SEND FEEDBACK

লেখার কথা: হারিয়ে গিয়েছে ছোটবেলার ‘সুজয়দা’! পুজোয় তবুও রয়েছে পিছুটান

অক্টোবর ১, ২০১৮
Share it on
এখনটা কেমন যেন পানসে! আড়ম্বর রয়েছে ঠিকই চারপাশে, কিন্তু অন্তঃসারশূণ্য। বড্ড বাণিজ্যিক, কম্পিটিশন, বড্ড আমি-আমি।

আমার পুজো! কাশ... আমার পুজো তোমার পুজোর মতো হতো!

কী জ্বালা! কাশ ফুলটাই এখনও পর্যন্ত দেখে উঠতে পারলাম না!

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

তোমর পুজোর আনন্দ দেখে, আনন্দের সঙ্গে ২% ঈর্ষাও হয় আমার। বড়বেলায় পড়া থেকেই, ছোটবেলার আনন্দটায় কোথায় যেন জল মিশে গিয়েছে। ইংরেজিতে এর একটা ফ্যাশনেবল নাম রয়েছে— ফেস্টিভ ব্লুজ।

গত বেশ কয়েক বছর ধরেই এই রোগে আমি ভুগি। মূলত পুজোর কয়েক দিন। প্রতি বছরই ভাবি, এবার পুজোয় আর কলকাতায় থাকব না। কিন্তু সেটা হয়ে ওঠে না বেশ কিছু কারণের জন্য। পুজোয় উপরি রোজগার— ফিতে কাটা, পরিক্রমা, প্রভৃতি। অন্য দিকে, এই যে ঢাকের আওয়াজ, পুজো পুজো গন্ধ, মানুষের হাসি হাসু মুখ, কলকাতা শহরের পাগলামো— এরাই তো আমার পিছুটান। 

সারা বছরই প্রায় অনলাইন শপিং আর নতুন জামা-কাপড় পরি বলে, ‘পুজোর জামা’র আনন্দটাই আর হয় না। আর হয় না বলেই খুব কষ্ট হয়। 

ছোটবেলায় কটাই বা জামা-জুতো হতো! জন্মদিন, পয়লা বৈশাখ আর পুজো। পুজোর এক মাস আগে থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে প্ল্যানিং। কটা জামা হলো, কোন দিন কোনটা, সব থেকে ভাল জামাটা তোলা থাকবে অষ্টমীর জন্য, ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে হেয়ার ক্লিপ, টিপ আর মায়ের দেওয়া লিপস্টিক। আর কী চাই জীবনে?

অবশ্য একটা ‘সুজয়দা’ হলে মন্দ হতো না হয়তো। কিন্তু আমাদের মতো মেয়েদের, যাদের দাদা না থাকার দরুন দাদার বন্ধু পাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি, তাদের জন্য না হয় থাকল কোনও ‘সুজয়’। ব্যস! লাইফ জমে ক্ষীর! 

এখনটা কেমন যেন পানসে! আড়ম্বর রয়েছে ঠিকই চারপাশে, কিন্তু অন্তঃসারশূণ্য। বড্ড বাণিজ্যিক, কম্পিটিশন, বড্ড আমি-আমি।

আর পানসে কারণ পাড়ায় পাড়ায় মা এলেও, খুব মিস করি নিজের মাকে। আর এই পুজোর সময়েই মেয়ে চলে যায় তার পুরনো বাড়িতে। ভিড়ের মধ্যেও একা লাগে, খুব একা!

তাও, পুজো আসছে। আশায় বাঁধছে মন। সব ইন্দ্রিয়গুলো এখনও চঞ্চল হয়ে ওঠে। মাকে দেখার আশায়, ঢাকের শব্দ শোনার আশায়, লাইন দিয়ে ঠাকুর দেখা, মানুষের চকচকে মুখগুলো দেখার আশায়, আর আশার আশায়!

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -