SEND FEEDBACK

ফিটমন্ত্র: ফ্ল্যাট অ্যাবস পেতে মেনে চলুন মেদ কমানোর এই ডায়েট

জুন ১, ২০১৭
Share it on
বিশাল মোটা চেহারায় সিক্স প্যাকস তৈরি করা যেমন অসম্ভব, ঠিক তেমনই অসম্ভব মোটা চেহারায় শুধু পেটের ব্যায়াম করে ফ্ল্যাট অ্যাবস তৈরি করা। তাই আগের ব্লগে লেখা ব্যায়ামের সঙ্গে সঙ্গে ডায়েট শুরু করতে হবে।

আমি আমার আগের দুটো ব্লগে মানুষের চেহারার তিন রকমের ধাঁচের কথা বলেছিলাম। গতবারের ব্লগে যাঁরা ওবেস চেহারার অধিকারী, তাঁরা কীভাবে প্রথমে সিক্স প্যাকস না হলেও অন্তত ফ্ল্যাট অ্যাবসের অধিকারী হবেন, সেই ব্যাপারে বিশদ আলোচনা করেছিলাম। আলোচনাটা শুধুমাত্র দেহের ওজন কমানোর দিকেই ফোকাসড ছিল। 

বিশাল মোটা চেহারায় সিক্স প্যাকস তৈরি করা যেমন অসম্ভব, ঠিক তেমনই অসম্ভব মোটা চেহারায় শুধু পেটের ব্যায়াম করে ফ্ল্যাট অ্যাবস তৈরি করা। মোদ্দা কথা, হাইটের সঙ্গে বডিওয়েটের সমতা আনার পরেই অ্যাবসের কথা চিন্তা করতে হবে।

আমি বরাবরই বলে থাকি, যে ফিটনেস= ৭০% ডায়েট + ৩০% এক্সারসাইজ

সুতরাং, এবার আগের ব্লগে লেখা ব্যায়ামের সঙ্গে সঙ্গে ডায়েট শুরু করতে হবে— সিক্স প্যাকস অ্যাবস ক্রেজ পর্ব ২

আমার মতে ‘‘ডায়েট মানে কিন্তু না খাওয়া নয়, কী খাওয়া এবং কী না খাওয়া।’’ 

না খেয়ে দেহের ওজন কমানো মোটেই বিজ্ঞানসম্মত নয়। না খেলে কতটা ওজন কমবে, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। তা ছাড়া ‘আ ম্যান ইজ অ্যাংরি, হোয়েন হি ইজ হাংরি!’ সুতরাং আমি যা ডায়েট বলছি, যতটা সম্ভব ফলো করার চেষ্টা করুন এবং দু’মাসের মধ্যেই অন্তত ১০ কেজি কমিয়ে ফেলুন। তার সঙ্গে আগের ব্লগে লেখা কার্ডিও ব্যায়াম অবশ্যই চালু রাখবেন। 

১. ঘুম থেকে উঠে ১ গ্লাস হালকা গরম জলে একফালি পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেয়ে নিন। একটু পরে গ্রিন টি-র সঙ্গে একটা বিস্কুট। 

২. যাঁরা অফিস যান তাঁরা ওটস দুধ না মিশিয়ে, খিচুড়ি করে খাবেন অথবা ডালিয়া বা কর্নফ্লেকস খেতে পারেন। যে সব ছাত্রদের স্কুল ছুটি কিংবা পরীক্ষা শেষ, বাড়িতে বসা, তারাও এগুলোই খাবে। 

৩. যাঁরা অফিসে যান, তাঁরা মাঝখানে লিকার চা ও একটা বিস্কুট আর যারা স্টুডেন্ট তারা একটা শশা/পেয়ারা/আপেল খেতে পারো। 

৪. অফিসে বাড়ি থেকে লাঞ্চ নিয়ে গেলে সবচেয়ে ভাল। দুটো রুটি, একবাটি সবজি, ডাল এবং মাছ। আর সঙ্গে উপরে লেখা যে কোনও একটা ফল। স্টুডেন্টরা যারা বাড়িতে লাঞ্চ করবে, তারা ৫০ গ্রাম চালের ভাত খাবে। সবজি দিয়ে ডাল, একটা গ্রিন ভেজিটেবিল আর মাছ। 

৫. অফিসে টিফিনে খেতে পারেন স্প্রাউটস, ছোলার চাট, শুকনো খোলায় বালিতে ভাজা চিঁড়ে ও অল্প মুড়ি। ছাত্ররাও স্প্রাউটস, ছোলার চাট ও হাই-ফাইবার ডাইজেসটিভ বিস্কুট খেতে পারো। ছাত্রদের অনেকেরই টিউশনের জন্য আর খাওয়াই হয় না লাঞ্চের পরে। এটা কিন্তু শরীরের পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকারক। ব্যাগে সব সময় এই শুকনো খাবার রেখে দেবে। চান্স বুঝে গ্যাপ দিয়ে খেতে থাকবে। 

৬. অফিসযাত্রীদের ক্ষেত্রে বাড়ি ফিরে যদি খুব খিদে পায়, তা হলে হালকা সুজির উপমা কিংবা ব্রাউন ব্রেড স্যান্ডউইচ (কোনও স্প্রেড ব্যবহার না করে শশা, টম্যাটো, পেঁয়াজ ইত্যাদি দিয়ে) খাওয়া যেতে পারে। লিকার চা ও তার সঙ্গে দুটো সুগার ফ্রি বিস্কুট কিংবা ডাইজেস্টিভ বিস্কুট খেতে পারেন।  

৭. অফিসযাত্রীরা ডিনারে খাবেন দুটো রুটি কিংবা ৪০ গ্রাম চালের ভাত, ডাল, সবজি এবং স্যালাড। চিকেন কিংবা মাছ চলতে পারে দু’পিস। ডিনারে একদিন যদি রুটি কিংবা ভাত হয়, তা হলে পরের দিন অর্থাৎ অল্টারনেট দিনে দু’পিস চিকেন, অনেকটা সবজি দিয়ে বড় বাটিতে স্যুপ— ভেজটেবিল স্যুপ (সয়াবিন দিয়ে) চলতে পারে। তার সঙ্গে এক প্লেট স্যালাড কিংবা রায়তা। 

আরও পড়ুন

সিক্স প্যাকস অ্যাবস কীভাবে বানাবে, পর্ব ১

ফিটমন্ত্র: সিক্স প্যাকস অ্যাবস ক্রেজ পর্ব ২

পড়ুয়াদের জন্যেও অলটারনেট ভাবে উপরে লেখা ডিনার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। 

এই রকম ডায়েট করতে গেলে কিন্তু নিয়ম মেনে খেতে হবে— গ্যাপ দেওয়া যাবে না কখনই। তা হলে কিন্তু শরীরের সিস্টেমটা বেঁকে বসবে। আর বডিওয়েট কমানো যাবে না। 

যদি আপনাদের এটা ফলো করতে কোনও অসুবিধে হয়, তা হলে আমার ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে সব সময় জিজ্ঞাসা করতে পারেন। 

পুজোর মধ্যে আপনাদের দর্শনধারী করাই আমার লক্ষ্য— গুরুপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় 

‘‘স্বপ্ন না দেখলে স্বপ্ন পূরণ হয় না।’’ আসুন আমাদের লক্ষ্যে এগিয়ে চলি...

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -