SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali

পুনর্জন্ম কি সত্য! কী বলছে বিজ্ঞান, কী বলছেন মনীষীরা, পর্ব ২

অক্টোবর ২৩, ২০১৭
Share it on
বৈজ্ঞানিকেরা, যাঁরা ভূত-প্রেতকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন তাঁরাও কিন্তু জাতিস্মরের ব্যাপারটা একেবারে উড়িয়ে দিতে পারেননি৷ তার অবশ্য একটা কারণ আছে৷

বাংলা কথাসাহিত্যে এবং হয়তো আমাদের বিশ্বাসেও, জন্মান্তরবাদ ও জাতিস্মরতত্ত্ব নিয়ে এসেছিলেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আজ আমরা তাঁকে ব্যোমকেশ বক্সীর স্রষ্টা হিসাবেই মনে রাখি, কিন্তু তিরিশের দশকে জন্মান্তর নিয়ে লেখা তাঁর তিনটি ছোট গল্প— ‘অমিতাভ’, ‘রক্তসন্ধ্যা’ ও ‘মৃৎপ্রদীপ’ অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল৷ ইতিহাসপ্রিয় শরদিন্দুর কাহিনির নায়কেরা নিতান্তই সাধারণ মানুষ, কিন্তু ভারত ইতিহাসের তিনটি সন্ধিক্ষণে তাদের উপস্থিতির স্মৃতি তাদের এই জন্মের অভিজ্ঞতাও অবিস্মরণীয় করে তুলেছিল৷ বাংলায় এ ধরনের লেখা আগে-পরে আর হয়নি৷ লেখক সম্পর্কে একটা কথা এ প্রসঙ্গে বলে রাখি— আজকাল কুসংস্কার বলে যা উড়িয়ে দেওয়া হয়, শরদিন্দুবাবু সেসব নিয়ে বিস্তর চর্চা করতেন৷ তিনি জন্মান্তর, ভূত, ভবিষ্যৎ, অলৌকিক ও অপ্রাকৃত— সবই বিশ্বাস করতেন এবং এ নিয়ে পড়াশোনাও করতেন৷ জাতিস্মরবাদও এর মধ্যেই পড়ে৷

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

 

জাতিস্মরত্বের মধ্যে একটা রোম্যান্টিকতা রয়েছে৷ গতজন্মে আমি কী ছিলাম, কল্পনা করতে বেশ লাগে৷ বলিউডে তো সেই পঞ্চাশ সাল থেকেই প্রেমের মৃত্যুহীনতা বোঝাতে জাতিস্মরের কাহিনি নিয়ে সিনেমা হয়ে এসেছে৷ ১৯৪৯ সালে কামাল আমরোহীর ‘মহল’ দিয়ে এর সূত্রপাত, তারপর ‘মধুমতী’, ‘মিলন’, ‘মেহবুবা’, ‘নীলকমল’, ‘কুদরত’— এইসব সিনেমার গল্পগুলো আমাদের যত কাঁচাই মনে হোক না কেন, ছবিগুলি বানিয়েছিলেন কামাল আমরোহী, বিমল রায়, শক্তি সামন্ত, চেতন আনন্দের মতো দিকপাল পরিচালকেরা৷ ‘মধুমতী’র গল্প লিখেছিলেন ঋত্বিক ঘটক৷ প্রতিটি ছবিই বক্স-অফিসের আশীর্বাদধন্য৷ অর্থাৎ পুনর্জন্ম ব্যাপারটা পাবলিক খায়৷


শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৯-১৯৭০)

বৈজ্ঞানিকেরা, যাঁরা ভূত-প্রেতকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন তাঁরাও কিন্তু জাতিস্মরের ব্যাপারটা একেবারে উড়িয়ে দিতে পারেননি৷ তার অবশ্য একটা কারণ আছে৷ জাতিস্মরের পূর্বজন্মের স্মৃতির কথা অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণ করা সম্ভব হয়৷ একজন যদি বলে— 'আমি কাল রাতে ভূত দেখেছি', বেশির ভাগ সময়েই কেউ তাকে বিশ্বাস করে না কারণ তার পক্ষে ভূত দেখা জনসমক্ষে প্রমাণ করা অসম্ভব৷ কিন্তু কেউ যদি বলে— 'আমি গত জন্মে অমুকচন্দ্র অমুক ছিলাম, অমুক জায়গায় থাকতাম', তা হলে তা প্রমাণ করা কঠিন হলেও অসাধ্য নয়৷ গবেষকেরা প্রচুর পরিশ্রম করে সেই সব অস্তিত্বের প্রমাণ সংগ্রহ করে দিতে পারলে পূর্বজন্মের স্মৃতির দাবি অস্বীকার করা যায় না৷ গত অর্ধদশকে কয়েকজন মনোবিজ্ঞানী একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম করে এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে দেখাতে পেরেছিলেন যে মানুষের অবচেতনে পূর্বজন্মের স্মৃতি থাকে এবং সেই স্মৃতি জাগিয়ে তোলা সম্ভব৷ তাঁদের অনুসন্ধানের ফলে জাতিস্মরবাদ এখন মান্যতা পেয়ে গবেষণার বিষয়৷ বিষয়টি এখন বিজ্ঞানীদের এতটাই আকৃষ্ট করেছে যে, বেশীর ভাগ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান একে স্বীকৃতি দিয়ে বিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র বিভাগের মর্যাদা দিয়েছে৷ এইভাবেই এককালের আজগুবি গল্প আজ বাস্তব হয়ে উঠেছে৷ 

‘মধুমতী’ (১৯৫৮)

পশ্চিমের দেশগুলিতে জাতিস্মরতত্ত্বের মধ্যে যে অজানা সত্য লুকিয়ে আছে, সেকথা জনসমক্ষে আসে কয়েকটি গবেষণামূলক বইয়ের প্রভাবে৷ ১৯৫৩ সালে আমেরিকার কলোরাডোর এক ধনী উদ্যোগপতির তরুণ পুত্র মোরে বার্নস্টাইন সম্মোহনবিদ্যায় আগ্রহী হন৷ সম্মোহন প্রক্রিয়া আয়ত্ত্ব করে তিনি তাঁর পরিচিত, অর্ধপরিচিত, অনেককেই সম্মোহিত করে নানা প্রশ্ন করতেন৷ এইভাবে তিনি পৌঁছে যান ভার্জিনিয়া টিঘে নামে এক গৃহবধূর কাছে৷ তাঁকে সম্মোহন করে পূর্বজন্ম সম্পর্কে প্রশ্ন করতে করতে বার্নস্টাইন এক সোনার খনির সন্ধান পেয়ে গেলেন৷ মহিলা তাঁর আগের জন্ম সম্পর্কে প্রায় সব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়ে দিলেন৷ তিনি জানালেন, আগের জন্মে তাঁর নাম ছিল ব্রিজেট অথবা ব্রাইডি মার্ফি, ১৭৯৮সালে আয়ার্ল্যান্ডের কর্ক শহরে তাঁর জন্ম হয়, এবং মৃত্যু হয় বেলফাস্ট শহরে ১৮৬৪ সালে৷ তাঁর সেই ছেষট্টি বছরের জীবনের নানা ঘটনার তিনি উল্লেখ করেন, এবং সেই সব ঘটনা কবে, কোথায় ঘটেছিল, তাও বলে দেন৷

‘দ্য সার্চ ফর ব্রাইডি মারফি’ (১৯৫৬)

বার্নস্টাইন গোটা সাক্ষাৎকারটি রেকর্ড করেছিলেন এবং টেপগুলি মন দিয়ে শুনে তাঁর মনে হয় এটি জন্মান্তরের প্রামাণ্য উদাহরণ৷ তিনি তাঁর যাবতীয় তথ্য প্রথমে একটি স্থানীয় সাময়িকপত্রে লিখতে শুরু করেন ও পরে বই আকারে প্রকাশ করেন৷ ১৯৫৬ সালে 'দি সার্চ ফর ব্রাইডি মার্ফি' ছাপা হবার সঙ্গে সঙ্গে হু হু করে বিক্রি হয়েছিল৷ বার্নস্টাইন ভার্জিনিয়া টিঘের নাম-ঠিকানা প্রকাশ না করলেও কিছু উদ্যোগী মানুষ তাকে খুঁজে বের করে ফেলে এবং হলিউডের প্যারামাউন্ট স্টুডিও থেরেসা রাইটকে নায়িকা করে একটি ফিল্মও চটজলদি বানিয়ে ফেলেছিল৷ কিন্তু ছবিটি চলেনি এবং ভার্জিনিয়ার কথার সত্যতা নিয়ে আমেরিকা জুড়ে বেশ শোরগোল পড়েছিল৷ সত্যাসত্য নির্ধারণের জন্য যে সাময়িকপত্রে প্রথম বার্নস্টাইনের লেখা বের হয়েছিল, সেই ডেনভার পোস্ট তাদের কয়েকজন সাংবাদিককে খোঁজখবর নিতে আয়ারল্যান্ডে পাঠায়৷ তাঁরা অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, ভার্জিনিয়ার বলা প্রতিটি ঘটনাই সত্য৷ আরও বহু প্রমাণ তাঁরা সংগ্রহ করে এনেছিলেন এবং সেই সব অতিরিক্ত উপকরণ-সহ বইটির একটি পরিবর্ধিত সংস্করণ সাতের দশকে ছাপা হয়৷ সেই বইও বেস্টসেলার হয়েছিল এবং আজও বইটি অলৌকিক বিষয়ে ধ্রুপদী রচনার মর্যাদা পেয়ে থাকে৷

(ক্রমশ)

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -