SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali

পরীক্ষার চাপে চেহারা ভেঙে গিয়েছে! ফিটনেস ফিরে পেতে বিশেষ ডায়েট ও টিপস

এপ্রিল ২৬, ২০১৮
Share it on
আমি সব সময়েই বলি, চেহারা তৈরি করতে গেলে বা ওজন বাড়াতে গেলে ৭০ শতাংশ ডায়েট ও ৩০ শতাংশ ব্যায়াম করতে হয়। আমার টিপস অনুসরণ করো, ফলাফল পাবেই পাবে।

মোটামুটি তোমাদের প্রায় সব পরীক্ষাই শেষ। বেশ কিছু মাস ধরে তোমাদের অনেক শারীরিক এবং মানসিক ধকল সহ্য করতে হয়েছে— অবশ্য কিছু করারও ছিল না। পরীক্ষা বলে কথা! অনেকের চেহারাই খুব ভেঙে গিয়েছে, আবার অনেকের ওজন ৭-৮ কেজি বেড়ে গিয়েছে। তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই, একটু চেষ্টা ও ধৈর্য রাখলেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

আমি প্রথমে এই পর্ব শুরু করব যাদের চেহারা একেবারে ভেঙে গিয়েছে তাদের নিয়ে।

আমি সব সময়েই বলি, চেহারা তৈরি করতে গেলে বা ওজন বাড়াতে গেলে ৭০ শতাংশ ডায়েট ও ৩০ শতাংশ ব্যায়াম করতে হয়। এই পর্বে আমি তোমাদের দেহের ওজন বাড়ানো নিয়ে আলোচনা করব, যা খুবই জরুরি। মন শক্ত করে ধৈর্য ধরে আমার টিপস অনুসরণ করো, ফলাফল পাবেই পাবে।

গুরুপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি সৌজন্য: লেখক

নিয়মাবলী-

১) ঘুমোতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার সময়টা নির্দিষ্ট করতে হবে। এই নিয়মানুবর্তিতার যেন অন্যথা না হয়। যেমন, গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থেকে বেলা করে ঘুম থেকে ওঠা একদম ঠিক নয়। মোটামুটি রাত সাড়ে এগারোটার মধ্যে ঘুমিয়ে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে উঠতে হবে।

২) ঘুম থেকে উঠে কুলকুচি করে অন্তত এক বা দুই গেলাস জল খেতে হবে। জল খাওয়ার আধঘণ্টা পরে অঙ্কুরিত ছোলা, কাঁচা চিনেবাদাম, কাঁচা সয়াবিনের দানার সঙ্গে আখের গুড় কিংবা মধু খাওয়া উচিত।

৩) প্রাতঃরাশ— ফ্যানা ভাত, আলু সেদ্ধ, ডিম সেদ্ধ, ঘি কিংবা মাখন দিয়ে ডাল আলুভাজা চলতে পারে। এগুলো ছাড়াও দুধ-কর্নফ্লেক্স, ওটস-কলা,ডালিয়ার খিচুড়ি এবং তার সঙ্গে দুটো ডিমসেদ্ধ চলতে পারে। প্রাতঃরাশ সকাল সাড়ে ন’টা থেকে দশটা’র মধ্যে শেষ করতে হবে।

৪) প্রাতঃরাশ ও মধ্যাহ্নভোজের মধ্যে মরসুমি ফল খেতে হবে। যেমন এখন তরমুজ, কলা, আম, পাকা পেঁপে খাওয়া যায়। 

৫) মধ্যাহ্নভোজ— খাওয়া দাওয়া সাধারণত দুপুর দেড়টা থেকে দু’টোর মধ্যে সেরে ফেলতে হবে। খাওয়া-দাওয়ার পরে ঘণ্টাখানেক বিশ্রাম অবশ্যই প্রয়োজন।

৬) টিফিন-
ক)চিঁড়ে-দই, কলা, আম।
খ)বাড়ির তৈরি চাউমিন।
গ)সুজির উপমা কিংবা চিঁড়ের পোলাও।

বিকেলবেলা বাড়ির বাইরে থাকলে টিফিন-
ক) দোসা
খ) ধোকলা
গ) বার্গার, পিৎজা
ঘ) কলা, আপেল, পেয়ারা
ঙ) সন্দেশ কিংবা রসগোল্লা
চ) স্টেশনারি দোকানের ফ্রুটকেক।

কিছুই না পাওয়া গেলে ক্যাডবেরি, চকোলেট কিংবা আইসক্রিম খাওয়া যেতে পারে। যতটা সম্ভব জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলবে।

নৈশভোজ—ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে আনুষঙ্গিক যাই হোক, পেট ভরে খেতে হবে। নৈশভোজের পরে মিষ্টি স্বাদের কিছু একটা খেতে হবে। যেমন— সুজির পায়েস, চালের পায়েস, হালুয়া, কাস্টার্ড পুডিং। কিছুই না পাওয়া গেলে অন্তত দুটো মিষ্টি। 

গরমের দিনে যখনই বেশি ঘাম হবে, তখনই নুন-চিনির জল খাবে এবং তার মধ্যে দু-চার ফোঁটা পাতিলেবুর রসও মেশাতে পারো। সারাদিনে অন্তত আট গেলাস জল খাওয়া দরকার। 
আমি তোমাদের যে ডায়েট অনুসরণ করতে বললাম, সেটিকে ভাল করে লক্ষ করলে বুঝতে পারবে যে, এই ডায়েটটা উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্তরাও অনায়াসে অনুসরণ করে চেহারা ভাল করতে পারবে। 

এই ডায়েট বুঝতে তোমাদের যদি কোনওরকম অসুবিধে হয় তবে আমার সঙ্গে সরাসরি ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য অনলাইন মিডিয়াতে যোগাযোগ করতে পারো। 

পরের সপ্তাহে আমার ডায়েট টিপস হবে তাদেরই জন্য, যারা সাত-আট মাস বাড়িতে বসে পড়াশুনো করার জন্য অনেকটাই ওজন বাড়িয়ে ফেলেছে। যারা রোগা থেকে চেহারা ভাল করতে চাও, তাদের ক্ষেত্রে বাড়িতে করার জন্য আমি কিছু সহজ কিন্তু ফলপ্রসূ ব্যায়াম শিখিয়ে দেব। সুতরাং তোমরা পরবর্তী পর্বগুলোতে নজর রেখো। মন শক্ত করে একটা লক্ষ্য রেখে এগিয়ে চলো। আমি সবসময় তোমাদের পাশে আছি। 

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -