SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali

লাইব্রেরি এবং ইনফরমেশন সায়েন্স-এ কোথায় চাকরি? কীভাবে?

মে ১২, ২০১৬
Share it on
ম্যানুয়াল ক্যাটালগ ঘেঁটে বই খোঁজার দিন শেষ। তার জায়গায় তৈরি হয়েছে ই-ক্যাটালগ। লাইব্রেরিয়ান, ইনফরমেশন অফিসার, ইনফরমেশন অ্যানালিস্ট, ডকুমেন্টেশন অফিসার-এর কদর দিন দিন বেড়েই চলেছে।

যে কোনও বইয়ের খোঁজে বড় লাইব্রেরিতে গেলে এখন আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় না । লাইব্রেরিয়ান কম্পিউটার দেখে চট করে বইয়ের হদিশ দিয়ে দিতে পারেন। ম্যানুয়াল ক্যাটালগ ঘেঁটে বই খোঁজার দিন শেষ। তার জায়গায় তৈরি হয়েছে ই-ক্যাটালগ। লাইব্রেরিয়ান, ইনফরমেশন অফিসার, ইনফরমেশন অ্যানালিস্ট, ডকুমেন্টেশন অফিসার-এর কদর দিন দিন বেড়েই চলেছে।

কারা আসতে পারেন এই পেশায়

বি.এ., বি.এ.সি, বি.কম. নিয়ে অর্নাস এবং পাস গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টরা ব্যাচেলার অফ লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স নিয়ে পড়তে পারেন। আবার মাস্টার ডিগ্রি বা টেকনিকাল বিষয়ে স্নাতকরাও (10+2+4 অথবা 10+2+5), যেমন মেডিক্যাল সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আইন নিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীরা এই কোর্সে ভর্তি হতে পারেন।

কোথায় কোথায় পড়ানো হয়

BLIS (ব্যাচেলর অফ লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স) এবং MLIS (মাস্টার অফ লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স) পশ্চিবঙ্গের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। কলকাতা, যাদবপুর, কল্যাণী, বর্ধমান, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রভারতী, উত্তরবঙ্গ এবং নেতাজী সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ আছে। এছাড়াও IGNOU (ইন্দিয়া গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)-এর মাধ্যমেও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

স্নাতক স্তরে কী রকম নম্বর থাকতে হয়

মোটামুটিভাবে স্নাতক স্তরে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হয়। তবে কোনও কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স গ্র্যাজুয়েটদের অনার্স পেপারে ৪৫ শতাংশ এবং পাশ গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে এগ্রিগেটে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকা প্রয়োজন। আবার যারা CLIS (সার্টিফিকেট ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স) পাশ করেছেন, তাঁদের স্নাতক হওয়ার পাশাপাশি CLIS-এ ৬০ শতাংশ নম্বর থাকতেই হবে (তফসিলি জাতি/উপজাতির ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ)। যাদবপুর, রবীন্দ্রভারতী, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় BLIS-এ ভর্তির সময়ে এটা গ্রাহ্য হয়।

CLIS

বেঙ্গল লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশনে পড়ানো হয় । সামার সেশন (March-August) এবং উইকএন্ড সেশন (November-August) । সামার সেশন ছয় মাসের আর উইকএন্ড সেশন দশ মাসের । দু’টি কোর্সেই ৬৫ জন ছাত্রছাত্রী পড়ার সুযোগ পান । কোর্স ফি মোটামুটি ৩,৫৭৫ টাকা । এছাড়া বাণীপুরে ছয়মাসের CLIB কোর্স পড়ানো হয় ।

অ্যাডমিশন টেস্ট/সিট কোথায়, কত  

ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস নাগাদ অ্যাডমিশনের নোটিফিকেশন হয়। সাধারণত জুলাই মাসে সেশন শুরু হয় । সব বিশ্ববিদ্যালয়েই যে অ্যাডমিশন টেস্টের মাধ্যমে ভর্তি হতে হবে, তা কিন্তু নয়।

BLIS    

সব বিশ্ববিদ্যালয়ই BLIS এক বছরের কোর্স। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১০টি, রবীন্দ্রভারতীতে ৪০টি আসন রয়েছে। ২টি সেমিস্টারে এক বছরের কোর্স পড়ানো হয় যাদবপুর (৬০টি), বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় (৬৫টি), বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় (৩৫টি), উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় (৫৬টি) এবং কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে (৩০টি)। নেতাজী সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটিতে এক বছরের কোর্সে বিভিন্ন স্টাডি সেন্টারে এক হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনার সুযোগ পান।

কলকাতা, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় BLIS কোর্সে অনার্স গ্র্যাজুয়েটের পাশাপাশি অ্যাডমিশন টেস্টে বসতে হয়। অ্যাডমিশন টেস্টে জেনারেল ইন্টেলিজেন্স, টেস্ট অফ রিজনিং, জেনারেল নলেজ, মাধ্যমিক স্তরের অঙ্ক, ইংরেজি এবং বেসিক কম্পিউটার নলেজের উপরে প্রশ্ন থাকে। বাকি সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে অনার্স গ্র্যাজুয়েটের প্রাপ্ত নম্বর অনুসারে মেরিট লিস্ট করা হয়।

MLIS

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেতাজী সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটিতে MLIS দুই বছরের কোর্স হলেও বাকি সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় MLIS এক বছরের জন্য পড়ানো হয় । কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪টি (৪টি সেমিস্টার), যাদবপুরে ১৬টি (২টি সেমিস্টার), বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ১৫টি (২টি সেমিস্টার),  বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় ১৫টি (২টি সেমিস্টার), রবীন্দ্রভারতীতে ১০টি, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ৪০টি (২টি সেমিস্টার) এবং কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫টি (২টি সেমিস্টার) আসন রয়েছে। নেতাজী সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটির মাধ্যমে ২০০-রও বেশি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনার সুযোগ পান।

যাদবপুরে ডিজিটাল লাইব্রেরি নিয়ে দু’বছরের মাস্টার ডিগ্রি করার সুযোগ রয়েছে। BLIS  পাশ করা ছাত্রছাত্রীরা অ্যাডমিশন টেস্টের মাধ্যমে এই কোর্সে ভর্তি হতে পারেন।

MPHIL

কলকাতা এবং বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’বছরে এমফিল করার সুযোগ রয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে ১৫টি এবং বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ১০টি আসন আছে ।

পড়ার খরচ

কলকাতা, যাদবপুর, রবীন্দ্রভারতী প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ে BLIS পড়তে মোটামুটি খরচ ৮০০-১০০০ টাকার মধ্যে । MLIS-এর খরচ ১,৫০০ টাকার মধ্যে । তবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ৪টি সেমিস্টারে ডিজিটাল লাইব্রেরি নিয়ে দু’বছরের মাস্টার ডিগ্রি অর্থাৎ MLIS (DL) পড়তে সেমিস্টার পিছু খরচ প্রায় ৩,০০০ টাকা ।

BLIS-এ কী কী পড়ানো হয়

BLIS-এ ন’টি পেপার পড়ানো হয় ।
১) লাইব্রেরি, ইনফরমেশন অ্যান্ড সোসাইটি অর্থাৎ গ্রন্থাগার, তথ্য এবং সমাজ, (Theory)।
২) লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট অর্থাৎ গ্রন্থাগার প্রশাসন, (Theory)।
৩) লাইব্রেরি ক্লাসিফিকেশন থিওরি অর্থাৎ গ্রন্থাগারে গ্রন্থ বর্গীকরণ।  
৪) লাইব্রেরি ক্লাসিফিকেশন প্র্যাক্টিস।
৫) লাইব্রেরি ক্যাটালগিং থিওরি (সূচিকরণ তত্ত্ব)।
৬) লাইব্রেরি ক্যাটালগিং প্র্যাক্টিস।  
৭) ইনফরমেশন সোর্সেস অ্যান্ড সার্ভিসেস (Theory)।
৮) ইনফরমেশন সোর্সেস অ্যান্ড সার্ভিসেস (প্র্যাক্টিস)
৯) ক) কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স (Theory)
খ) কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স (প্র্যাক্টিস)

MLIS-এ স্পেশাল পেপার

বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে MLIS-এ Dissertation Paper রয়েছে। তবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়তে মাস্টারস্‌-এ থার্ড সেমিস্টারে পঞ্চম পেপারের অপশনাল পেপার (থিওরি)। এর মধ্যে যে কোনও একটি বিষয় কেউ নির্বাচন করতে পারেন ।
১) প্রিজারভেশন অ্যান্ড কনজারভেশন অফ লাইব্রেরি মেটেরিয়ালস
২) কমপারেটিভ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল লাইব্রেরিয়ানশিপ
৩) ম্যানুস্ক্রিপট অ্যান্ড আর্কাইভাল মেটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
৪) ডকুমেন্ট প্রোডাকশন প্রসেস অ্যান্ড প্রিন্টেড ডকুমেন্ট
৫) ইনডাস্ট্রিয়াল  লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম
৬) এগ্রিকালচারাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস
৭) ইউজার এডুকেশন অ্যান্ড ইউজার স্টাডিস
৮) লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স এডুকেশন
৯) কমিউনিটি ইনফরমেশন সার্ভিসেস
১০) ইনফরমেটিকস্‌

MCA-এ পাশ করে সুযোগ

লাইব্রেরিয়ান হতে গেলে BLIS অথবা MLIS প্রোফেশনাল কোর্স পড়তে হয়। এখানে যে কোনও স্ট্রিম থেকেই আসা যায়। কিন্তু MCA পড়তে গেলে বেসিক সায়েন্স থাকতে হবে। এখন কর্পোরেট সেক্টরগুলিতে লাইব্রেরিয়ান পদের নাম হয়েছে ইনফরমেশন অফিসার, ইনফরমেশন অ্যানালিস্ট, ডকুমেন্টেশন অফিসার। সেখানে একজন কেবলমাত্র লাইব্রেরি সায়েন্স প্রফেশনাল আর একজন লাইব্রেরি সায়েন্স + MCA পাশ করা থাকলে দ্বিতীয়জনের গুরুত্ব বেশি । কর্পোরেট সেক্টর ছাড়াও বর্তমানে লাইব্রেরি সায়েন্স-এর মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়টা এমনভাবে প্রাধান্য বিস্তার করেছে যে, অনেক জায়গায় লাইব্রেরিয়ান পদে BLIS / MLIS ছাড়াও কম্পিউটার সায়েন্স-এর কোনও ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হচ্ছে ।

সরকারি চাকরির সুযোগ কী কী
• স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল সার্ভিস কমিশন বা কলেজ সার্ভিস কমিশন দিয়ে লাইব্রেরিয়ান পদে আসা যায়। স্কুলের ক্ষেত্রে এর যোগ্যতা গ্র্যাজুয়েশন + BLIS। আর কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে NET বা SET দিয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট লাইব্রেরিয়ান পদে যোগ দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে অবশ্যই MLIS-এ ৫৫ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে।

• সরকারি সংস্থা – যেমন, সাহিত্য অ্যাকাডেমি, NSD, ললিত কলা অ্যাকাডেমি, ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম প্রভৃতি জায়গায় নিয়োগের জন্য এমপ্লয়মেন্ট নিউজ-এ বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এছাড়াও এই সমস্ত সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইটেও নোটিফিকেশন হয়। সংসদ এবং বিধানসভার লাইব্রেরির ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ রয়েছে।

• পশ্চিমবঙ্গের পাবলিক লাইব্রেরিগুলিতে লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ হয় PSC-র মাধ্যমে। রুরাল লাইব্রেরিগুলিতে লাইব্রেরিয়ান পদের যোগ্যতা CLIB / CLIS এবং সাব-ডিভিশনাল লাইব্রেরি এবং ডিস্ট্রিক্ট লাইব্রেরির ক্ষেত্রে লাইব্রেরিয়ান পদের যোগ্যতার জন্য BLIS জরুরি।

• ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে নিয়োগ হয় UPSC বা স্টাফ সিলেকশন কমিশনের মাধ্যমে।

অন্যান্য সুযোগ

লাইব্রেরি সায়েন্স পড়ে পাবলিশিং হাউজে যুক্ত হওয়া যায় অ্যাকাডেমিক মার্কেটিং অফিসার হিসাবে। এক্ষেত্রে একজন লাইব্রেরি প্রফেশনাল অ্যাকাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশনা প্রোমোট করতে পারেন। আবার মিউজিয়াম, বিভিন্ন আর্কাইভে কিউরেটর, আর্কাইভিস্ট হিসাবে কাজ করতে এই ডিগ্রি সাহায্য করে।

লাইব্রেরিয়ান-এর কাজ

সঠিক বই/ পত্রিকা/ ম্যাগাজিন প্রভৃতি সঠিক সময়ে যোগ্য পাঠকের হাতে তুলে দেওয়া । পাঠকের মানসিকতা বুঝে তার মধ্যে ভালো বই পড়ার আগ্রহ জাগিয়ে তোলা বা তাকে ভালো বই পড়তে উৎসাহিত করাও লাইব্রেরিয়ানের কাজ ।

শেষ কথা  

মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক মানুষের সময়ের মূল্য রয়েছে। সুতরাং যাঁরা লাইব্রেরিয়ান প্রফেশনাল-এর কাছে সাহায্য চাইতে আসেন, তাঁদের চাহিদা সঠিকভাবে জেনে নিয়ে যতটা সম্ভব কম সময়ের মধ্যে তাঁদের সন্তুষ্ট করাই লাইব্রেরিয়ান-এর কাজ। একটি লাইব্রেরিতে যে সমস্ত তথ্য থাকবে, এমন নয়। কিন্তু পাঠকের প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়া গেলেও কোথা থেকে তা পাওয়া যাবে, তার হদিশ দেওয়া এবং গাইড করা লাইব্রেরিয়ানের কাজ। লাইব্রেরিয়ানকে হতে হবে ধৈর্যশীল এবং পজিটিভ মাইন্ডেড । জনগণের সেবা করা – এই মানসিকতা যারা মাথায় রাখবেন, তাদেরই এই পেশায় আসা উচিত ।  

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -