SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali

ফিটমন্ত্র: পুজো ফিটনেস স্পেশ্যাল, গ্ল্যামার বাড়ানোর কিছু এক্সারসাইজ

অগস্ট ৩১, ২০১৭
Share it on
ডায়েটের সঙ্গে যদি শরীরের রক্তচলাচল ঠিক রাখা যায় তাহলে হজমক্ষমতা বাড়ে এবং খাদ্য-খাবার শরীরে লাগে। আর ঠিকঠাক রক্তচলাচল স্কিনের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

 

গতবারের ব্লগে লেখা গ্ল্যামার ডায়েট টিপস নিশ্চয়ই শুরু করে দিয়েছেন। আমি সব সময় বলি, ফিটনেস=ডায়েট ৭০% + এক্সারসাইজ ৩০%। 

এবার আমি শরীরটা পুজোর মধ্যে যাতে ফিট এবং টানটান দেখায় তারই পরিকল্পনা নিয়ে আসরে নামছি। ডায়েটের সঙ্গে যদি শরীরের রক্তচলাচল ঠিক রাখা যায় তাহলে হজমক্ষমতা বাড়ে এবং খাদ্য-খাবার শরীরে লাগে। ঠিকঠাক রক্তচলাচল স্কিনের উজ্জ্বলতা বাড়ায়— শরীরে কুঁজো ভাব কেটে গিয়ে টান টান ভাবে হাঁটা-চলা করা যায়— এবং আত্মপ্রত্যয় যথেষ্ট বাড়ে। শরীর ফিট থাকলে আত্মপ্রত্যয় তুঙ্গে থাকলে পুজোর পোশাকে আপনি নিজেকে অনায়াসেই ‘ক্যারি’ করতে পারবেন। তাহলেই সুন্দর দেখাবে। 

আমার ডায়েটের সঙ্গে নিম্নলিখিত খুব সহজ ব্যায়ামগুলো রোজ ২০ মিনিট অভ্যাস করলেই যথেষ্ট। এই অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার শরীরে পুরো রক্ত চলাচল হবে।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

নি ফ্রন্ট অ্যান্ড ব্যাক 

ছবির মতো দুটো পা একটু ফাঁক করে মাটি খেকে ৪৫ ডিগ্রি তুলতে হবে। তার পর ফিগার ২-এর মতো পা দুটো শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে বুকের কাছে আনতে হবে। আবার শ্বাস নিতে নিতে দুটো পা একসঙ্গে সোজা করতে হবে। ১০x২ বার অর্থাৎ ২০ বার করতে হবে। 

নি টু চেস্ট

ছবির মতো দুটো পা মাটি থেকে ৪৫ ডিগ্রি তুলে রাখতে হবে— তার পর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে একসঙ্গে বুকের কাছে আনতে হবে আর হাত দুটোর সাহায্যে ছবির মতো পেটের সঙ্গে এক দু’সেকেন্ড চেপে আবার শ্বাস নিতে নিতে পা দুটো সোজা করতে হবে। এই দুটো ব্যায়ামে পেটের গ্যাস-অম্বল কমাতে সাহায্য করে, হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। ১০x২ বার অর্থাৎ ২০ বার করতে হবে।

হাফ-স্কোয়াট

ছবির মতো প্রথমে দুটো পা অল্প ফাঁক করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। তার পর মোটামুটি ৫০ ডিগ্রি বসে আবার পা দুটো টানটান করে দাঁড়াতে হবে। এরকম ১৫x২ বা ৩০ বার করতে হবে। হাফ স্কোয়াটে পায়ের পেশি সবল হয়— থলথলে ভাব কেটে শেপিং এবং টোনিং হয়। 

টিপ টো হিলওয়াক

ছবির মতো প্রথমে পায়ের দুটো হিলের উপর টান টান হয়ে দাঁড়াবে। তার পর আবার ছবির মতো পায়ের আঙুল অর্থাৎ টোয়ের উপর দাঁড়াবে। এইভাবে ১৫x২ বার অর্থাৎ ৩০ বার করতে হবে। এই ব্যায়ামে পায়ের ডিমের মাংসপেশি সুদৃঢ় হয় এবং সঠিক শেপ হয়।

বারবেল রোয়িং 

ছবির মতন প্রথমে একটা বড় বড় কিংবা লাঠি নিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকতে হবে। তার পর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে বুকে ঠেকিয়ে আবার শ্বাস নিতে নিতে সোজা নামাতে হবে। এভাবে ১৫x২ বার বা ৩০ বার করতে হবে। এই ব্যায়ামে ছেলেদের পিঠে ভি শেপ হয় আর মেয়েদের ক্ষেত্রে পিঠে অতিরিক্ত মেদ কাটিয়ে শেপিং হয়। 

ফ্রন্ট রেইজ

 

প্রথম ছবির মতন একটা মাঝারি রড কিংবা লাঠি নিয়ে দুটো থাইয়ের পাশে হাত ঝুলিয়ে রাখতে হবে। তার পর শ্বাস নিতে নিতে দুটো হাত একসঙ্গে তুলে শরীরটাকে পিঠ থেকে পিছন দিকে অল্প আর্চ অর্থাৎ শরীর বাঁকাতে হবে। শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে হাত দুটো আবার নামাতে হবে। এভাবে ১৫x২ বার বা ৩০ বার করা দরকার। এই ব্যায়াম কাঁধের পেশি মজবুত হয় আর যাদের পিঠ কুঁজো তাদের পিঠ টানটান করতে সাহায্য করে। 

ব্যাক প্রেস 

ছবির মতো প্রথমে একটা রড কিংবা লাঠি চওড়া করে উপরে তুলে ধরতে হবে। এবার শ্বাস নিতে নিতে পিঠের পিছনে যতটা সম্ভব স্ট্রেচ করে নামাতে হবে। আবার শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে উপরে তুলতে হবে। এইভাবে ১৫x২ বার বা ৩০ বার করা প্রয়োজন। এই ব্যায়ামে পিঠ চওড়া হয়, শিরদাঁড়া সোজা হয় আর অতিরিক্ত ফ্যাট ঝরে যায়। 

স্ট্যান্ডিং ফ্লাইং

ছবির মতো দুটো জলভরা বোতল সামনের দিকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। এবার শ্বাস নিতে নিতে দুটো হাত একসঙ্গে পিছন দিকে যতটা সম্ভব স্ট্রেচ করতে হবে যাতে বুকের মাংসপেশিতে টান অনুভব হয়। আবার শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে হাত দুটো বোতলসমেত সামনে আনতে হবে। এভাবে ১০x২ বার অর্থাৎ ২০ বার করা দরকার। এই ব্যায়ামে বুকের ছাতি চওড়া হয়, বুক-পিঠ টান টান হয়। বুকের খাঁচা বড় হয়— তাছাড়াও এটা খুব ভাল ব্রিদিং এক্সারসাইজ। বুকের শেপ ভাল হয়। 

ব্যাক পুশ আপস 

ছবির মতো একটা জানলার ধারে হাত দুটো সোজা করে রাখতে হবে। তার পর হাঁটু এবং কনুই দুটো একসঙ্গে ভাঁজ করতে হবে। আবার হাত দুটো টান টান করে দাঁড়াতে হবে। এই ব্যায়ামে হাতের পেছনদিকের মাসল তৈরি হয় আর যাদের থলথলে হাত তাদের টোনিং এবং শেপিং হয়। এটি ১৫x২ বার অর্থাৎ ৩০ বার করতে হবে। হাতের জোর বাড়ে। 

অলটারনেট কার্লিং 

জলভরা দুটো বোতল নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। এবার ছবির মতো বাঁ হাত ভাঁজ করে কনুই টাইট করতে হবে। আবার বাঁ হাত নামিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ডান হাত টাইট করতে হবে। এই রকম ১০x২ বার অর্থাৎ ২০ বার করা দরকার। হাতের সামনের দিকের মাংসপেশি অর্থাৎ বাইসেপস মাসল ডেভেলপ করবে আর যাদের নরম হাত তাদের টোনিং করতে সাহায্য করবে। হাতের জোর বাড়াবে। 

বারবেল রিস্ট কার্লিং

ছবির মতো প্রথমে একটা মাঝারি রড কিংবা লাঠি নিয়ে আঙুলে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। তার পরে আস্তে আস্তে দুটো রিস্ট উপর দিকে ঘোরাতে হবে, যাতে করে রিস্টে এবং তার উপরের মাংসপেশি অর্থাৎ ফোর আর্মসে চাপ পড়ে। এইভাবে ১৫x২ বার অর্থাৎ ৩০ বার করতে হবে। এই ব্যায়ামে রিস্ট চওড়া হয় আর হাতের জোর বাড়ে। 

হাতে আর সময় নেই। ভাল করে বুঝে নিয়ে ব্যায়ামগুলি শুরু করুন। জলের মতো সহজ ব্যায়াম এগুলো। আমি বলছি না যে এই ক’দিনেই এই ব্যায়ামগুলো করলে দারুণ চেহারা হবে। কিন্তু এটা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি যে আপনার ফিটনেস বাড়বে, চেহারায় একটা টানটান ভাব আসবে, হজমশক্তি বাড়বে, জৌলুস বাড়বে এবং সব মিলিয়ে একটা আলাদা ‘বডি ল্যাঙ্গোয়েজ’ তৈরি হবে যেটা আপনার কনফিডেন্স লেভেল বাড়াতে বাধ্য। এই ব্যায়ামগুলো আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই নিশ্চিন্তে করতে পারেন। 

এর পরের সংখ্যা থেকে পুজো পর্যন্ত পুরো গ্ল্যামার বাড়ানোর ডালি নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হচ্ছি! নমস্কার! 

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -