SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali

লেখার কথা: ‘‘বেশ করেছি বিজ্ঞাপন করেছি, করবই তো’’

জুলাই ৬, ২০১৮
Share it on
নিন্দুকেরা মনে করতেই পারেন, বিপণনের এই যুগে শ্রীলেখার এ এক ফন্দি, লেখার অছিলায় খাতার বিজ্ঞাপন করা। তাতে আর কী বা যায় আসে, আমার আপনার!

এখনও বাজারে বেরোয়নি। খুব শিগগির বেরোবে, এই আশা রাখি। ‘লেখার কথা’-কেই তাই বেছে নিলাম প্রচার মাধ্যম হিসেবে। নিন্দুকেরা মনে করতেই পারেন, বিপণনের এই যুগে শ্রীলেখার এ এক ফন্দি, লেখার অছিলায় খাতার বিজ্ঞাপন করা। তাতে আর কী বা যায় আসে, আমার আপনার!  যাদের সত্যিই যায় আসতে পারে, এবার আসি তাঁদের কথায়। 

একান্নবর্তী পরিবার থেকে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি, এখন তো আবার একা থাকার চল। সমাজের এমন অবস্থায় কোথায় যায় বলুন তো পরিবারের বুড়ো-বুড়িগুলো? আমাদের কী কিছুই করার নেই তাঁদের জন্য?

আমার ফেসবুকে যাঁরা আছেন, তাঁরা হয় তো দেখেছেন যে বেশ কয়েকজন বয়স্ক মহিলা-পুরুষকে নিয়ে একটি বাংলা ফ্যাশন ক্যালেন্ডার/ কফি টেবিল-বুক করা হয়েছে, যার মেকিং-টা ইতিমধ্যেই ফেসবুকে আপলোড করেছি। নাম ‘বে-উম্‌রা’ (Bae-Umra), অর্থাৎ, ‘এজলেস’। বাংলায় বলতে গেলে, যার কোনও বয়স নেই, চিরকালীন। এখানে আমাদের মডেল পঁয়ষট্টি-ষাটোর্ধ কিছু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, যাঁদের মধ্যে অনেকেই পথেঘাটে ভিক্ষা করেন, বা পরিবার থেকে বিতাড়িত, বা মানসিক ভারসাম্যহীন। এঁদের মধ্যে মহিলারা থাকেন ‘ঈশ্বর সংকল্প’ নামে এক হোমে।

শ্যুটিং চলাকালীন অদ্ভুত কিছু গল্প শুনেছিলাম এই মানুষগুলি সম্পর্কে। এক বৃদ্ধা বহু বছর নিজের মুখ দেখেননি আয়নায়। কারণ, কোনও এক এক সময় তাঁকে নাকি বলা হয়েছিল ‘তুমি কুৎসিৎ’। আবার কারও জীবন চেনা-পরিচিত সিরিয়াল-সিনেমার মতো। ছেলেকে মানুষ করার পরে, যোগ্য হয়ে সে পাড়ি দিয়েছে আমেরিকায়। মায়ের কথা সে আর ভাবে না। অন্য দিকে, বাড়ি থেকেও বিতাড়িত হন বৃদ্ধা। তাই ঠিকানা এখন হোমেই। 

শিউরে উঠি সমাজের এই প্রতিচ্ছবি দেখে। আর মনে মনে পণ করি, শেষ বয়সে যেন কারোর উপরে আর্থিক বা অন্য কোনও সাহায্যের জন্য নির্ভরশীল হতে না হয়। বাবা-মায়েরা শুনছেন? ছেলেমেয়েদের বড় করুন, মানুষ করুন। কিন্তু, নিজেদের ভবিষ্যৎটা যেন গোচরে থাকে। 

এই কাজে ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পল, বাংলা ব্যন্ড ‘ক্যাকটাস’-এর সিধু, বাচিক শিল্পী সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের মতো অনেক বিশিষ্ট মানুষ এগিয়ে এসেছিলেন আমাদের সহযোগিতায়। নাহ! আর্থিক সাহায্য নয়। তবে পাশে পেয়েছি তাঁদের।

গ্যাঁটের পয়সা খরচ করে মানুষের সেবা করাটা কিছুটা সম্ভব। কিন্তু পথটা যদি দুর্গম আর দীর্ঘ হয়, সে ক্ষেত্রে পকেটে তো টান পড়েই। তাই এই প্রচেষ্টা। ‘বুক বাডি’ নামক এই খাতাটা, আপনাদের পাড়ার স্টেশনারি দোকানে আসছে আর কয়েক দিন পরেই। এটি কিনলে, দামের একাংশ যাবে অসহায় মানুষগুলির পাশে দাঁড়ানোর কাজে।

আমার লেখার মাধ্যমে, ঠাকুমা-দিদিমা-দাদুদের ফোকলা মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব হলে, মন্দ কী! বেশ করেছি বিজ্ঞাপন করেছি, করবই তো!

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -