SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali

ফিটমন্ত্র: গৃহবধূদের ফিটনেস ও সৌন্দর্য ধরে রাখার বিভিন্ন উপায়, পর্ব ২

ডিসেম্বর ১২, ২০১৬
Share it on
বিয়ের পরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এবং অনেক সময় নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বড়দের সম্মান রাখতে হয় এবং অচিরেই ওবেসিটির শিকার হতে হয় মেয়েদের। বাঙালি সমাজে এই প্রথা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।

আগের ব্লগে বিস্তারিতভাবে ডায়েটের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। ডায়েট ব্যাপারটাকে আমি সব সময় গুরুত্ব দিয়ে থাকি, কারণ ফিটনেস = ৭০% ডায়েট + ৩০% ব্যায়াম। 

হাউসওয়াইফরা, যাঁরা বেশিরভাগ সময়ে গৃহকন্নার কাজে ব্যস্ত থাকেন, বড় একটা বাইরে ঘোরাঘুরি বা হাঁটাচলার কাজ করেন না কিংবা বিয়ের ঠিক পরেই অনেক সামাজিক বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগদান করে বেশ কিছুদিনের মধ্যেই দেহের ওজন অনেকটাই বাড়িয়ে ফেলেছেন, যেটা বিয়ের আগে একদমই ছিল না, এই পর্বে তাঁদেরই মুশকিল আসানের উপায় নিয়ে আলোচনা করব। 

ওজন বৃদ্ধি বা মেদবৃদ্ধির প্রথম এবং প্রধান কারণ লাগামছাড়া খাওয়া এবং সেই অনুপাতে কায়িক পরিশ্রমের একান্ত অভাব। আবার বিয়ের পরে অনেক সময়ে নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বড়দের সম্মান রাখতে, তাঁদের কথা শুনে স্বাস্থ্য ভাল করতে হয় এবং অচিরেই ওবেসিটির শিকার হতে হয়। বাঙালি সমাজে এই প্রথা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। আর এই মুহূর্তে ফাস্টফুড ও জাঙ্কফুডের দৌলতে ওবেসিটি হওয়ায় প্রক্রিয়াটি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। 

এই বিষয়ে আমার আগের ব্লগটি, গৃহবধূদের ফিটনেস ও সৌন্দর্য ধরে রাখার বিভিন্ন উপায়, পর্ব ১ একবার দেখে নিতে হবে। কিন্তু বিয়ের ঠিক পরেই শারীরিক পরিবর্তনটা যখন নজরে আসবে গৃহবধূদের, তখন তাঁরা কী করবেন, তারই উপায় দেখিয়ে দিতে চাই এই অধ্যায়ে।   

মেদবৃদ্ধি আটকানোর তাৎক্ষণিক উপায়

১. বিয়ের আগের দেহের ওজন আর এখনকার ওজনের পার্থক্য দেখুন। 

২. ৬ মাস বিয়ে হয়ে গিয়ে থাকলে এবার নিজের ভালর জন্যই মনটা শক্ত করুন। কারণ বেশি ওজনবৃদ্ধি হলে বা পেট এবং কোমরের ফ্যাট অতিরিক্ত হলে গায়নোকলজিক্যাল সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং সন্তান প্রসবের আগে বা পরে অন্যান্য অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আজকালকার দিনে বিজ্ঞানের প্রসারের গুণে মা, দিদিমা, শ্বশুরবাড়ির বড়রাও এই ব্যাপারে যথেষ্ট অবহিত। কিন্তু অগ্রণী ভূমিকা আপনাকেই নিতে হবে। 

৩. ছোট পরিবার হলে ওজন কমানোর দায়িত্ব পুরোটাই আপনাকে নিতে হবে। যেমন—

ক. যদি আপনি নিজে রান্নার হাল ধরেন, তা হলে সবচেয়ে ভাল। নাহলে যিনি এই কাজটা করেন তাঁকে অনুরোধ করতে হবে যাতে রান্নায় তেল, নুন, ঝাল, মশলা এবং চিনির পরিমাণ যতটা সম্ভব কমিয়ে দেওয়া যায়। 

খ. বাজার করার ধরন পাল্টে ফেলতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস আস্তে আস্তে করে পাল্টে ফেলার চেষ্টা করতে হবে। 

গ. খাদ্যতালিকায় মরশুমি শাক, সবজি এবং স্যালাডের আধিক্য রাখতে হবে। 

ঘ. পেট ভরাতে হবে স্যুপ, বিভিন্ন সবজি দেওয়া ডাল, গ্রিন ভেজিটেবলস, রায়তা আর বিভিন্ন স্যালাডের মাধ্যমে। 

ঙ. যেটা সবচেয়ে জরুরি সেটা হল কোনওমতেই ৫০ গ্রাম চালের বেশি ভাত খাওয়া যাবে না। 

মেদ কমানোর ডায়েট পর্ব 

১. ঘুমের থেকে উঠে একগ্লাস ঈষদুষ্ণ জলে লেবু দিয়ে খেতে হবে। 

২. আধঘণ্টা পরে গ্রিন টি বা লিকার টি বা চিনিছাড়া চা। 

৩. ব্রেকফাস্টে দুটো রুটি আর আলুছাড়া সবজি অথবা নোনতা ওটস কিংবা কর্নফ্লেকস। 

৪. লাঞ্চের একঘণ্টা আগে একটা বড় শশা— কারণ এটা খেলে ভাত খাওয়ার ইচ্ছে একেবারে কমে যায়। 

৫. ভাতের পাতে ৪০ গ্রাম থেকে ৫০ গ্রাম চালের ভাত, বিভিন্ন মরশুমি সবজি দেওয়া ডাল, একটা গ্রিন ভেজটেবল, এক বা দু’পিস কম ঝাল-তেলে রান্না করা মাছ, সঙ্গে সম্ভব হলে টক দই। 

৬. ঘণ্টাখানেক পরে একটা ফল— আপেল কিংবা পেয়ারা কিংবা পাকা পেঁপে। 

৭. বিকেলে এককাপ চিনিছাড়া চা আর একটা বিস্কুট। 

৮. মাঝখানে যদি খিদে পায়, তা হলে অল্প ছোলার চাট, শুকনো তেলছাড়া ভাজা চিঁড়ে কিংবা একমুঠো মুড়ি, অল্প চানাচুর চলতে পারে। 

৯. ডিনার বেশি রাতে না করলেই ভাল। দুটো রুটি, বিভিন্ন সবজি দেওয়া ডাল, মশলা কম দিয়ে হাল্কা সবজি, চিকেন কিংবা মাছ চলতে পারে। তার সঙ্গে স্যালাড কিংবা রায়তা। 

আমি খুব প্র্যাকটিকাল আর মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যা বোঝার চেষ্টা সব সময় করি। পাঠক-পাঠিকার অনুমতি নিয়ে আমি একটা প্রশ্ন করব। আমি কি আপনাদের এমন কোনও দুরূহ ডায়েট বলেছি যেটা ফলো করা অসম্ভব? আমি জানি উত্তর নিশ্চয়ই হবে ‘না’। তবে দরকার নিজেকে রূপান্তরিত করার অদম্য ইচ্ছে। পরের পর্বে আসছি স্লিম আর ফিট হওয়ার জন্য ২০ মিনিটের ফ্রিহ্যান্ড ব্যায়াম নিয়ে। 

 

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -