SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali

বিনিপয়সার ইন্টারনেট: কতটা ‘অচ্ছে’?

ডিসেম্বর ২৫, ২০১৫
Share it on
নেট-নিরপেক্ষতার প্রবক্তারা বলেন যে, ইন্টারনেটের একটা মুক্ত পরিসর হিসেবেই থাকা উচিত, যেখানে ব্যক্তি অথবা সংস্থা তাদের কাজকে বৃহত্তর ভোক্তার কাছে তুলে ধরতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন ‘ফেসবুক’-এর সিইও মার্ক জুকেরবার্গের সঙ্গে দেখা করলেন, দেশ জুড়ে একটা ‘গেল গেল ’-রব উঠেছিল। বিশ্বের যে ক’টি বৃহৎ প্রযুক্তি-সংস্থার কাছে ভারত একটা গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে ইতিমধ্যেই প্রতিভাত, ফেসবুক তাদেরই একজন। বড় ব্যপারের ফ্যাঁকড়াও  বড়। এ ক্ষেত্রে মোদীর ‘বিকাশ’-এর প্রসঙ্গে জুড়ে গেল ‘নিরপেক্ষতা’-র প্রশ্ন।

লক্ষ লক্ষ ভারতবাসী এই বছরেরই গোড়ার দিকে ‘এয়ারটেল জিরো’-র বিরুদ্ধে ‘ইন্টারনেট বাঁচাও’ আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। কারণ, ‘এয়ারটেল জিরো’ নেট-নিরপেক্ষতার ধারণাটাকেই বিপন্ন করে তুলেছিল। জনগণ বিস্তর ঝঞ্ঝাট  করে ফ্লিপকার্টকে এয়ারটেল জিরো থেকে বার করে নিয়ে আসে। যাই হোক, ফেসবুক এগিয়ে এসে ইন্টারনেট ডট ও আর জি লঞ্চ করে। যাদের ইন্টারনেট অ্যাক্সেস-এর সামর্থ্য নেই, তাদের কাছে নেট-ভুবন উন্মুক্ত করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। এর দ্বারা উন্নয়নশীল দেশগুলোয় টেলিকম অপারেটরদের সঙ্গে সংয়ুক্তি ঘটিয়ে জনগণের সামনে বিনামূল্যে ইন্টারনেটকে তুলে ধরার ব্যবস্থা করা যায়। এমন ক্ষেত্রে কোম্পানির বক্তব্য এই যে, তারা তেমন ওয়েবসাইটগুলোর প্রতিই গুরুত্ব রাখতে চায়, যেখানে অধিকতর ডেটা ডাউনলোডের প্রয়োজন পড়ে না। এই ব্যবস্থার নতুন নাম দাঁড়ায়— ‘ফ্রি বেসিকস’। এটা একটা গ্লোবাল প্রোগ্রাম।

ভারতে ফেসবুক-এর অংশীদার রিলাযেন্স কমিউনিকেশনস (আর কম)। তাদের তরফ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে যে, ‘internet.org'-র সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ১০ লক্ষ। ২ অক্টোবর আর কম কনজিউমার বিজনেস সিইও গুরদীপ সিংহ জানালেন, ‘‘ সাতটি সার্কেলে আমরা  ছ’ মাস ধরে নিরীক্ষা চালিয়েছি। এবং অনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, এই ছ’মাসে আমরা প্রায় ১০ লক্ষ মানুষকে ইন্টারনেট-সংযুক্ত করতে পেরেছি।’’

তা, এখানে হচ্ছেটা কী?

ফ্রি ইন্টারনেট প্রোভাইডার অথবা সিলেক্টিভ ইন্টারনেট প্রোভাইডার কিছু বাছাই সংস্থাকেই অধিক সংখ্যক ভিউয়ার খুঁজে পেতে সহায়তা করেছিল। অন্যদিকে নেট-নিরপেক্ষতার প্রবক্তারা বলেন যে, ইন্টারনেটের একটা মুক্ত পরিসর হিসেবেই থাকা উচিত, যেখানে ব্যক্তি অথবা সংস্থা তাদের কাজকে বৃহত্তর ভোক্তার কাছে তুলে ধরতে পারে।

ইন্টারনেটের স্বাধীনতার পক্ষে যাঁরা সওয়াল করেন, তাঁদের বক্তব্য ‘ফ্রি বেসিকস’ অথবা ‘এয়ারটেল জিরো’-র মতো প্ল্যাটফর্ম নেট-নিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে যায়। এতে নেট-ব্যবহারকারীর পছন্দের বিষয়টিকে মোটেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না, তাদের সীমিত সংখ্যক সাইট-এ আবদ্ধ রাখা হয়। ‘ফ্রি বেসিকস’ –এর মতো প্ল্যাটফর্মে যে সাইটগুলি রেজিস্টার্ড, কেবলমাত্র সেগুলোর মধ্যেই নিজেকে আবদ্ধ রাখতে হয়। আর কম-এর তরফ থেকে বলা হয় যে ‘ফ্রি বেসিকস’-এ শুধুমাত্র কম ডাউনলোডিং স্পিড-সম্পন্ন সাইটগুলিই পাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে এ-ও বলা হয়, এদের ডেটা কনজাম্পশন-ও এতটাই কম যে, একে অফলাইনে তথ্যপ্রদানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। বেশ কিছু মানুষ বিশ্বাস করেছিলেন যে এতে বহু ভারতীয়, যাঁদের হাতে ডিভাইস (অন্ততপক্ষে একটি সেলফোন) রয়েছে অথচ ইন্টারনেট অ্যাকসেস নেই, তাঁদেরকে নেট-বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করবে। যাই হোক, এর দ্বারা এটা অন্তত প্রমাণ হয়নি যে, ইন্টারনেট এক মহান সমতাবিধানকারী। ইন্টারনেট সংক্রান্ত এই ধারণাগুলো বদলে ফেলার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি তো?

অনুবাদ: অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়

 

 

 

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -