SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali

‘‘কলিং বেলটা বেজে উঠল। দরজা খুলতেই দেখলাম ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে।’’

এপ্রিল ২৭, ২০১৬
Share it on
রাত কত জানি না। আসলাম ঘরে ঢুকে আমাকে টেনে তুলেছিল। গা-এ হাত দিয়ে বুঝেছিল আমার জ্বর এসেছে। আমাকে বলল স্নান করতে হবে না। বাথরুমে গরম জল রেখেছে, গা-টা স্পঞ্জ করে নিতে বলল। আমি বাথরুমে ঝুকে গেলাম।

(পূর্ব কাহিনি: হিমাচলে একাধিক খদ্দেরের কাছে সাহসিনীকে বিক্রি করল আসলাম। এর পরে তাকে নিয়ে ফিরে আসে দিল্লিতে। নিজের ডেরাতেই সাহসিনীকে তোলে সে। বাড়ি ফিরে আসলাম জানতে পারে সাহসিনী ফের বাড়িতে ফোন করেছে। ক্ষিপ্ত আসলাম মারতে মারতে প্রায় আধমরা করে ফেলে সাহসিনীকে। ওদিকে, সাহসিনী বাড়িতে ফোন করার সময়ে আসলামের ডেরার ঠিকানা ও গাড়ির নম্বর দিয়ে দিয়েছিল। বউদি বলেছিল পুলিশকে সমস্ত তথ্য দেবে। কিন্তু, ২ দিন কেটে গেলেও পুলিশ এল না। সাহসিনীকে নিয়ে এবার বেঙ্গালুরু পাড়ি দেয় আসলাম। তার পর...)

যশবন্তপুর থেকে একটা অটো নিল আসলাম। সেন্ট্রাল বেঙ্গালুরুর একটি হোটেলের সামনে অটোটি এসে থামল। ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে লিফটে করে একটি ঘরে নিয়ে এল আসলাম। ঘরের দরজায় লেখা ৩১৩। দরজা খুলে আমাকে ঘরে ঢোকাল আসলাম। মারের আঘাতের ক্ষত শরীরে দগদগ করছে। ঠিকমতো হাঁটতেও পারছি না। বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম। বাথরুম থেকে আসলাম বেরিয়ে বলল, ‘‘আজ যা বিশ্রাম করার করে নে, কাল থেকে ধান্দায় লাগতে হবে। ধান্দার সময় যেন এখানে ব্যথা ওখানে ব্যথা বললে হবে না। খেয়াল থাকে যেন।’’ আসলাম ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। 

আমি শুয়ে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়লাম। দরজায় কলিং বেলটা গরগর করে বেজে ওঠেছে। চোখ খুললাম কোনওমতে। শরীরটা গরম গরম লাগছে। মনে হচ্ছে জ্বর এসেছে। খেয়াল পড়ল আসলাম নেই, ঘরে আমি একা। কোনওমতে ওঠে দরজাটা খুললাম। দেখি একটা রুম সার্ভিসের লোক হাতে ট্রে-তে খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হিন্দিতে বলল ‘‘খানা।’’ ট্রে-টা আমার হাতে দিয়ে চলে গেল। ট্রেনে সেভাবে কিছু খাওয়া হয়নি। তাই খাবার দেখে খিদে পাচ্ছে। কিন্তু, গা-গরম থাকায় ভালো লাগছে না। কোনওমতে খাবারটা খেলাম। রুটি আর তরকারি ছিল। সঙ্গে ডাল দিয়েছিল। ফের ঘুমিয়ে পড়লাম। 

রাত কত জানি না। আসলাম ঘরে ঢুকে আমাকে টেনে তুলেছিল। গা-এ হাত দিয়ে বুঝেছিল আমার জ্বর এসেছে। আমাকে বলল স্নান করতে হবে না। বাথরুমে গরম জল রেখেছে, গা-টা স্পঞ্জ করে নিতে বলল। আমি বাথরুমে ঝুকে গেলাম। বাইরে বেরিয়ে দেখি, দুপুরের সেই ছেলেটা ঘরে খাবার দিচ্ছে। ছেলেটা আমাকে দেখছে। আসলাম একটু পরে ছেলেটাকে বিদেয় করল, বলল, দরজার বাইরে থালা থাকবে, নিয়ে নিতে। খাওয়া হলে আসলাম একটা ওষুধ দিয়ে বলল, ‘‘খেয়ে নে, সকালে ফিট্ হয়ে যাবি।’’ 

এত দিন যত হোটেলে আসলাম আমাকে নিয়ে গিয়েছে সেগুলির ঘরগুলি অনেক ছোট এবং অপরিষ্কার ছিল। শুধু মানালির হোটেলটাই যা একটু পরিষ্কার পেয়েছিলাম। বেঙ্গালুরুর এই হোটেল সেই তুলনায় অনেক পরিষ্কার এবং ভাল। আসলাম আর আমি দু’জনেই এই হোটেলে থাকার পক্ষে বেমানান। দুপুরে আসলাম একটা সুগন্ধী সাবান নিয়ে এসে বলল, ‘‘ভাল করে রগড়ে স্নান করে নে। যেন শরীর দিয়ে ঘামের গন্ধ না বের হয়।’’ এর পরে ফের ঘর থেকে বেরিয়ে গেল আসলাম। স্নান করে বেরিয়ে অনেকক্ষণ বসে আছি, কিন্তু, আসলাম আসেনি। একটু পরেই দেখি দরজা খুলে গেল। আসলাম তার পিছন পিছন একটি ছেলেকে নিয়ে ঢুকল। ওর হাতে খাবারের থালা। খাবার রেখেই বেরিয়ে গেল। আসলামের বগলে দেখি একটা প্যাকেট। আমার হাতে দিয়ে বলল, ‘‘আজ সন্ধ্যায় এটা পরে নিবি। খদ্দেরের কাছে এই পোশাকে যেতে হবে।’’

ঘণ্টাখানেক ধরে নতুন জামাকাপড় পরে বসে আছি। রাত আটটা নাগাদ ঘরের ইন্টারকমটা বেজে ওঠল। আসলাম কী কথা বলল বুঝলাম না। একটু পরেই দরজার কলিংবেলটা বেজে ওঠল। আসলামকে দরজার বাইরে দাঁড়ানো ছেলেটা কী বলল শুনতে পাচ্ছি না। আসলাম এসে বলল, ‘‘চল বেরোতে হবে।’’ ছেলেটা আমাকে নিয়ে লিফটের সামনে দাঁড়াল। আসলাম আমাদের পিছনেই আসছিল। ছেলেটা বারণ করল। বলল, ম্যানেজারের কাছে যেতে। ছেলেটা আমাকে নিয়ে ৫২৫ নম্বর ঘরের বেল বাজাল। 

(ক্রমশ...)  

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -