SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali

ডাক্তার বললেন, ‘‘গতকাল আসলাম হাসপাতাল থেকে ধরা পড়েছে’’

জুন ২২, ২০১৬
Share it on
রোদটা মুখের উপর পড়ায় চোখ খুলতে পারছিলাম না। কিন্তু, আমার ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। শরীরটা অনেক হালকা লাগছে। তবে কোমরের পর থেকে শরীরের অংশটা আরও যেন ভারী হয়ে গিয়েছে। পা নাড়াতেও কষ্ট হচ্ছে।

(পূর্ব কাহিনি— আশঙ্কাজনক শারীরিক অবস্থা নিয়ে গুরু তেগবাহাদুর হাসপাতালে ভর্তি সাহসিনী। একদিন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন দিল্লি মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন স্বাতী মালিওয়াল। সাহসিনীকে তিনি তার বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করেন। স্বাতী জানতে চান সাহসিনী কী খাবে। সাহসিনীর মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে ‘পায়েস’। হাসপাতালের এক চিকিৎসক নিজেই দায়িত্ব নিয়ে সাহসিনীর অস্ত্রোপচার করে। তার পর...)
 
প্রবল তেষ্টায় গলা ফেটে যাচ্ছিল। আমি জল-জল বলে কিছু বললাম। ভাল করে কিছু দেখতে পাচ্ছি না। কেমন একটা আচ্ছন্নের মতো অবস্থা। চোখ খোলার চেষ্টা করলাম কোনওমতে, কিন্তু, চোখের সামনের ঘোলাটে দৃষ্টিটা গেল না। একটু পরে টের পেলাম মুখে কেউ জল ঢেলে দিচ্ছে। একজন আমার কানের কাছে মুখ এনে বলল ‘‘কিছু অসুবিধা হচ্ছে কি না।’’ আমি কোনও মতে মাথা নাড়লাম। 

বুঝতে পারছিলাম একটা আচ্ছন্নভাব আমাকে ছেয়ে আছে। কিছুক্ষণ পরে কে একজন এল বুঝতে পারলাম না। আমাকে পরীক্ষা করে দেখে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর এক নার্স এলেন, তিনি আমাকে আবার একটা ইঞ্জেকশন দিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমে চোখ বুঝে এল। 

রোদটা মুখের উপর পড়ায় চোখ খুলতে পারছিলাম না। কিন্তু, আমার ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। শরীরটা অনেক হালকা লাগছে। তবে কোমরের পর থেকে শরীরের অংশটা আরও যেন ভারী হয়ে গিয়েছে। পা নাড়াতেও কষ্ট হচ্ছে। এখনও আমাকে আইসিইউ-তেই রাখা হয়েছে। ক’টা বাজে জানি না। ঘরে কোনও নার্সকেও দেখতে পেলাম না। 

অনেকক্ষণ পর ঘরে ঢুকলেন একজন নার্স। চোখ খেলা দেখে আগে আমার কাছে এলেন। জানতে চাইলেন, কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না। তখনও আমার শরীরে স্যালাইন চলছে। স্যালাইনের প্লাস্টিকের বোতলে যে সূচটা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে দিয়ে তির তির করে ফোঁটা ফোঁটা স্যালাইন ওয়াটার পাইপের মধ্যে দিয়ে আমার শরীরে ঢুকছে। 

নার্সকে জিজ্ঞেস করলাম ক’টা বাজে। নার্স বলল সকাল ৮টা। আমি বললাম খিদে পাচ্ছে। নার্স বললেন, আগে উনি আমাকে পরিষ্কার করে দেবেন, তার পর খাবার মিলবে। আমি আর কোনও আপত্তি জানালাম না। নার্স আমাকে বিছানায় আধশোয়া করেই দাঁত মাজিয়ে দিলেন। মুখ ধুয়ে দিলেন। আমার পরিচর্যা শেষ হলে নার্স কোথায় যেন ফোন করে খাবার দিয়ে যেতে বললেন। খানিকক্ষণের মধ্যে খাবার চলেও এল। একটু কনফ্লেক্স আর দুধ। সঙ্গে একটা কলা। তিনিই আমাকে খাইয়ে দিলেন। তার পর আমাকে ফের শুইয়ে দিলেন বিছানায়। ঘর থেকে বেরনোর আগে বলে গেলেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসক আসবেন। ততক্ষণ আমাকে বিশ্রাম নিতে বললেন।

আরও পড়ুন

‘অপারেশন থিয়েটারের ঘরটা অদ্ভুত ঠান্ডা। চারিদিকে কেমন যেন অন্ধকার’

‘আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী খাব? আমার মুখ দিয়ে বের হল পায়েস’

‘আমার চারপাশটা অন্ধকার হতে লাগল।আস্তে আস্তে চোখ বন্ধ হয়ে এল আমার’

 

আচমকাই বাইরের করিডর থেকে আওয়াজটা ভেসে আসছিল। প্রচণ্ড হইচই আর চিৎকারের গলা। আইসিইউ-এর দরজাটা বন্ধ থাকলে বাইরের কোনও শব্দ ভিতরে আসে না। তবে, এখন ‘ডাক্তারনি’ এসেছেন। ফলে, দরজাটা পুরো বন্ধ করা নেই। আর সেই ফাঁক দিয়েই সমানে আওয়াজটা ভেসে আসছে। ‘ডাক্তারনি’ বাইরে পাঠালেন একজন নার্সকে বিষয়টি কী হয়েছে তা দেখতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই নার্স ফিরে এলেন। ঘরে ঢুকেই আমার দিকে এক দু’বার তাকিয়েই ডাক্তারনির কানে কানে কী সব বলেলন। ডাক্তারনি ওই নার্সের কথায় ‘হুম’ বলে বেরিয়ে গেলেন। যাওয়ার সময় আমাকে বলে গেলেন বিশ্রাম নিতে। 

পরের দিন সকাল। আজও ভোরে ঘুম ভেঙেছে। তাকিয়ে আছি কতক্ষণে চিকিৎসক আসবেন। কিছুক্ষণ পর নার্স এলেন। গতকালের মতো আজও আমার দাঁত মাজিয়ে মুখ-চোখ পরিষ্কার করে দিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি ‘ডাক্তারনি’ চলে এসেছেন। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘‘কী রে, কেমন আছিস?’’ বললাম, ‘‘ভাল। ‘তবে পা নাড়াতে পারছি না। মনে হচ্ছে পা ছিঁড়ে গিয়েছে।’’ ডাক্তারনি আমার কব্জির কাছে টিপে টিপে কী যেন দেখলেন। বুঝলাম আমার নাড়ির খোঁজ চলছে। 

খানিক পরে মিটল ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরিক্ষা। ডাক্তারনি আমার বেডের পাশে রাখা টুলে বসে পড়লেন। আমার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বললেন, ‘‘গতকাল আসলাম ধরা পড়েছে।’’ 

এই কথাটায় আমি কেমন যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম। ডাক্তারনি বলে চললেন, ‘‘গতকাল দুপুরে আমি যখন তোকে দেখতে এসেছিলাম তখন ও হাসপাতালে এসেছিল। এদিক ওদিক তোর খোঁজ করছিল। এরমধ্যে ওয়ার্ডবয়রা ওকে আটকে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ আসলামকে গ্রেফতার করেছে। আসলাম বলছে তুই ওর আত্মীয়। ও তোর কাকা। পুলিশ হয়তো তোর বয়ান নিতে ফের আসবে।’’

ডাক্তারনির কথাটা শুনে চোখ দিয়ে টপটপ করে ফের একগাদা জল বেরিয়ে এল। 

(ক্রমশঃ)     

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -