SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali

গড়িয়াহাট থেকে গুয়াদালাহারা, স্বাগত...

ডিসেম্বর ২২, ২০১৫
Share it on
হায়দরাবাদের সঙ্গে গুয়াদালাহারা-র মিল বেশি। কলকাতায় যেমন নতুন-পুরনো বেশ মিলেমিশে রয়েছে, এখানে তেমনটা নয়। নতুন শহর আর পুরনো শহর একেবারে আলাদা।

ঘটি-বাঙাল চিরদ্বন্দ্বে আমি কিন্তু বরাবরই লাল-হলুদ। ইলিশের দিকে। পূর্বপুরুষরা ‘ও’পার বাংলা থেকে ‘এ’পারে এসেছিলেন। ফলে রক্তে ‘মাইরা ফেলুম, কাইট্যা ফেলুম’ ব্যাপারটা রয়েছে, অস্বীকার করার উপায় নেই। জন্ম থেকে কলকাত্তাইয়া, কর্মসূত্রেও তা-ই ছিলাম। কিন্তু এখন? কোথায় ঘটি, কোথায় বাঙাল! ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান-চিংড়ি-ইলিশ— সব ‘নস্ট্যালজিয়া’। গড়িয়াহাটের ফুটপাথ থেকে হাতিবাগানের মার্কেট চষে বেড়ানো সেই আমি বর্তমানে এমন এক দেশের বাসিন্দা, যা এখনও বঙ্গসন্তানের কাছে ‘জব ডেস্টিনেশন’ হিসেবে তেমন কল্কে পায়নি। তবে পেতে শুরু করেছে। না-পেয়ে উপায় নেই। কেন, সে প্রসঙ্গে ক্রমশ আসব। তার আগে দেশটার নাম জানিয়ে দেওয়া আবশ্যক। মেক্সিকো।

বছরখানেক হল এই দেশটায় আছি। যখন দেশে আত্মীয়-বন্ধুদের সঙ্গে কথা হয়, তখন তাঁদের আগ্রহ দেখে বুঝি, উত্তর আমেরিকার এই দেশটা সম্পর্কে মানুষজনের ধারণা এখনও তেমন স্বচ্ছ নয়। ফুটবল যাঁরা দেখেন, তাঁরা বলেছেন, ‘‘ভাল টিম। বড় টিমগুলোকে চাপে ফেলে দেয়।’’ কিন্তু এর বেশি কখনও কিছু শুনেছি বলে মনে হয় না। আমেরিকা, ব্রিটেন বললে অনেকেই যেমন গড়গড় করে বলে দেন টাইম জোন বা বিগ বেন, এই দেশটার ক্ষেত্রে এখনই তেমন কিছু হওয়া কঠিন। তবে সামগ্রিকভাবে ভারতীয়দের এখানে আসার চল বাড়ছে। তথ্যপ্রযুক্তি হাব হিসেবে খুব দ্রুত উঠে আসছে মেক্সিকো।

মেক্সিকো ঠিক কেমন, এই প্রশ্নের উত্তর বহুমাত্রিক। যে শহরে আমার আস্তানা, সেটির নাম গুয়াদালাহারা। হালিসকো প্রদেশের প্রধান এবং মেক্সিকোর দ্বিতীয় জনবহুল শহর। জনসংখ্যা? প্রায় ১৫ লক্ষ। এবারে কলকাতার পাশে ফেলে তুল্যমূল্য বিচার করে নিন। কোথায় সেই ব্যস্ততা, কোথায় এই শান্ত, নিরিবিলি শহর! কোনটা বেশি ভাল, সে প্রশ্ন অপ্রাসঙ্গিক। শুধু এইটুকু জানিয়ে রাখি, কলকাতাকে নিয়ে যেমন ‘সংস্কৃতির হাব’-গোত্রের অহঙ্কার আমাদের রয়েছে, তেমনই গুয়াদালাহারা-র মানুষও এই শহরের সংস্কৃতির কথা বুক ঠুকে জাহির করেন। এটাই মেক্সিকোর সাংস্কৃতিক রাজধানী।
গঠনের দিক থেকে কলকাতার সঙ্গে কম, হায়দরাবাদের সঙ্গে গুয়াদালাহারা-র মিল বেশি। কলকাতায় যেমন নতুন-পুরনো বেশ মিলেমিশে রয়েছে, এখানে তেমনটা নয়। নতুন শহর আর পুরনো শহর একেবারে আলাদা। হায়দরাবাদে মুসি নদীকে মাঝে রেখে শহরটা দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। এখানে ঠিক তেমন কোনও নদী নেই বটে, কিন্তু নতুন-পুরনো একে অপরকে সামলে রেখেই বেড়ে উঠেছে। একদিকে রয়েছে গুয়াদালাহারা-র পুরনো শহর, যেখানে পঞ্চদশ শতাব্দীর গির্জা, অষ্টাদশ শতাব্দীর বিশ্ববিদ্যালয়, উনবিংশ শতাব্দীর হাসপাতালের সমাহার। প্রতিটি ইমারতকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। এখানকার বাসিন্দারাও বহু যুগ ধরে এই এলাকায় রয়েছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম। মূলত নিম্নবিত্ত এবং নিম্ন-মধ্যবিত্তের বসবাস এই এলাকায়।

এবার চলে আসুন শহরের অন্য প্রান্তে। এই এলাকা একেবারে ঝাঁ চকচকে। বিলাসবহুল ৫-৭ তারা হোটেল, শপিং‌ মল, দেশি-বিদেশি সব ব্র্যান্ডের পোশাক থেকে শুরু করে ফার্নিচার, ইন্টিরিয়র— কী নেই! দুরন্ত সব রেস্তোরাঁ, কী সব বাড়ি! দেখার মতো ব্যাপার বটে একটা। উচ্চবিত্তদের বাংলোয় ভর্তি রাস্তা। নাইট ক্লাব, ডি জে, নাচাগানা— ‘হিপ অ্যান্ড হ্যাপনিং’ বলতে ঠিক যা বোঝায়।

এ পর্যন্ত ‘অল ইজ ওয়েল’। বছরখানেক আগে এই দেশে পা রেখে সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটায় পড়েছিলাম, সেটা হল ভাষা। স্প্যানিশ হল মেক্সিক্যানদের মাতৃভাষা। ইংরেজি এঁদের বেশিরভাগই জানেন না। ভাঙা-ভাঙা জানেন, এমন লোকের সংখ্যা বাকিদের মধ্যে বেশি। আরও একটা ব্যাপার চোখে পড়েছে। অনেককেই দেখেছি যাঁরা ইংরেজি জানলেও বলতে চান না মোটেই। তবে কোনও শপিং মল বা বড় রেস্তোরাঁয় গেলে এই সমস্যাটা তুলনায় কম। ইংরেজি জানা লোক ঠিক মিলে যায়।

তবে খুব বেশি দিন স্প্যানিশ আঁকড়ে মেক্সিক্যানরা থাকতে পারবেন বলে মনে হয় না। কেননা, পর্যটনের নতুন ডেস্টিনেশন হিসেবে ক্রমশ জনপ্রিয়তা বাড়ছে দেশটার। বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। ক্রমশ ইংরেজি শেখার ঝোঁকও বেড়েছে। ইংরেজি জানা ট্যুরিস্ট গাইড-রা বেশ দু’পয়সা কামাচ্ছেন।

মেক্সিকোর সঙ্গে পরিচয়-পর্বের প্রথম কিস্তি সাঙ্গ করা যাক আবহাওয়া দিয়ে। এককথায়, বেশ মনোরম। শীতটা একটু কড়া। কিন্তু অসহ্য নয়। বছরের বাকি সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫-৩০ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ১৪-১৫ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করে। বৃষ্টি হলে ১০-১১-য় নেমে যায়। শীতে ‘জিরো ডিগ্রি’, কিন্তু বরফ পড়ে না। সমুদ্র ঘিরে রয়েছে দেশটাকে। ফলে সেভাবে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সুযোগও নেই। সব মিলিয়ে কলকাতার ভ্যাপসা, প্যাচপেচে গরমটা নেই।

(ক্রমশ...)

 

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -