইসিএমআর) জানিয়েছেন। ‘আইসিএমআরে’র ডিরেক্টর জেনারেল সৌম্য স্বামীনাথন বলেন, ‘‘প্রতিষেধকটি পরীক্ষা করে দেখা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’ 

১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা অরণ্যে প্রথম এই ভাইরাস খুঁজে পাওয়া যায়। সেই সূত্রেই নামকরণ। তবে উগান্ডার মানুষের ক্ষেত্রে অবশ্য সামান্য জ্বর এবং বমিভাব ছাড়া এই ভাইরাসের তেমন গুরুতর প্রভাব দেখা যায়নি। কিন্তু লাতিন আমেরিকায় এই ভাইরাসের গঠনে কিছু পরিবর্তন এসেছে। সেই কারণে তা বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের। এই ভাইরাসে আক্রান্ত মহিলাদের সন্তানেরা ‘মাইক্রোসেফালি’ নিয়ে জন্মাচ্ছে। স্নায়ুর বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে না। অনেকক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে গুলেন-ব্যারি সিনড্রোমও।