SEND FEEDBACK

ফিটমন্ত্র: সিক্স প্যাকস অ্যাবস ক্রেজ পর্ব ২

মে ১৬, ২০১৭
Share it on
কার্ডিও এক্সারসাইজ এবং আমার দেওয়া ডায়েট ফলো করলে ৬ সপ্তাহেই ৮ থেকে ১০ কেজি কমতে বাধ্য। তার পরে পেটের এক্সক্লুসিভ ব্যায়াম করতে হবে।

গতবারের ব্লগে আলোচনা করেছিলাম প্রত্যেকটি মানুষের শরীরের ধাঁচ এবং গঠনের উপরে কীভাবে সিক্স প্যাকস অ্যাবসের প্রভাব পড়ে। গঠনপ্রকৃতি অনুযায়ী মোটামুটি ছেলেমেয়েদের তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 

১. মেদবহুল শরীর (ওবেস প্রকৃতি) 

২. উচ্চতা অনুপাতে ওজন কিছুটা বেশি এবং পেট ও কোমরে মেদের আধিক্য। 

৩. উচ্চতা অনুপাতে ওজন কমের দিকে এবং কাট কাট চেহারা।

প্রত্যেক ছেলেমেয়েদেরই যখন ড্রিম ফিগার নির্মেদ সিক্স প্যাক্স অ্যাবস কিংবা একেবারে ফ্ল্যাট অ্যাবস, সেই ব্যাপারেই আজ বিশদ আলোচনা করব। আজ আমরা প্রথম ক্যাটেগরির ছেলেমেয়ে কিংবা যুবক-যুবতীর ড্রিম ফিগারের কথাই বলব। 

হাইট অনুযায়ী আগেই বডিওয়েট সঠিক জায়গায় আনতে হবে। বিএমআই লেভেলের দিকে নজর দিতে হবে। এখন পুরো ব্যাপারটাই বৈজ্ঞানিক। 

১. সাধারণ ভাবে বডিওয়েট ক্যালকুলেট করতে হয় হাইট ইন সেন্টিমিটার মাইনাস ১০০ অর্থাৎ কারও যদি ১৫০ সেন্টিমিটার হাইট হয়, তবে তার থেকে ১০০ বাদ দিলে হয় ৫০ কিলো। এটাই মোটামুটি একটা হিসেব। 

২. বিএমআই ক্যালকুলেট করে বডি ওয়েট ইন কিলোগ্রাম ডিভাইডেড বাই হাইট ইন মিটার স্কোয়্যার। কিংবা গুগল-এ বিএমআই ক্যালকুলেটর সার্চ করে হাইট ইন সেন্টিমিটার আর বডিওয়েট লিখলেই বিএমআই পাওয়া যাবে। এই ক্যালকুলেশনের পরেই ফিল্ডে নামতে হবে। শরীর তথা পেট আর কোমরের ফ্যাট না কমিয়ে কেউ যদি শুধু পেটের ব্যায়াম করে, তা হলে ভুল করা হবে। মনে রাখতে হবে, সিক্স প্যাক্স অ্যাবস বা মেয়েদের ক্ষেত্রে পুরো ফ্ল্যাট অ্যাবস কিন্তু শরীরের শেষ তুলির টান। 

মেদ কমানোর দিকে নজর না দিয়ে যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা এবং দিনের পর দিন শুধু পেটের ব্যায়ামই করা যায় তাহলে লাভের লাভ কিছুই হবে না। বরং আনফিট শরীরে কোমরে চাপ পড়ে কোমরের ব্যথার রোগে ভুগতে হবে। 

সেক্ষেত্রে কী উপায়?

১। স্কুল-কলেজ কিংবা অফিসকর্মীদের, যাঁদের হাতে সময় খুব অল্প, তাঁদের একটা নিজস্ব প্ল্যানিং বার করতে হবে প্রথম ৬ সপ্তাহের জন্য— 

ক) প্রথম সপ্তাহে অন্তত কুড়ি কুড়ি করে সারাদিনে যে কোনও উপায়ে ৪০ মিনিট টোটাল হাঁটার সময় বার করতে হবে। 

খ) দ্বিতীয় সপ্তাহে ১০ মিনিট ব্রিস্ক ওয়াকের সঙ্গে ১০ মিনিট হালকা জগিং— সকাল-বিকেল মিলে ২০x২ অর্থাৎ ৪০ বার।

গ) তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে সকালে ২০ মিনিট জগিং আর বিকেলে বা রাতে ২০ মিনিট ব্রিস্ক ওয়াক।

ঘ) পঞ্চম এবং ষষ্ঠ সপ্তাহে ৩ মিনিট ব্রিস্ক ওয়াক ও ৩ মিনিট জগিং আর ২ মিনিট একটু স্পিডে দৌড়নো। এর পর ২ মিনিট রেস্ট। এটা ১০ মিনিটের একটা স্পেল। এই রকম দুটো স্পেলে ২০ মিনিট করতে হবে সকাল এবং বিকেল। 

এই কার্ডিও এক্সারসাইজ এবং আমার দেওয়া ডায়েট ফলো করলে ৬ সপ্তাহেই ৮ থেকে ১০ কেজি কমতে বাধ্য। তার পর পেটের এক্সক্লুসিভ ব্যায়াম করতে হবে। এর পর ডায়েটের ব্যাপারে আলোচনা করব। মাথায় একটা ঢুকিয়ে রাখতে হবে— ‘ডায়েট মানে না খাওয়া নয়’। ডায়েট মানে কী খাওয়া আর কী না খাওয়া।

‘কোট’: জীবনে যে কোনও জিনিস অ্যাচিভ করতে গেলে একটু কষ্ট, একটু স্যাক্রিফাইস যেমন করতে হয়, ঠিক তেমনই ড্রিম ফিগার করতে গেলে একটু স্বপ্ন দেখতে হয় আর কিছুটা ঘাম ঝরিয়ে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে হয়।’’

পাঠক-পাঠিকারা এবার আপনারা মন শক্ত করুন। হাঁটা শুরু করে দিন। আমি পরের সপ্তাহে পুরো ডায়েট রেজিমেন বলে দেব। এবারে আপনার পুজোর প্রমিস ‘ড্রিম ফিগার’। 

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -