SEND FEEDBACK

ফিটমন্ত্র: অল্পবয়সিদের জন্য দু’মাসে ৫ কিলো ওজন কমানোর ডায়েট

ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৭
Share it on
ডাক্তার যেমন রুগীকে ওষুধের ঠিকঠাক ডোজ বলে দেন, ঠিক সেভাবেই তোমাকে সঠিক ডায়েট প্ল্যান অনুযায়ী সময়মতো খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

আগের ব্লগে আমি বলেছিলাম, ‘ফিটনেস ইজ নট সিকনেস।’ অর্থাৎ না খেয়ে বা কারও কথা না শুনে নিজের মনমতো ক্র্যাশ ডায়েট করে অসুস্থ হয়ে পড়াকে কখনওই ফিটনেস বলা যায় না। কিন্তু এটাও ঠিক যে ফিটনেস = ৭০ শতাংশ ডায়েট + ৩০ শতাংশ এক্সারসাইজ। তোমাদের মনে প্রথমেই একটা প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ৭০ শতাংশ ডায়েট মানে কি একদম না খাওয়া? 

গুরুপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়

একদমই না। ডায়েট মানে তোমার শরীরের চাহিদা অনুযায়ী কি খাওয়া আর কী কী না খাওয়া। সুতরাং না খাওয়া কনসেপ্টটা পুরোপুরি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দেওয়া প্রয়োজন। তার মানে কিন্তু এটাও নয় যে তোমার যা যা খেতে ভাল লাগবে গোগ্রাসে খাওয়া! 

ডাক্তার যেমন রুগীকে ওষুধের ঠিকঠাক ডোজ বলে দেন, ঠিক সেভাবেই তোমাকে সঠিক ডায়েট প্ল্যান অনুযায়ী সময়মতো খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। রোগ তাড়াতাড়ি সারাবার জন্য কি ডবল ডোজ মেডিসিন খাওয়া যায়? ঠিক তেমনি তাড়াতাড়ি রোগা হতে গেলে উপোস করে থাকা যায় না— ধৈর্য ধরতেই হবে। ‘স্লো অ্যান্ড স্টেডি উইনস দ্য রেস!’

তাহলে এবার আমি একটা কমন ডায়েট প্ল্যান দিচ্ছি, যারা স্কুল কিংবা কলেজ পড়ুয়া টিনএজার্স এই ডায়েট ফলো করে হাল্কা ২০ মিনিট বাড়িতে ব্যায়াম করলে মোটামুটি দু’মাসে তিন থেকে পাঁচ কিলোগ্রাম ওজন কমাতে পারবে তারা। তার সঙ্গে চেহারার টোনিং এবং শেপিংও হবে। যেহেতু ফিটনেসের ক্ষেত্রে ডায়েট খুবই জরুরি, তাই বিশদভাবে এই ব্লগে আমি ডায়েট নিয়ে আলোচনা করব। 

আমি একটা জেনারেল টাইমিং দিয়ে ডায়েট বলছি-- তোমরা তোমাদের সুবিধে অনুসারে মডিফাই করতে পারো। কোনও অসুবিধা হলে আমার থেকে নিশ্চিন্তে ক্ল্যারিফাই করে নিও। 

সকাল ৭টা— এক গ্লাস হাল্কা গরম জলে এক বা দু’ফালি পাতিলেবুর জল খাবে। 

সকাল সাড়ে ৭টা— এক কাপ গ্রিন টি বা দুধ-চা বা লিকার চা বা স্কিমড মিল্ক একটা নরম্যাল বিস্কুটের সঙ্গে। খুব মিষ্টি বিস্কুট যেন না হয়। 

সকাল ৯টা— স্কুল বা কলেজ যাওয়ার আগে এক কাপ ভাত (৪০ গ্রাম চালের, ব্রাউন রাইসও চলতে পারে) ডালের মধ্যে বিভিন্ন মরশুমি সবজি, যে কোনও সবুজ সবজি, এক বা দু’পিস মাছ ও তার সঙ্গে পারলে বাড়িতে পাতা টক দই। 

দুপুর ১টা থেকে ২টোর মধ্যে— ক) দুটো রুটি আর পাঁচমিশেলি সবজি বা তরকা বা ঘুগনি, খ) আপেল, পেয়ারা আর শশা, গ) ডালিয়া, সবজি দিয়ে। 

বিকেল ৪টে— ছুটি হলেই বাড়িতে ফেরার আগে একটা ফল খাবে যাতে বাড়ি ফিরে খুব খিদে না পায়। 

বিকেল ৫টা— বাড়ি ফিরে ক) স্প্রাউটস অর্থাৎ ছোলা, টম্যাটো, পেঁয়াজ, শশা দিয়ে চাট মতো করে খেতে পারো অথবা খ) শশা-পেঁয়াজ দিয়ে অল্প মুড়ি মাখা বা গ) ২ পিস ব্রাউন ব্রেড দিয়ে ভেজিটেবিল স্যুপ অথবা ঘ) নোনতা ওটস অথবা ঙ) ছানা। 

৯টা থেকে ১০টা— ২টো রুটি, সবজি, ডাল-মাছ অথবা চিকেন চলতে পারে। রাতে স্যালাড কিংবা রায়তা খাবে। সমস্যা হবে যদি স্কুলের পরে টিউশন যেতে হয়। 

টিউশনের ক্ষেত্রে স্কুল ছুটি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপেল কিংবা পেয়ারা। ব্যাগে একটা কৌটো করে অল্প মুড়ি-চানাচুর কিংবা শুকনো খোলায় চিঁড়ে ভাজা খেতে হবে ঘণ্টাখানেক পর। ছোলা মিশিয়ে নিতে পারো। টিউশন শেষ হলে বাড়ি যাওয়ার আগে দুটো বিস্কুট আর জল খেতে হবে। তা হলেই অনায়াসে রাত ৯টা পর্যন্ত টিউশনের ধকল সহ্য করতে পারবে। বাড়ি ফিরে প্রথমেই মুখ-হাত পা ধুয়ে ফ্রেশ হওয়ার পরে এক গ্লাস জল খেতে ভুলবে না। তার কিছুক্ষণ পরে ডিনারে বসবে। 

আমি তোমাদের সমস্যা খুব প্র্যাকটিকাল অ্যাঙ্গল থেকে দেখি। অনেক রাত অবধি পড়াশোনা করতে হয়, কিছু করার নেই। আমি আমার সব টিনএজ বন্ধুদের অনুরোধ করব, তারা যেন যতটা সম্ভব রাত জেগে না পড়ে সকালে উঠে কিছুটা পড়ার চেষ্টা করে। লেটনাইট হলে অবশ্যই এক কাপ দুধ খাবে। পারলে মেডিসিনের দোকান থেকে ফ্যাটলেস হেলথ ড্রিংক কিনবে আর দুধের সঙ্গে দু’চামচ মিশিয়ে একটা কি দুটো বিস্কুট দিয়ে খাবে। 

আরও পড়ুন

টিনএজার ও অল্পবয়সীরা কীভাবে নিজেদের ফিট রাখবে, পর্ব ১

পরের সংখ্যায় দশ থেকে কুড়ি মিনিটের মধ্যে ফ্যাট লস এবং ফিটনেসের কিছু প্র্যাকটিকাল এক্সারসাইজ বলে দেব, যেটা স্কুলে যেতে যেতে কিংবা ফেরার সময়ে করতে পারো। চোখ রেখো পরের ব্লগে। 

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -