SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali

জন্মান্তরের আশ্চর্য কাহিনি, পর্ব ২: বিশেষজ্ঞদের চোখে জাতিস্মর 

ডিসেম্বর ৫, ২০১৭
Share it on
স্বর্ণলতা জাতিস্মরবাদের এক বিরল দৃষ্টান্ত, কারণ সে একাধিক পূর্বজন্ম স্মরণ করতে পারত৷ সে তার বাবা-মাকে বলেছিল বৃন্দা হয়ে জন্মানোর আগের জন্মে সে বর্তমান বাংলাদেশের শ্রীহট্টে এক ধনী কন্ট্রাক্টরের মেয়ে ছিল৷

ইয়ান স্টিভেনসনের লেখা আর একটি বৃত্তান্ত আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল৷ মধ্যপ্রদেশের এক সরকারি অফিসারের শিশুকন্যা জব্বলপুরের স্বর্ণলতা খুব ছোটবেলা থেকেই বলত যে, সে  কাটনির চিন্তামণি পান্ডের স্ত্রী, তার নাম বৃন্দাবাঈ৷ বাড়ীর লোকেরা শিশুকন্যার কথায় অবাক হলেও তাই নিয়ে কোনো খোঁজখবর করেননি৷ মেয়েটির বয়স যখন দশ-এগারো, তখন ঘটনাচক্রে কাটনির এক মহিলা তাদের বাড়ি গিয়েছিলেন এবং তিনি চিন্তামণি পান্ডেকে চিনতেন৷ স্বর্ণলতা তাঁকেও নিজের জন্মান্তরের স্মৃতির কথা বলে৷ তিনি চিন্তামণি পান্ডের পরিবারের অনেক কথাই জানতেন, তাই স্বর্ণলতার কথা পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে পারলেন না৷ স্বর্ণলতার কথা কানে উঠল জয়পুরের ডঃ হেমেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ তিনি কাটনি গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে বের করলেন চিন্তামণি পান্ডেকে৷ 

হেমেনবাবু স্বর্ণলতাকে নিয়ে কাটনি গিয়েছিলেন৷ সেখানে স্বর্ণলতা তার গত জন্মের প্রতিটি আত্মীয়কে চিনতে পেরেছিল৷ জানা গেল, স্বর্ণলতার প্রতিটি কথাই সত্য৷ স্তম্ভিত চিন্তামণি পান্ডে একটি অপরিচিত বাচ্চা মেয়ের কাছে শুনলেন তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর অজানা কথা— কেমন করে বৃন্দা ১৯৩৯ সালে মাইহারে গিয়ে হার্টফেল করেছিল৷ এর কয়েক বছর পরে ইয়ান স্টিভেনসন ভারতে এলে হেমেনবাবু তাঁকে স্বর্ণলতার কথা কথা বলেন৷ স্টিভেনসন নিজেও স্বর্ণলতাকে নিয়ে আবার অনুসন্ধান করেছিলেন আর তখনও সে পূর্বজন্মের অনেক কথা সবিস্তারে বলে দিতে পেরেছিল৷ 

স্বর্ণলতা জাতিস্মরবাদের এক বিরল দৃষ্টান্ত, কারণ সে একাধিক পূর্বজন্ম স্মরণ করতে পারত৷ সে তার বাবা-মাকে বলেছিল বৃন্দা হয়ে জন্মানোর আগের জন্মে সে বর্তমান বাংলাদেশের শ্রীহট্টে এক ধনী কন্ট্রাক্টরের মেয়ে ছিল৷ তার সেই জন্ম খুবই সংক্ষিপ্ত ছিল, ছোটবেলায় স্কুলে যাবার পথে এক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়৷ পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সে এক দুর্বোধ্য ভাষায় গান গাইত আর নাচত৷ সিলেটি ভাষা আমাদের কাছেও যথেষ্ট দুর্বোধ্য, মধ্যপ্রদেশের মানুষ যে তার মাথামুন্ডু বুঝবে না, এতে আশ্চর্য হওয়ার কোনও কারণ নেই৷ ততদিনে সিলেট ভারতের বাইরে— পূর্ব পাকিস্তানের (এখনকার বাংলাদেশের) অন্তর্গত, তাই কেউ স্বর্ণলতাকে নিয়ে সিলেট যাওয়ার কথা ভাবেনি। কাজেই স্বর্ণলতার সেই জন্মের রহস্যভেদ করা যায়নি৷

ওশো রজনীশ (১৯৩১-১৯৯০)। ছবি: ওশোনিসর্গ.কম-এর সৌজন্যে

স্বর্ণলতার জন্মান্তরের স্মৃতি অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল৷ জব্বলপুর কলেজের দর্শনের অধ্যাপক চন্দ্রমোহন তার বাবা-মাকে অনুরোধ করেছিলেন মেয়েটিকে এক বছরের জন্য তাঁর হাতে তুলে দিতে, তিনি স্বর্ণলতার স্মৃতির সরণী বেয়ে জীবন-মৃত্যু রহস্যের সমাধান করে দেবেন৷ বলা বাহুল্য, স্বর্ণলতার বাবা মা সেই প্রস্তাবে রাজী হননি৷ আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, অধ্যাপক চন্দ্রমোহনের হাতে পড়লে স্বর্ণলতার জীবনের অন্তর্নিহিত রহস্য হয়তো আমরা জানতে পারতাম, জানতে পারতাম কেন সে এই জন্মেও পূর্বজন্মের স্মৃতি বহন করে চলেছে৷ এই চন্দ্রমোহন তো সাধারণ অধ্যাপক ছিলেন না— পরবর্ত্তীকালে আচার্য্য রজনীশ রূপে তিনি দুনিয়া কাঁপিয়েছিলেন৷

আনন্দের কথা এই যে জাতিস্মরত্ব স্বর্ণলতার স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টি করেনি৷ তিনি স্বামী-পুত্র নিয়ে সুখে সংসার করেছেন, দীর্ঘদিন ভূপালে এক কলেজে অধ্যাপনাও করতেন৷ 

এইরকমই অভিজ্ঞতা হয়েছিল দিল্লীর এক মহিলার— তাঁর নাম শান্তিদেবী৷ তিনি বলতেন, মথুরার কেদারনাথ পান্ডে তাঁর স্বামী৷ দিল্লি থেকে মথুরা খুব একটা দূর নয়, তাঁর আত্মীয়েরা তাঁকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন৷ সেখানে গতজন্মের শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে চিনতে পারার পরে শান্তিদেবী সকলকে বললেন বাড়ির উঠোন খুঁড়তে৷ মাটির তলা থেকে বেরিয়ে আসে একটি ছোট বাক্স, তার মধ্যে পাওয়া গেল কিছু টাকা৷ শান্তিদেবী জানালেন গত জন্মে সংসার খরচ থেকে বাঁচিয়ে তিনি কিছু টাকা এইভাবে জমিয়েছিলেন৷ শান্তিদেবী এই জন্মে বিয়ে করেননি, সারাজীবন পূর্ব দিল্লির একটি স্কুলে পড়িয়ে জীবন কাটিয়েছেন৷

ছবি: পিক্সঅ্যাবে

স্টিভেনসনের লেখা থেকে মনে হয়, পূর্বজন্মের স্মৃতি সেই সব ক্ষেত্রেই থেকে যায় যেখানে দু’টি জন্মের মধ্যে খুব বেশি ভৌগোলিক দুরত্ব থাকে না৷ লক্ষ্মীনারায়ণ-বিষণচাঁদ, স্বর্ণলতা-বৃন্দা একই প্রদেশে জন্মেছেন, শান্তি-কেদারনাথের ক্ষেত্রেও দিল্লী আর মথুরার দুরত্ব সামান্যই৷ হেমেনবাবুর নিজস্ব গবেষণার দিকে তাকালেও একই তথ্য দেখা যাবে ৷

(ক্রমশ)

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -