SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali

ফিটমন্ত্র: পুজোর আগে গ্ল্যামার বাড়ানোর লাস্ট মিনিট টিপস

সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭
Share it on
প্রথম ভাগে অর্থাৎ এই এপিসোডে থাকবে ‘লাস্ট মোমেন্ট সাজেশন’। আর এর পরের ব্লগে থাকবে মনের সৌন্দর্যায়নের এক বিশেষ এবং ফাইনাল এপিসোড।

গুরুপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়: লাস্ট মোমেন্ট সাজেশন নিয়ে হাজির 

পুজোর আগে আমি চাইব এবেলা ব্লগের সব পাঠক-পাঠিকারা যেন শরীর এবং মনে সৌন্দর্যের শেষ তুলির টানে মনঃসংযোগক করেন। পুজোর আগে এই শেষ দুটো সপ্তাহ আমি আমার লেখাকে দু’ভাগে ভাগ করব। প্রথম ভাগে অর্থাৎ এই এপিসোডে থাকবে ‘লাস্ট মোমেন্ট সাজেশন’। আর এর পরের ব্লগে থাকবে মনের সৌন্দর্যায়নের এক বিশেষ এবং ফাইনাল এপিসোড।  কারণ আমার দৃঢ় বিশ্বাস— আপনারা যতই যাই করুন না কেন, একটা সুন্দর মুখের অধিকারী হতে গেলে অবশ্যই দরকার একটা শান্ত এবং টেনশন ফ্রি মন। 

আমরা সবাই জানি, ‘ফেস ইজ দ্য ইনডেক্স অফ মাইন্ড’। মনই মুখের আয়না! তাহলে এই এপিসোডে শারীরিক লাস্ট মোমেন্ট টাচ আপ নিয়ে মনখোলা আলোচনা করব। 

এই ভাদ্দুরে রোদে যাঁরা বাসে-ট্রামে অফিস -কাছারি যান— অনেকটা হেঁটে কাজের জায়গা বা স্কুল-কলেজ যেতে হয় তাঁদের ট্যান পড়বেই— রোদে পুড়ে একটা অস্বাভাবিক কালচে ছোপ পড়ে মুখে, গলায় এবং হাতে। এই সানবার্ন থেকে মুক্তির সহজ ঘরোয়া, সস্তা এবং সোজা উপায় বলব। ফলো করলে এই শেষ পনেরো দিনই আবার স্কিনের হারানো সৌন্দর্য ফিরে পাবেন। 

আমাদের স্কিন মোটামুটি তিন ধরনের হয়— ক) স্বাভাবিক খ) তৈলাক্ত গ) শুষ্ক 

ক এবং খ দুটোরই ক্ষেত্রে— স্নানের আগে বেসন দিয়ে মুখটা পরিষ্কার করে, ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার টাওয়েল দিয়ে মুখটা মুছে নিন। তার পর ২ চা-চামচ অলিভ কিংবা নারকেল তেল, শশার খোসা না ছাড়িয়ে (হাফ শশা)গ্রেট করা, হাফ টম্যাটো গ্রেট করা, আট-দশ ফোঁটা পাতিলেবুর রসের সঙ্গে এক চা-চামচ মধু দিয়ে পুরোটা পেস্ট করতে হবে। তবে শশার রসটা কিন্তু নিংড়ে ওই পেস্টে মেশাতে হবে। 

এবার আলতো করে গলায়, মুখে এবং হাতে যেখানে যেখানে রোদে ট্যানিং হয়েছে ওই সব জায়গায় অন্তত পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করতে হবে। এবার ২০ মিনিট রেখে স্নান করে নিতে হবে। বাইরে বেরনোর সময় হাল্কা ময়শ্চারাইজার মেখে তার উপর সানস্ক্রিন মাখলে ভাল। এই ক’দিন চেষ্টা করতে হবে যতটা সম্ভব হাফহাতা শার্ট না পরে ঢিলে ঢালা হাল্কা রঙের ফুল স্লিভ জামা পরা। 

টম্য়াটোর রস ওই পেস্টের সঙ্গে একদিন অন্তর একদিন মেশাতে হবে, রোজ নয় কিন্তু। যাঁদের ত্বক শুকনো, তাঁরা উপরে লেখা মিশ্রণটি ব্যবহার করবেন কিন্তু তার সঙ্গে এক চামচ মাখন মিশিয়ে নেবেন। 

রাতে শোবার আগে এই দু’সপ্তাহ মুখটা ভাল করে হাল্কা ফেস ওয়াশ দিয়ে ধোবেন। তার পরে একটা পাত্রে (বোল) ফুটন্ত জল ঢেলে মাথাটা একটা তোয়ালে দিয়ে পুরোটা ঢেকে গালে-গলায় গরম ভাপ (স্টিম) নিতে হবে। জলে চার-পাঁচটা তুলসিপাতা কিংবা নিমপাতা ফেললে আরও ভাল হয়। পাঁচ মিনিট ভাপ নিন। একটু পরে মুখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন। এটা মুখের ব্রণ কমাবে, মুখটা ভিতর থেকে পুরো পরিষ্কার করবে। এবার পরিষ্কার তোয়ালে নিয়ে মুখটা মুছে নিন। 

এবার একটু ময়শ্চারাইজিং লোশন হাতে ঢালুন— গলায়, গালে, কপালে আর চোখের তলায় আন্দাজ মতো কয়েক ফোঁটা লাগান। শুকনো ত্বকে একটু পরিমাণ বেশি দিতে হবে। দু’হাতের আট আঙুল দিয়ে চিবুক থেকে উপর টানে কানের পাশ দিয়ে বাইরের দিকে ঘুরিয়ে, গোল করে ধীরে ধীরে আলতো ভাবে গাল ও চিবুকের ম্যাসাজ করুন। যাঁদের শুকনো ত্বকে ময়শ্চারাইজার তাড়াতাড়ি ত্বকে টেনে নেবে। সেক্ষেত্রে আর একবার দিন। এবার হাতের দুটো তালু দুটো গালে রাখুন আর তালুর সাহায্যে উপর দিকে গালের মাংসপেশি তুলে ম্যাসাজ করুন। 

দু’হাতের দুই মধ্যমা আঙুল দিয়ে খুব আলতো ভাবে দশ থেকে পনেরো বার ক্লকওয়াইজ এবং অ্যান্টি ক্লকওয়াইজ ম্যাসাজ করুন। চোখের নীচের কোল থেকে রগ পর্যন্ত আঙুল দিয়ে অর্ধচন্দ্রাকার ম্যাসাজ করুন। যাঁদের চোখ খুব স্ট্রেস করার জন্য কালচে হয়ে গেছে কিংবা ভিতরে ঢুকে গেছে তাঁরা উপকৃত হবেন। এবার দু’হাতের আটটি আঙুল দিয়ে গলার কণ্ঠা থেকে চিবুক পর্যন্ত উপরের প্রেশারে কোনাকুনিভাবে অর্থাৎ বাঁদিকটা ডান হাতের আঙুল ও ডানদিকটা বাঁ হাতের আঙুল দিয়ে দশ থেকে পনেরো বার ম্যাসাজ করুন। 

এই পদ্ধতির ম্যাসাজটা দিনে দু’বার করতে হবে। সকালে ওই পেস্টের সঙ্গে আর রাতে ময়শ্চারাইজার দিয়ে। এতে গাল দুটো নরম হবে, বসা গালকে সতেজ করবে, চোখের তলায় কালি বা চোখ ঢুকে যাওয়া বন্ধ হবে, স্কিন উজ্জ্বল হবে, ব্রণ থাকলে বন্ধ হবে আর গালে ছোপ দাগ এবং সানট্যান ১৫ দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। এই ম্যাসাজটা হচ্ছে মুখের এক্সারসাইজ। 

ধবধবে সাদা দাঁতে যদি মুক্তোঝরা হাসি দিয়ে সবার মন জয় করতে চান, তবে খাবার সোডা অল্প দিয়ে উইকে দু’দিন ব্রাশ করুন আর দু’একদিন অন্তর একদিন পাতিলেবুর রস দিয়ে ভাল করে মাড়ি আর দাঁত মাসাজ করুন। 

যাঁদের ঠোঁট কালচে, ঠোঁটে কালো ছোপ ছোপ দাগ, শুকনো এবং জৌলুসহীন— তাঁরা ওই পদ্ধতির পরে শোবার আগে এক চামচ মাখনের (সম্ভব না হলে নারকোল তেল) সঙ্গে হাফ চা-চামচ চিনি দিয়ে কিছুক্ষণ স্ক্রাবিং করবেন অর্থাৎ পেস্টটা মাখিয়ে আলতো করে ঘষবেন। এবার টিস্যু পেপার বা পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে ঠোঁট মুছে নেবেন। 

ঠিক শুতে যাবার আগে হাফ চা-চামচ মাখন সম্ভব না হলে নারকোল তেল আর হাফ চা-চামচ মধু ভাল করে ঠোঁটে লাগিয়ে শুয়ে পড়বেন। যাঁরা অতিরিক্ত ধূমপান করেন তাঁদের এটা করা খুবই জরুরি। সাতদিনের মধ্যে আপনি দেখবেন ‘লিপ ম্যাজিক’। আমি সব সময় চেষ্টা করি যাতে আমার পদ্ধতি আবালবৃদ্ধবনিতা উচ্চবিত্ত থেকে একেবারে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সবার কাছে পৌঁছতে পারে। সবাই যেন সমানভাবে উপকৃত হন। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

আরও প্রচুর পদ্ধতি রয়েছে। যদি কারোর বুঝতে অসুবিধা হয়, কিংবা এ ব্যাপারে প্রশ্ন থাকে, আমায় অনায়াসে ফেসবুকে কিংবা হোয়াটসঅ্য়াপে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। কারণ স্কিন একটা খুব সেনসিটিভ ব্যাপার। রাতে অযথা জেগে না থেকে যতটা সম্ভব ঘুমোতে চেষ্টা করুন। সকলের কাছে আমার আবেদন— স্কিন, হেয়ার, উজ্জ্বলতা বাড়াতে হলে সকালে ঘুমের থেকে উঠেই চার গ্লাস ইষদুষ্ণ গরম জল খাওয়া অভ্যাস করতেই হবে এবং সারাদিনে অন্তত ৮ গ্লাস। 

সকালে প্রথমে এক গ্লাস গরম জল থেকে শুরু করুন। যখন চার গ্লাস খেতে পারবেন তখন নিজেই বুঝতে পারবেন আপনার ইমপ্রুভমেন্ট কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, আপনার গ্ল্য়ামার কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি তখন হবেন অপ্রতিরোধ্য! 

পরের সপ্তাহে নিয়ে আসছি ‘শেষ তুলির টান’ অর্থাৎ মনের শান্তির চাবিকাঠি, যেটা আমার মতে গ্ল্য়ামার বাড়ানোর ‘শ্রেষ্ঠ ভিটামিন’। নমস্কার। 

Fitmantra Puja Special Puja 2017 Beauty Tips Guru Prasad Banerjee Glamour Special
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -